দোল পূর্ণিমায় অনেকের বাড়িতে বিশেষ পূজার্চনার আয়োজনও করা হয়। পুজোর আয়োজনের আগে কতক্ষণ পূর্ণিমা থাকবে তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। পূর্ণিমার পুণ্যতিথিতে পুজো না করলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি আসবে না। তবে পূজার্চনার সময় বেশ কিছু বিশেষ নিয়ম মানাও প্রয়োজন। জেনে নিন বিশেষ দিনে কী করণীয়। বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণ একসঙ্গে হোলি খেলে রঙিন হয়ে উঠেছিলেন। সেই প্রথা মেনে আজও দোল পূর্ণিমার পবিত্র তিথিতে রঙের খেলায় মেতে ওঠেন প্রায় সকলেই। হয়ে ওঠেন রঙিন। ৩ মার্চ (বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৮ ফাল্গুন) বসন্ত উৎসব অর্থাৎ দোল। হোলি সাধারণত দোলের পরদিন হয়। সুতরাং ৪ মার্চ (বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৯ ফাল্গুন) পড়েছে দোল। ২ মার্চ সন্ধ্যা ৫টা ৪২ মিনিট থেকে পূর্ণিমা শুরু হবে। পরদিন অর্থাৎ ৩ মার্চ, বিকেল ৪টে ৫৭ মিনিট পর্যন্ত পূর্ণিমা থাকবে। তার মধ্যে পূজার্চনা করা উচিত। পুজোর আয়োজন করলেন আর শ্রীবৃদ্ধি ও নিয়ম মেনে চললেও আপনার শ্রীবৃদ্ধি হতে পারে। দোলের দিন পারলে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠুন। ভালো করে স্নান করে নিন। সুযোগ পেলে গঙ্গাস্নানও করতে পারেন। এদিন বাড়ি অপরিষ্কার না রাখাই ভালো। তাই বাড়ি পরিষ্কার হওয়ার পর দরজায় স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে দিন। তাতে আপনার পরিবারের উপর থেকে অশুভ ছায়া দূর হবে। বাড়িতে সত্যনারায়ণের ব্রত পালন করতে পারেন। তাতে আপনার জীবনের সমস্ত অন্ধকার কেটে সাফল্যের দেখা মিলতে পারে খুব তাড়াতাড়ি। পারলে উপোস করে নিজে হাতে পুজোর জোগাড় করুন। দোল পূর্ণিমার দিন বাড়িতে নিরামিষ খাবার খাওয়াই ভালো। পুজোর সময় অবশ্যই বাড়িতে থাকা দেবদেবীর পায়ে আবির দিতে ভুলবেন না। পুজো হয়ে যাওয়ার পর পারলে বাড়ির আশেপাশে থাকা সকলকে প্রসাদ দিন। তাতে আপনার শ্রীবৃদ্ধি হবেই। দোলের আনন্দে মেতে ওঠার সময় অবশ্যই গোলাপি, লাল, হলুদ এবং নীল রঙের আবির ব্যবহার করুন। তাতে আপনার স্বাস্থ্য, কেরিয়ার, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি হবে। গোলাপি রঙের আবির আপনার শ্রীবৃদ্ধি করবে। দোল পূর্ণিমায় এই কাজগুলি করলে অবশ্যই আপনার শ্রীবৃদ্ধি হবে। সারা বছর আপনার বাড়িতে সুখসমৃদ্ধিও যে বজায় থাকবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
শান্তিনিকেতনে সোনাঝুরির জঙ্গলে এবারও বসন্ত উৎসব নয়, রং খেলাও যাবে না! এবারও সেই কড়া নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে বনদপ্তর। বসন্ত উৎসব ঘিরে সোনাঝুরির হাটে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। এইসময় অরণ্যের ক্ষতি , পরিবেশের ক্ষতি হয় বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সেজন্যই এবার আরও কড়াকড়ি করতে চলেছে বনদপ্তর। বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, জঙ্গলের ক্ষতি কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে জেলাশাসককে চিঠিও দিয়েছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। বোলপুরের রেঞ্জ অফিসার জ্যোতিষ বর্মণ জানিয়েছেন, এবারও জঙ্গলের মধ্যে দোল খেলা, যাবে না। গত বছরেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। এবারও সেই পথেই হাঁটছে বনদপ্তর। উপরমহলের চিঠি পেলেই নির্দেশিকা জারি হবে। শান্তিনিকেতনে দোলে সোনাঝুরিতে রঙ খেলায় নিষেধাজ্ঞার দাবি নিয়ে জেলাশাসককে চিঠি পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের। সোনাঝুরি জঙ্গলে দোল উৎসবের দিন আবির ও রঙ খেলাকে কেন্দ্র করে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সেই মর্মে জেলাশাসক ধবল জৈনকে ইমেল মারফত চিঠি দেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তাঁর অভিযোগ, সোনাঝুরির খোয়াই হাট বেআইনিভাবে বনভূমির উপর রয়েছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে দোলের দিন যাতে অরণ্যভূমিতে কোনও অরণ্য-বহির্ভূত কার্যকলাপ না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। বিশ্বভারতী বেশ কয়েক বছর ধরে বসন্ত উৎসব বন্ধ করে দিলেও দোলের দিন বিপুল জনসমাগমে জঙ্গলের ক্ষতি হয়। চারচাকা ও বাইক জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশ করে, গাছপালা নষ্ট হয়, প্লাস্টিক বর্জ্যে দূষিত হয় পরিবেশ। সুভাষ দত্ত বলেন, “সোনাঝুরির হাট সংক্রান্ত মামলা চলছে। এই অবস্থায় দোলের দিন রঙের উৎসব হতে দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই আশা করছি। অন্যথায় বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।” ২০১৯ সালে বিশ্বভারতীর বসন্তোৎসবে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছিল। তার জেরে পরিবেশ ও আশ্রম প্রাঙ্গণের সুরক্ষার স্বার্থে পরবর্তী বছর থেকে দোলের দিন বসন্তোৎসব বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বভারতী। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর ঐতিহ্য রক্ষায় এখন আর দোলের দিন ক্যাম্পাসে বসন্তোৎসব হয় না। চলতি বছর ৬ মার্চ ঘরোয়া পরিবেশে বসন্তোৎসব পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তবে ২০২০ সাল থেকে দোলের দিন সোনাঝুরি জঙ্গলে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে বলেই অভিযোগ। চিঠিতে সুভাষ দত্ত উল্লেখ করেছেন, সোনাঝুরির খোয়াই হাট নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা চলমান। এই আবহে দোলের দিন অরণ্যভূমিতে অরণ্য-বহির্ভূত কার্যকলাপ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। খোয়াই হাট কমিটির সম্পাদক তন্ময় মিত্র বলেন, “দোলের দিন আমরা কোনও উৎসবের আয়োজন করছি না। মানুষ যাতে জঙ্গলে প্রবেশ না করেন, সে বিষয়ে বন দপ্তর ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।” বনদপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশিকা এলে পালন করা হবে। তবে কোনওভাবেই সোনাঝুরি জঙ্গলে বসন্ত উৎসব এবং রং খেলার অনুমতি দেওয়া হবে না। জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, “সোনাঝুরির জঙ্গল বনদপ্তরের অধীন। তবে অবশ্যই জঙ্গলের ক্ষতি কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’’ মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘‘বোলপুর শহরে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই প্রতিবছরের মত এ বছর বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। যেহেতু বিশ্বভারতী বসন্ত উৎসব বন্ধ করেছে তাই বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অর্থনীতি জড়িয়ে। পর্যটকদের কোনও অসুবিধা হবে না। বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাঁরা দোল উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।’’





