টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলির জন্য কোনও অতিরিক্ত দিন ছিল না। সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত দিনেই খেলা হয়েছে। সুপার এইট পর্বেও বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অতিরিক্ত দিন নেই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলির জন্য কোনও ‘রিজার্ভ ডে’ বা বাড়তি দিন ছিল না। বৃষ্টির জন্য জ়িম্বাবোয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ না হওয়ায় দু’দলের মধ্যে পয়েন্ট ভাগ হয়ে যায়। তাতে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের একাধিক ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। স্বস্তির হল, একটি নিয়ম বদল করা হয়েছে এই পর্বের জন্য। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) যে প্লেয়িং কন্ডিশন রেখেছে, তাতে সুপার এইট পর্বের ম্যাচগুলির জন্যও বাড়তি দিন নেই। নির্দিষ্ট দিনেই হতে হবে খেলা। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হতে হলে, দু’দলকেই কমপক্ষে ৫ ওভার করে ব্যাট করতে হবে। তা সম্ভব না হলে সুপার ওভার হবে। যতক্ষণ না ম্যাচের ফয়সালা হচ্ছে, সুপার ওভার চলবে। বৃষ্টির জন্য সুপার ওভার সম্ভব না হলে দু’দলের মধ্যে পয়েন্ট ভাগাভাগি হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলির জন্য আইসিসি সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ রেখেছিল। যেমন, যে ম্যাচগুলি ভারতীয় সময় সন্ধে ৭টায় শুরু হচ্ছে, সেগুলি শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় রাত ১০টা ১০। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলির ক্ষেত্রে খেলা শেষ করার সর্বোচ্চ সময় ছিল রাত ১১টা ১০। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে ৫ ওভারের ম্যাচ শেষ হতে হবে। সুপার এইটে এই সময় কিছুটা বাড়িয়ে আইসিসি। সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট বা দেড় ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থাৎ রাত ১১টা ৪০-এর মধ্যে ৫ ওভারের ম্যাচ শেষ হতে হবে। সুপার এইট পর্বের ম্যাচে এ টুকুই স্বস্তি দলগুলির জন্য। পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ রয়েছে কলম্বোয়। সন্ধ্যায় কলম্বোয় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে ৫ ওভারের ম্যাচ আয়োজনও সম্ভব না হলে দু’দল এক পয়েন্ট করে পাবে।
সুপার এইটে মোট ১২টি ম্যাচ। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সুপার এইট পর্ব শুরু। চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত। ভারত এবং শ্রীলঙ্কা, দু’জায়গাতেই খেলা হবে। মোট সাতটি মাঠে এই ১২টি ম্যাচ হবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের সূচি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। আটটি দলকে দু’টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গ্রুপে চারটি করে দল। প্রতিটি দল নিজের গ্রুপের বাকি তিন দলের সঙ্গে খেলবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ স্থানে থাকা দু’টি দল সেমিফাইনালে উঠবে। সুপার এইটে মোট ১২টি ম্যাচ। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সুপার এইট পর্ব শুরু। চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত। ভারত এবং শ্রীলঙ্কা, দু’জায়গাতেই খেলা হবে। মোট সাতটি মাঠে এই ১২টি ম্যাচ হবে।
প্রথম দিন লড়াই পাকিস্তান এবং নিউ জ়িল্যান্ডের। এই ম্যাচ সন্ধ্যা ৭টা থেকে। ২২ ফেব্রুয়ারি দু’টি ম্যাচ। বিকেল ৩টে থেকে লড়াই ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার। এই দিনই প্রথম নামছে ভারত। অহমদাবাদে সূর্যকুমার যাদবের দলের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৩ ফেব্রুয়ারি মুখোমুখি জিম্বাবোয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান ম্যাচ। ২৫ ফেব্রুয়ারি লড়াই শ্রীলঙ্কা এবং নিউ জ়িল্যান্ডের। তিনটি ম্যাচই সন্ধ্যা ৭টা থেকে। সুপার এইটে ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচ ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। ভারতকে খেলতে হবে জিম্বাবোয়ের সঙ্গে। এই ম্যাচ সন্ধ্যা ৭টা থেকে। ওই দিনই বিকেল ৩টেয় মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচ। এই দু’টি ম্যাচ সন্ধ্যা ৭টায়। সুপার এইট পর্বের শেষ দিন ১ মার্চ ইডেনে ভারত মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের। ওই দিন বিকেল ৩টেয় জিম্বাবোয়ে বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ।
সুপার এইটের সূচি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচিত আইসিসি। যে ভাবে তারা প্রতিযোগিতার আগে থেকেই বিভিন্ন দলকে বাছাই করে রেখেছিল, তার জেরে সুপার এইটের গ্রুপ দু’টিতে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। সেমিফাইনালের আগেই ছিটকে যেতে হবে গ্রুপে সেরা হওয়া দু’টি দেশকে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আইসিসি আটটি দলকে আগে থেকেই বাছাই করে রেখেছিল। অর্থাৎ তারা সুপার এইটের যোগ্যতা অর্জন করলে কে কোন গ্রুপে যাবে তা ঠিক ছিল আগে থেকেই। আইসিসি নির্দিষ্ট স্লট (যেমন এ১, বি১, সি১, ডি১) ঠিক করে রেখেছিল নির্দিষ্ট দলের জন্য। ফলে সুপার এইটে গ্রুপ ১-এ যারা রয়েছে, তারা প্রত্যেকে নিজেদের গ্রুপে জিতেছে। গ্রুপ ২-এ যারা আছে, তারা প্রত্যেকে গ্রুপে রানার্স হয়েছে। ভারতের গ্রুপে প্রত্যেকে সেরা হয়েছে। ফলে সেমিফাইনালের আগে দু’টি গ্রুপ সেরা দল ছিটকে যাবে। অন্য দিকে, দ্বিতীয় হওয়া দলের কাছেও সহজেই ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বাছাই পর্বের কারণে ভাল খেলা দল আলাদা করে কোনও প্রাধান্যই পাচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের গ্রুপে জিতেছে। কিন্তু তারা বাছাই হিসাবে নিউ জ়িল্যান্ডের নীচে। ফলে সেরা আটটি দল নিশ্চিত হয়ে গেলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলি নিয়ে কারও কোনও আগ্রহই থাকে না। আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। শ্রীলঙ্কা এখনও পর্যন্ত নিজেদের দেশে খেলেছে। কিন্তু সুপার এইটের সূচি অনুযায়ী তারা সেমিফাইনালে উঠলে খেলতে হবে ভারতে। আইসিসি অবশ্য যুক্তি দিয়েছে নিজেদের মতো। তাদের দাবি, সাংগঠনিক সমস্যার কারণেই এমন করা হয়েছে। মাঠ এবং সূচি নির্দিষ্ট করতে আগে থেকে দল বাছাই করে রাখা জরুরি ছিল।





