Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাংলা সিনেমার কলাকুশলীরা রাজনীতির মঞ্চে অভিনয়ে মগ্ন?‌ দর্শক টানতে ব্যর্থ বাংলা ছবি! বন্ধ দুই আইকনিক প্রেক্ষাগৃহ বিনোদিনী-প্রিয়া

বিধানসভা ভোটে প্রার্থী তালিকায় চলচিত্র তারকার ভিড়!‌ ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল ও বিজেপিতে টিকিট পাচ্ছেন একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রী? এদিকে বাংলা চলচিত্রের হালত খারাপের দিকে ধাবিত। বাজারে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বর্তমানে বাংলা সিনেমার যা অবস্থা বিনোদিনী থিয়েটারের পথে হাঁটতে পারেন দক্ষিণ কলকাতার আরও দু’টি সিনেমা হল মালিক। হল মালিকদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে এক চমকপ্রদ তথ্য। সাম্প্রতিক কালের একটি বাংলা সিনেমায় ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শোতে দর্শক হয়েছিল হাতেগুনে জনা পঁয়ত্রিশ। পরের শোতে মাত্র একজন ছিলেন হলে। নিয়ম হয়েছে, হিন্দি ছবি যত থাকুক আগে বাংলা ছবিকে হলে জায়গা দিতে হবে। প্রত্যেক দিন প্রাইমটাইমে, অর্থাৎ দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যায়, অন্তত একটি করে শো দিতেই হবে বাংলা ছবিকে। সেই তখন যথেষ্ট সংখ্যক বাংলা ছবি থাকুক বা না থাকুক। সেই নিয়ম মেনে প্রাইমটাইমে বাংলা ছবি চালাতে গিয়েই মাথায় হাত হল মালিকদের। এই মুহূর্তে যে সব বাংলা ছবি চলছে তা দেখতে হলে আসছেন না কেউই।

টিকিট পেতে উঠেপড়ে লেগেছেন অভিনেতা অভিনেত্রীরা। রাজনৈতিক দলগুলিও ফায়দা নিতে মরিয়া। এবার তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় এবারও বারাকপুর কেন্দ্র থেকেই টিকিট রাজ চক্রবর্তীর। ছবি নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও, বিধায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালনে কোনও অবহেলা করেননি। এলাকায় জনসংযোগ রক্ষা থেকে উন্নয়ন। কিছুতেই খামতি রাখেন না। সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের কথা তুলে ধরা ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’র বিপুল সাফল্য যে তাঁর বিধায়কের টিকিট লাভের লড়াই খানিকটা মসৃণ করতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। শাসক শিবিরের ‘গুড বুকে’ তারকা বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘাসফুল শিবিরে যোগ এবং বিধায়ক হওয়ার পর থেকে লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন থেকে বেশ দূরে। আপাতত পুরোদমে নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষদের পরিষেবা দিতেই ব্যস্ত। ভালো কাজের পুরস্কার হিসাবে সায়ন্তিকাও ফের বরানগর থেকে টিকিট অভিনেত্রীর জন্য। সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্র এলাকায় কাজ করেননি তা নয়। তবে ক্ষোভও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি আদৌ টিকিট পাবেন কিনা, তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে টিকিট দেওয়া নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই তিনি দেওয়াল লিখন শুরু করেছিলেন। যা নিয়ে বিতর্কও বেশ মাথাচাড়া দেয়। পরে যদিও চাপের মুখে চুনকাম করে দেওয়াল লিখন মুছে ফেলেন তারকা বিধায়ক। ভোটের বাংলায় এমনিতেই হাইভোল্টেজ মেদিনীপুর। বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী টিকিট পেতে পারেন। আবার কেন্দ্র বদলও হতে পারে। সদ্য মা হওয়া অদিতি মুন্সিও নাকি এবার বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পেলেও খুদের দায়িত্ব সামলে তিনি আদৌ ভোটে দাঁড়াতে চাইবেন কিনা, তা এখনও জানা যায়নি। যদি অদিতি প্রার্থী হতে না চান, তবে সম্ভবত তাঁর স্বামী দেবরাজকে দেওয়া হতে পারে টিকিট। হুগলির উত্তরপাড়ার বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা নাকি অত্যন্ত ক্ষীণ। অনেকেই বলছেন, বিধায়ক হলেও রাজনৈতিক ময়দানে নাকি তেমন দেখা যায় না তাঁকে। পরিবর্তে ব্যক্তিগত জীবন এবং অভিনয় নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন কাঞ্চন। ইতিপূর্বে বহুবার তাঁর নামে ওই এলাকায় ‘নিখোঁজ’ পোস্টারও দিয়েছেন স্থানীয়রা। সম্ভবত সে ক্ষোভ সামাল দিতে এবার আর ভোটে টিকিট না-ও পেতে পারেন।

এদিকে, বিজেপি দলে এবার রুদ্রনীল ঘোষকেও ভোটে দাঁড় করাতে পারে বিজেপি। বিজেপির কাছে এবারের ভোট ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের মতো। কারণ, অতীতের একের পর এক নির্বাচনে মোটেও ভালো ফল করতে পারেনি বিজেপি। একে তো দক্ষ সংগঠকের অভাব। আবার তার উপর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। দু’য়ে মিলে বঙ্গ বিজেপির অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গীণ। এই পরিস্থিতিতে পদ্মশিবিরের প্রার্থী কারা হচ্ছেন, তা নিয়েও জল্পনার শেষ নেই। শোনা যাচ্ছে, এবারও অগ্নিমিত্রা পলের উপর ভরসা রাখতে পারে গেরুয়া শিবির। যদিও নিজের বিধানসভা এলাকায় সম্প্রতি ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হয়েছে। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকেই তিনি ভোটে লড়ার সুযোগ পাবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। রাজ্যসভার প্রার্থী হতে পারেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। না হলে বিধানসভা ভোটের নাকি প্রার্থীর দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে প্রাক্তন টলিতারকা। বিধায়ক হলেও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। একে তো তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। আবার তার উপর ‘শাহী’ টনিকে দিলীপ ঘোষের পুনরুত্থানে হিরণের জমি খানিকটা আলগা হয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক কারবারিদের। এবার টেলি দুনিয়ার অতি পরিচিত এক মুখও ঘাসফুল শিবিরের টিকিট পেতে পারেন। তালিকায় আর কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অথচ এই মুহূর্তে যে সমস্ত বাংলা সিনেমা চলছে, তা দর্শকদের মনে দাগ কাটেনি খুব একটা। সিনেমা হলে মাছি তাড়াতে হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ কর্মীদের। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে যে সমস্ত বাংলা সিনেমা চলছে, তা দর্শকদের মনে দাগ কাটেনি খুব একটা। সিনেমা হলে মাছি তাড়াতে হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ কর্মীদের। শো চালু হলে দেখা যাচ্ছে মেরেকেটে দু’-পাঁচজন বসে। সবদিক বিবেচনা করে তাই প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর আজ, বৃহস্পতিবারও বন্ধ থাকবে বিনোদিনী থিয়েটার। এই মুহূর্তে মিনার-এ চলছে মাত্র দু’টি করে শো। হল মালিকরা বলছেন, দর্শক সংখ্যা যা হচ্ছে, এর চেয়ে বেশি শো চালানো অসম্ভব। সিনেমা হলে মেরেকেটে হাতে গোনা জনা পাঁচেক। টিকিটের টাকা বিক্রি করে উঠছে না ইলেকট্রিক বিলের খরচও। দু’দিন ধরে বন্ধ শহরের কিংবদন্তি অভিনেত্রী নটী বিনোদিনীর নামাঙ্কিত সিনেমা হল। তবে কি দর্শক টানতে ব্যর্থ সাম্প্রতিককালের বাংলা চলচ্চিত্র? অন্তত তেমনই প্রমাণ দিচ্ছে শহরের উত্তর এবং দক্ষিণ দুই প্রান্তের দুই প্রেক্ষাগৃহ। স্টার থিয়েটার যেমন দু’দিন ধরে বন্ধ, বুধবার বন্ধ ছিল দক্ষিণ কলকাতার প্রিয়া সিনেমা হলও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles