নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। কী ভাবে এই রোগে আক্রান্ত হন মানুষ? কী কী সমস্যা দেখা যায়? নিরাময়ের রাস্তা কী? নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। মদ্যপান না করেও মেদ জমতে পারে লিভারে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ আইসিএমআর-এর সমীক্ষা বলছে, দেশের অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের রোগে ভুগছেন। ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ কার্ডিয়োভাস্কুলার মেডিসিন জার্নালেও বলা হয়েছে, লিভারের এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে শরীর থেকে টক্সিনও বেরোতে পারে না। তখন সেই টক্সিন জমা হতে হতে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বাড়তে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইডও। মেদ জমতে শুরু করে শরীরে এবং তা লিভারেও জমা হতে থাকে। লিভারে জমা মেদের পরিমাণ যদি অনেক বেড়ে যায়, তা হলে তা থেকে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। লিভারে ঘা বা ক্ষত তৈরি হতে পারে, যাকে লিভার সিরোসিস বলে। এই সিরোসিস থেকেই পরবর্তী সময়ে লিভার ক্যানসার হতে পারে। ভারতীয়দের খাবারে তেল-মশলা-স্নেহপদার্থের প্রয়োগ অনেক বেশি। সেই তুলনায় হজমশক্তি কম। তা ছাড়া শরীরচর্চার অভ্যাসও নেই অনেকের। ফলে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে অসংযমই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তবে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল-এর কারণেও নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের হতে পারে। ওজন যদি খুব বেশি হয়, তা হলেও মেদ জমতে পারে লিভারে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সব থেকে বড় লক্ষণ স্বাভাবিকের থেকে বেশি কোমরের মাপ বা ভুঁড়ি। মেদ বাড়লে লিভারেও তা জমা হতে থাকে। ফলে লিভারের কাজ করার ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রথম অবস্থায় খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, খাবারে অরুচি হয়, বমি ভাব থাকে, দুর্বলতা বাড়তে থাকে। এই সব উপসর্গের পাশাপাশি ক্রনিক মাথা ব্যথা, অম্বল-বুক জ্বালা, হজম না হওয়া, মন খারাপ, আচমকা কাঁপুনি-সহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে থাকবে। বিশেষ করে নখ বা চোখ হলদেটে হয়ে গেলে বা বার বার জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এ ছাড়া যাঁরা হরমোন থেরাপি করান, ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খান বা ব্যথানাশক ওষুধ খান, তাঁদেরও লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
গল যোগাসন। প্রশিক্ষকেরা বলেন ‘পার্টনার যোগ’ বা ‘কাপল যোগ’। হাতে হাত রেখে একসঙ্গে যোগাসনের কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। শারীরিক সুস্থতা তো বটেই, মানসিক চাপ বা উদ্বেগও কমে যায় এমন আসন করলে। যুগল যোগাসনে পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। ভরসার জায়গাটি আরও নিবিড় হয়। গবেষণা বলছে, যুগলে একসঙ্গে যোগাসন করলে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ অনেক কমে যায়। শরীর ও মন অনেক বেশি সতেজ হয়ে ওঠে। তবে যোগাসন করার অভ্যাস যদি না থাকে, তা হলে সহজ কিছু পদ্ধতি দিয়ে শুরু করা যায়। যুগল যোগাসনের নানা রকম পদ্ধতি আছে। সহজ আসন দিয়েই শুরু করা যাক। শুরু করুন এই আসনটি দিয়ে। মেঝেতে ম্যাট পেতে দু’জনে পরস্পরের পিঠ ঠেকিয়ে বসুন। সুখাসন বা যে কোনও আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসতে পারেন। দু’হাত রাখুন হাঁটুর উপরে। পিঠ সোজা এবং পরস্পরকে স্পর্শ করে থাকবে। এ বার দু’জনেই লম্বা করে শ্বাস টানুন, কিছু ক্ষণ ধরে রেখে ছেড়ে দিন। এই শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময়টা একই সঙ্গে করতে পারলে ভাল হয়। এই ভাবে ৫-১০ মিনিট আসনটি করুন। এই আসনটি মনঃসংযোগ বৃদ্ধি করবে, মানসিক চাপ কমাবে। পিঠ ঠেকিয়ে ওই ভাবেই বসে থাকুন। এ বার আপনার ডান হাত দিয়ে সঙ্গীর বাঁ হাঁটু বা হাত ধরুন। নিজের বাঁ হাতটি রাখুন নিজের ডান হাঁটুর উপরে। সঙ্গীও ঠিক উল্টোটাই করবেন। এতে দু’জনেরই শরীরের উপরের ভাগ হালকা ঘুরে যাবে অর্থাৎ, টুইস্ট হবে। দু’জনেই হাত বদলে আবারও আসনটি করুন। এই যোগাসন কোমর-পিঠের ব্যথা কমাবে, হজমশক্তি বৃদ্ধি করবে। দু’জনে মুখোমুখি দাঁড়ান। দুই হাত সামনে প্রসারিত করে পরস্পরের হাত ধরুন বা হাতের তালু স্পর্শ করুন। দুই পায়ের মধ্যে ব্য়বধান রেখে দাঁড়ান। এ বার ওই ভঙ্গিতেই সামনের দিকে ঝুঁকুন। আপনাদের হাত এবং পিঠ অনেকটা ত্রিভুজের মতো আকার নেবে। কাঁধ, বুক এবং পিঠের পেশির সক্রিয়তা বাড়বে আসনটি করলে।





