নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নিয়েছেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করেছিলেন, এ বার স্থিতিশীলতা ফিরবে বাংলাদেশে। তবে সেই আশায় ফের বড়সড় ধাক্কা। সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের ফল নিয়ে তৈরি হলো নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এই গণভোটের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং গণভোটের ফল বাতিলের দাবিতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে বাংলাদেশ হাইকোর্টে। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। ভোট দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে ৬০.২৬ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন। তবে এই গণভোটের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার এর বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ। পালটা সুপ্রিম কোর্টেরই সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন, আদালতে তাঁরা এই রিটের কড়া মোকাবিলা করবেন। রিট পিটিশন দায়ের হওয়ার আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। সাংসদ হিসেবে সংবিধান রক্ষার শপথ নেওয়ার পরে ‘কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম কাউন্সিল’-এর জন্য দ্বিতীয় শপথ নিতে অস্বীকার করেন বিএনপি-র সাংসদরা। তাঁদের মতে, এটি সংবিধান রক্ষার প্রথম শপথের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বিএনপি-র এই পদক্ষেপকে ‘জটিলতা তৈরির চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করেছে জামায়াতে ইসলামী। তারা সাফ জানিয়েছে, বিএনপি দ্বিতীয় শপথ না নিলে তারাও কোনও শপথ নেবে না। একদিকে আইনি টানাপড়েন এবং অন্যদিকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির এই অনড় অবস্থান আগামিদিনে বাংলাদেশকে ফের এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্বাসন থেকে ঘরে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী! ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর ঘরে ফিরেই বাজিমাত! মাত্র দু’মাসের মধ্যে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে। গোটা ঘটনার সঙ্গে কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলা এবং চার্লস ডি গলের প্রচুর মিল খুঁজে পাচ্ছেন। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পদ্মাপারে সবাই তাঁকে ভালবেসে ডাকেন তারেক জিয়া নামে। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী লন্ডনে একরকম নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২০২৫ ডিসেম্বরে ঢাকায় ফেরেন। অবশ্য সে দেশে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। ফলে তড়িঘড়ি বাবা তথা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি’র বিএনপি হাল ধরতে হয় তাঁকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, ‘ঘর ওয়াপসি’ করা তারেকের দলীয় চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বগ্রহণ ছিল এ বারের পদ্মাপারের নির্বাচনের ‘টার্নিং পয়েন্ট’। ভোটের ঠিক মুখে মৃত্যু হয় দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার। সম্পর্কে তিনি তারেকের মা। ফলে সহানুভূতির পালে হাওয়া তুলতে সমস্যা হয়নি তাঁর। এর জেরে ৩০০-র মধ্যে ২১২ আসনে জয়ী হয় বিএনপি জোট। ৭৭টি কেন্দ্র গিয়েছে কট্টরপন্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি জোটের দখলে। একটি আসনে ভোট হয়নি। বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়া ও সে দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেককে দীর্ঘ দিন ধরেই বিএনপির প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসাবে দেখা হচ্ছিল। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল বেশ মসৃণ। কিন্তু ওই বছর সামরিক অভ্যুত্থানে খালেদা সরকারের পতন হলে, তারেকের উপর পড়ে শনির বক্রদৃষ্টি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, জেলবন্দিও থাকতে হয় তাঁকে। জামিনে মুক্তি পেলে ২০০৮ সালে ঢাকা ছেড়ে লন্ডনে চলে যান জিয়া-পুত্র।





