Saturday, May 2, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

তথ্যগত অসঙ্গতি বিচার করবেন রাজ্যের বিচারপতি, বিচারকেরা!‌ এসআইআরের কাজে কমিশন এবং রাজ্যের ভূমিকাতেই অসন্তোষ সুপ্রিম কোর্টের

এসআইআরের কাজে কমিশন এবং রাজ্য উভয়ের ভূমিকাতেই শুক্রবার অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কলকাতা হাই কোর্টকে আধিকারিক দিতে অনুরোধ করেছেন। রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজে তথ্যগত অসঙ্গতির যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলির নিষ্পত্তি করবেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত আধিকারিকেরা। এমনটাই জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকেরা কেবল বিচারবিভাগীয় ওই আধিকারিকদের সহায়তা করবেন। তাঁদের নির্দেশই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলে গণ্য করা হবে। রাজ্যকে অবিলম্বে তা পালন করতে হবে। এসআইআরের কাজে কমিশন এবং রাজ্য উভয়ের ভূমিকাতেই শুক্রবার অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি ছিল। আদালত জানায়, রাজ্যের ভূমিকায় তারা হতাশ। রাজ্য সরকার এবং কমিশনের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। এর পরেই কলকাতা হাই কোর্টকে এসআইআরের কাজের জন্য কয়েক জন আধিকারিক নিযুক্ত করার অনুরোধ করেন তিনি। বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি রাজ্য সরকার তৈরি করেছে, যেখানে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’’ কমিশন এবং রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে শনিবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে আলোচনায় বসার অনুরোধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই বৈঠকে থাকবেন কমিশনের প্রতিনিধি, সিইও, মুখ্যসচিব, ডিজিপি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল। এসআইআরের কাজে হাই কোর্ট নিয়োগ করবে বর্তমান বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের। প্রতি জেলায় এমন কয়েক জন করে আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। তাঁরা ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত কাজ করবেন। মমতার আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, ‘‘কমিশন বিশেষ পর্যবেক্ষক নামের এক নতুন ধরনের অফিসার নিয়োগ করেছেন। তাঁরা ইআরওদের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন। ইআরওদের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিচ্ছেন। তাঁরাই ফাইল যাচাই করে ইআরওদের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এ বার ইআরওরা কী করবেন?’’ জবাবে কমিশন জানায়, এসআইআরের প্রথম পর্ব থেকেই বিশেষ পর্যেবক্ষকেরা রয়েছেন। তাঁরা ‘নতুন’ নন। কমিশন এবং রাজ্যের মধ্যে সহযোগিতার এই অভাব দেখে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক একটা দোষারোপের খেলা চলছে। দু’টি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান একে অপরকে দোষ দিচ্ছে। কমিশন আর রাজ্যের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে।’’

এসআইআরের কাজে আধিকারিকদের নিয়োগ করায় আদালতের স্বাভাবিক কাজে তার সাময়িক প্রভাব পড়বে, মেনে নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সে ক্ষেত্রে অন্য আদালতে কিছু মামলা স্থানান্তরিত করতে পারে হাই কোর্ট। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা কমিশনকে প্রকাশ করতে বলেছে আদালত। সময়সীমা আর পিছোতে নারাজ প্রধান বিচারপতি। তিনি জানিয়েছেন, ২৮ তারিখের মধ্যে যে সমস্ত নামের সন্দেহ নিষ্পত্তি করা যাবে, তা দিয়েই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পরে প্রয়োজনে অতিরিক্ত তালিকা দিয়ে নাম যোগ করা যেতে পারে। কিন্তু বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের খুব বেশি দিন এই কাজে নিযুক্ত রাখা যাবে না। সময়ের মধ্যে এসআইআরের কাজ যাতে শেষ হয়, রাজ্য সরকারকে তার জন্য কমিশনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এ ছাড়া, এত দিন রাজ্যে এসআইআরকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার স্টেটাস রিপোর্ট চেয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এসআইআরের কাজকে কেন্দ্র করে রাজ্য এবং কমিশনের প্রধান সংঘাত মূলত গ্রুপ বি আধিকারিকদের নিয়ে। কমিশনের অভিযোগ, বার বার আবেদন করা হলেও রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত গ্রুপ বি আধিকারিক দেয়নি। দেওয়া হয়েছে গ্রুপ সি বা আরও নিম্নপদস্থ আধিকারিকদের। করণিক শ্রেণির আধিকারিকদের দিয়ে এসআইআরের মতো কাজ কী ভাবে হবে, প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁরা এসআইআরের কাজে সাহায্যের জন্য রাজ্যের কাছে গ্রুপ বি আধিকারিক চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু জবাবে সরকার জানিয়েছে, কমিশনের আবেদন ‘বিবেচনাধীন’। এর পরেই রাজ্যের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি ভেবেছিলেন এসআইআরের কাজে রাজ্য সহযোগিতা করবে। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। বিচারপতি কান্তের বক্তব্য, ‘‘আমরা দুটো পরিস্থিতি বুঝতে পারছি। হয় আপনাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্রুপ বি কর্মী নেই, যা একটা আইনি বাধ্যবাধকতা। নয়তো আপনারা তাঁদের ছাড়তে পারছেন না। সে ক্ষেত্রে ইআরও বা এইআরও-র কাজের জন্য কমিশন কর্মী আনতে পারবে।’’ তথ্যগত অসঙ্গতি বিচার করতে কমিশন কর্মী নিয়ে এলে তাঁদের বাংলা বানান বুঝতে সমস্যা হতে পারে, জানান বিচারপতি বাগচী। তার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘এই রাজ্যে এসআইআর শেষ করতে হয় বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বা প্রাক্তন বিচারপতিদের আনতে হবে, অথবা অন্য রাজ্য থেকে আইএএস অফিসারদের নিয়োগ করতে হবে।’’ রাজ্য জানিয়ে দেয়, বিচারবিভাগীয় আধিকারিক আনা হলে তাতে রাজ্যের কোনও আপত্তি নেই। পরে সেই নির্দেশই দিয়েছে আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles