৩৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় থাকা সিপিএম বর্তমানে শূন্যে ঠেকেছে। সেই দল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এদিন প্রতীক-উর সরাসরি বলেন, ‘উনি গব্বর সিং’। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েই যে পদক্ষেপ করেছেন, তা শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এমনকী দলত্যাগ করার কথা জানানোর পরও সেলিমের যোগাযোগ করার সময় হল না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তরুণ রাজনীতিক। এবার প্রকাশ্যে মহম্মদ সেলিম ‘ভিলেন’ বলে দিলেন প্রতীক-উর। বললেন সিপিএমের অন্দরে এখন ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গ্রেগ চ্যাপেল বলেও অভিহিত করেন সেলিমকে। আর রাহুল দ্রাবিড়ের মতো ‘ইয়েস স্যর’ বললে তবেই কাজ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, সিপিএমে এখন ‘ডর কা মহল’ তৈরি হয়েছে। সেলিমের নেতৃত্বে চলা সিপিএমে কথা বললে পদ খোয়া যায়, ‘ইয়েস স্যর’ বললে নেতা হিসেবে প্রমোট করা হয়, এমনটাও দাবি করেন প্রতীক-উর। মোগাম্বো… হিন্দি সিনেমায় যত ভিলেন আছে, সবার নাম বলা যেতে পারে।’ গ্রেগ চ্যাপেল বলেও অভিহিত করেন সেলিমকে। আর রাহুল দ্রাবিড়ের মতো ‘ইয়েস স্যর’ বললে তবেই কাজ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, সিপিএমে এখন ‘ডর কা মহল’ তৈরি হয়েছে। সেলিমের নেতৃত্বে চলা সিপিএমে কথা বললে পদ খোয়া যায়, ‘ইয়েস স্যর’ বললে নেতা হিসেবে প্রমোট করা হয়, এমনটাও দাবি করেন প্রতীক-উর। সিপিএমে কেউ নেতৃত্বের কথা না মানলে, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়। প্রতীক-উরের কথায়, “কখনও কারও হাতে মদের গ্লাস ধরিয়ে দিয়ে ছবি তোলা হয়, কখনও তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং বা বিজেপির সঙ্গে সেটিং-এর কথা প্রচার করা হয়। আমি মারা গেলে, কবর খুঁড়লেও কোনও কেস পাবেন না।” প্রতীক-উরের দাবি, তাঁর মতো অনেকেই দলীয় নেতৃত্ব তথা সেলিমের কাজে অসন্তুষ্ট, তবে প্রত্যেকের বিদ্রোহের পথ আলাদা।
প্রতীক উর রহমানের দল ছাড়ার ঘোষণা নিয়েও শোরগোল পড়েছে। তবে সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকের প্রথম দিন প্রতীক উরকে নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। প্রতীক উরের বিষয়ে উত্তরবঙ্গের এক নেতা রাজ্য কমিটির বৈঠকের প্রথম দিনে বলেন, এই নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত। দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে কি ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিয়েছে তৃণমূল সরকার? লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বাড়ানো এবং যুবসাথী প্রকল্প কি ভোটে সুবিধা পাইয়ে দেবে তৃণমূলকে? সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকের আলোচনায়ও উঠে এল এই প্রসঙ্গ। আর সেখানে কয়েকজন সিপিএম নেতার স্বীকার করলেন, রাজ্য বাজেটে যেভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটা ভোটের আগে বামেদের চাপে ফেলেছে। সিপিআইএমের দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক। সেখানে বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের বক্তব্যে উঠে আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন সরকারের বাজেটের প্রসঙ্গ। লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি নিয়ে প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল। আবার বেকারকে মাসে ১৫০০ টাকা দিতে যুব সাথী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। এপ্রিল থেকে যুব সাথী প্রকল্পে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হবে। যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম পূরণে জেলা জেলায় লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির প্রথম দিনের বৈঠকে যুব সাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেখানে একাধিক সিপিএম নেতা বলেন, যুব সাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি তাঁদের উপরে চাপ বাড়িয়েছে। তার ফলে তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে যাচ্ছে বলেও বৈঠকে কেউ কেউ মত দিয়েছেন। প্রতীক উর রহমানের দল ছাড়ার ঘোষণা নিয়েও শোরগোল পড়েছে। তবে সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকের প্রথম দিন প্রতীক উরকে নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। প্রতীক উরের বিষয়ে উত্তরবঙ্গের এক নেতা রাজ্য কমিটির বৈঠকের প্রথম দিনে বলেন, এই নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত। আবার একজন বলেছেন, গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতীক উরকে নিয়ে সিপিএমের রাজ্য কমিটির দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এক্ষেত্রে, কিছুটা সময় নিয়ে এগোতে চাইছে সিপিআইএম। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, শুক্রবার রাজ্য কমিটির বৈঠকে শেষে সাংবাদিক সম্মেলন হবে। সেখানেই যা বলার বলবেন তিনি। প্রথম দিনের বৈঠকে জেলাওয়াড়ি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজ্য কমিটির বৈঠকে বলা হয়, ৮০ শতাংশ আসন চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ জট রয়েছে শরিকদের সঙ্গে। এই জট কাটলেই প্রার্থী তালিকা তৈরি হয়ে যাবে।
দাদু পদ্মনিধি ধর ছিলেন ডোমজুড়ের তিন বারের সিপিএম বিধায়ক। কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম মুখ। বাবা পীযূষ ধর সিপিএমের শিশুফ্রন্ট ‘কিশোরবাহিনীর’ রাজ্য সম্পাদক। বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যোগ রয়েছে মা দীপিকা ঠাকুর চক্রবর্তীরও। এক কথায় গোটা পরিবারই ‘লাল ব্রিগেড’। আর সেই পরিবারের সন্তান বিতর্কের আবহে সিপিএমের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন? দীপ্সিতার দাবি, “সবাই তো বলছেন, আমি জল মাপছি। তবে এই গোটা ব্যাপারটাই আমি মজার ছলে নিয়েছি। কারণ জানি এমন কিছু ঘটছে না। প্রতীক-উরদা চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু আমি তো কোনও চিঠি দিয়েছি বলে মনে পড়ছে না। অন্য কোনও দলের সঙ্গে কথা বলছি এমনটাও নয়। তা হলে এটা কি সুপরিকল্পিত ভাবে ছড়ানো একটা খবর? এর নেপথ্যে একটা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।” চারিদিকে যখন সিপিএমের যুবনেতা-নেত্রীদের তৃণমূলে যাওয়া নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সেই আবহে দীপ্সিতা বলছেন অন্য কথা। তাঁর কথায়, “আমি খুব মজার ছলেই বলছি। যদি যেতেই হয় সমাজবাদী পার্টিতে যাব। তাতে লালও রয়েছে, সমাজবাদও রয়েছে।” প্রয়াত বাম-বিধায়ক পদ্মনিধি ধরের নাতনিকে নিয়ে আকস্মিক গুঞ্জন তৈরির নেপথ্যে বড় ফ্য়াক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনী টিকিট। সিপিএমে একটা গুঞ্জন ছিল, দীপ্সিতা ধর বিধানসভা ভোটে টিকিট পাবেন। তাও আবার হুগলির উত্তরপাড়া থেকে। অবশ্য, তাঁর বাড়িও খুব কাছাকাছি, বালির ঘোষপাড়া। গত লোকসভা নির্বাচনে দীপ্সিতা শ্রীরামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। উত্তরপাড়া বিধানসভা এই শ্রীরামপুর লোকসভারই অন্তর্গত। জিততে না পারলেও, ওই বিধানসভা কেন্দ্রেই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন দীপ্সিতা। সুতরাং, উত্তরপাড়ার প্রার্থী হিসাবে তিনি যে একেবারের সামনের সারিতে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। দলীয় সূত্রে খবর, সেই সিদ্ধান্তে বড় বদল আনার পথে সিপিএম। উত্তরপাড়ায় লড়তে পারেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্য়ায়। সাম্প্রতিক স্থানীয় একাধিক কর্মসূচিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তারপরেই বেড়েছে অস্বস্তি। যদিও নির্বাচনে লড়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল দীপ্সিতাকে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “সবটাই পার্টি ঠিক করবে।”





