মূল দুই অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত এখনও পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃতদের জেরা করে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন পুলিশ আধিকারিকরা। হাওড়ায় প্রোমোটার খুনে গ্রেপ্তার ৩। খুনের ঘটনায় হাওড়ার তৃণমূল নেতা গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। হাড়হিম হত্যাকাণ্ডে বুধবার রাতে তল্লাশি চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ (১) অর্থাৎ খুন, ২৩৮ (এ)/ ৩(৫) অর্থাৎ তথ্য প্রমাণ লোপাট, মূল দোষীদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করা ও আগ্নেয়াস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল দুই অভিযুক্ত সেখানে হারুন ও রোহিত এখনও পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃতদের জেরা করে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন পুলিশ আধিকারিকরা। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত সাংবাদিক ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী। মারধরের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একই উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া, আঘাত করা-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় হাওড়ার তৃণমূল নেতা গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। একটি মিছিলে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করছে একাধিক সূত্র। তৃণমূল নেতার দাবি, হারুন তাঁর ঘনিষ্ঠ নন। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। বুধবার সকালে হাওড়ায় গোলবাড়ির পিলখানা এলাকায় প্রোমোটার শফিক খানকে ভরা রাস্তায় গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে হারুন ও রোহিত নামে ২ দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে শফিকের মাথা ও বুকে মোট ৪ রাউন্ড গুলি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন যুবক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শফিকের। এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে সেই হাড়হিম করা দৃশ্য।
হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পিলখানা রোডে গুলি করা খুন করা হয়েছে ২৭ বছর বয়সী প্রোমোটার সফিক খানকে। বুধবার ভোররাতে ঘটে এই ঘটনা। এরপর থেকেই চাঞ্চল্য রয়েছে এলাকায়। আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা। ওই এলাকা হাওড়া উত্তরের বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। বিজেপি একটি ভিডিও শেয়ার করেছে যেখানে এই বিধায়কের বাইকে দেখা গিয়েছে সফিককে খুন করার পিছনে অন্যতম অভিযুক্ত হারুন খানকে। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিধায়কের সঙ্গে থাকলেই সাত খুন মাফ! আপনি যতই ধর্ষণ করুন, গুলি করে কাউকে হত্যা করুন, পুলিশ আপনাকে দেখতে পাবে না। বিধায়কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেই তো দুই অভিযুক্ত শুটআউট করতে পারল! আপনি করতে পারবেন নাকি! বন্দুক তো দূরের কথা, একটা লাঠি নিয়ে দাঁড়ালেই পুলিশ আপনাকে ধরে নিয়ে যাবে। তখন পুলিশ সব কিছু দেখতে পাবে। কিন্তু, অপরাধীদের ক্ষেত্রে পুলিশ বলবে, দেখতে পাচ্ছি না তো। এটাই তো এখন চলছে এ রাজ্যে।” প্রমোটার খুনে অভিযুক্তদের পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়কেরও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। হাওড়ায় প্রোমোটার খুনে জোড়াসাঁকোর গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার ৩, এখনও গা ঢাকা দিয়ে মূল অভিযুক্তরা। গোলাবাড়ি থানার পুলিশ এবং হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ধৃত তিনজনকে গ্রেফতার করেছেন। ধৃতরা হলেন ৩৬ বছর বয়সি মহম্মদ বিলাল, যিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো থানার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা, ৩২ বছর বয়সি মহম্মদ ওয়াকিল বা মুন্না এবং দিলদার হোসেন, যারা বউবাজার এলাকার বাসিন্দা। ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সফিককে খুনের পরে হারুন খান ও রোহিত হোসেন জোড়াসাঁকোতে মহম্মদ বিলালের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। ধৃতদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল এই দুই পলাতক অভিযুক্তদের সঙ্গে। ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, যাতে মূল দুই অভিযুক্তদের খোঁজ পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে মূল দুই অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেনের কার্যকলাপ, পুলিশ এখনও তাঁদের গ্রেফতার করতে পারেনি। ইতিমধ্যেই হাওড়া উত্তরের বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বাইকের পিছনে বসা হারুন খানের ভিডিও এবং বিধায়কের সঙ্গে হাঁটছে এমন ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভোটের আগে প্রোমোটার খুনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক মহল থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া মিলেছে। পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।





