ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আমেরিকা এবং নামিবিয়া-দুই দলের বিরুদ্ধেই বেশ নড়বড়ে দেখিয়েছে ভারতীয় ব্যাটিংকে। প্রত্যাশা মতোই নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেল ভারত। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্যাটিং নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটল না। দিল্লির ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করে সূর্যকুমার যাদবেরা করেন ৯ উইকেটে ২০৯ রান। জবাবে নামিবিয়ার ইনিংস শেষ হল ১৮.২ ওভারে ১১৬ রানে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত জিতল ৯৩ রানে। ঈশান কিষান এবং সঞ্জু স্যামসনের দাপটে পাওয়ার প্লে’তেই ৮৬ রান তুলে ফেলে ভারত। সেসময়ে মনে হচ্ছিল আড়াইশোর গণ্ডি পেরিয়ে যাবে মেন ইন ব্লু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রানের গতিতে লাগাম পরাল নামিবিয়া। সূর্যকুমার যাদবদের ইনিংস থামল ২০৯ রানে। ৯টি উইকেটও হারাল ভারতীয় দল। ম্যাচটা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে ভারতের ড্রেস রিহার্সাল ছিল। সেই ম্যাচে টস হারেন সূর্য। প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। অভিষেক শর্মার পরিবর্তে এদিন ওপেন করতে নেমে সঞ্জু স্যামসন ৮ বলে ২২ রান করেন। অপর প্রান্তে ঝোড়ো ব্যাটিং। দুরন্ত ফর্মে থাকা ঈশান কিষান ২৪ বলে ৬১ রান করেন ছয়টি বাউন্ডারি এবং পাঁচটি ছক্কায়। অতি আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়েই উইকেট খোয়ান। ঈশানের উইকেট পড়ার পরেই আচমকা ছন্দ হারিয়ে ফেলে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ। ২১ বলে ২৫ রান করে আউট হয়ে যান তিলক বর্মা। আগের দিন ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেললেও ভারত অধিনায়ক সূর্য ১২ রান করেন, খেলেন ১৩ বল। শেষদিক হার্দিকের তাণ্ডবে ফের ম্যাচে ফেরে ভারত। ২৮ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান হার্দিক।ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ বেশ নড়বড়ে দেখিয়েছে। শেষের দুই ওভারে রান তোলার তাড়াহুড়োয় রান আউট হয়ে যান শিবম দুবে। প্রথম বলে আউট অক্ষর প্যাটেলও। ম্যাচের শুরুতে বেধড়ক মার খেলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান নামিবিয়া বোলাররা। চার ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নিয়েছেন গেরহার্ড এরাসমাস। ঈশান, তিলক-প্রত্যেকের উইকেটই গিয়েছে তাঁর ঝুলিতে। একটি করে উইকেট পেয়েছেন বেন শিকোঙ্গো, জে স্মিট, বার্নার্ড শোলৎজ। আমেরিকার পর নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও ভারতকে জিতিয়ে দিল বোলারদের পারফরম্যান্স। বলা ভাল প্রতিপক্ষের ব্যাটিং দুর্বলতা। সাহিবজ়াদা ফারহান, বাবর আজ়ম, সাইম আয়ুব, শাদাব খানদের বিরুদ্ধে লড়াই নিশ্চিত ভাবে এত সহজ হবে না। পাকিস্তান-ম্যাচের আগের দু’দিন গম্ভীরকে উদ্বেগে রাখতে পারে দলের পারফরম্যান্স।
২১০ রান তাড়া করতে নেমে বোলিং বা ফিল্ডিংয়ের মতো পারফর্ম করতে পারলেন না নামিবিয়ার ক্রিকেটারেরা। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করা জান ফ্রাইলিঙ্ককে (১৫ বলে ২২) ফিরিয়ে দেন অর্শদীপ। অন্য ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্পও মেরে খেলার চেষ্টা করেন। শুরুতে উইকেট নিলেও এই ম্যাচেও বেশ রান দিলেন বাঁহাতি জোরে বোলার। অথচ প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট নেওয়া মহম্মদ সিরাজকে এ দিন প্রথম একাদশে রাখেননি গম্ভীর-সূর্যেরা! নতুন বল হাতে হার্দিকও যথেষ্ট ভরসা দিতে পারছেন না। সেই সুযোগে ৫.৪ ওভারে ৫০ রান করে নামিবিয়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই তাদের দ্রুততম ৫০। নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও বুমরাহকে সপ্তম ওভারে আক্রমণে আনেন সূর্য। দলের সেরা জোরে বোলারকে নতুন বল না দেওয়াও এক রহস্য। ২০ বলে ২৯ রান করে স্টিনক্যাম্পকে বোল্ড হন বরুণের বলে। কেকেআর স্পিনার আউট করেন তিন নম্বরে নামা জান নিকোল লফটি-এটনকে (১৩)। দু’বল পরেই বরুণ আউট করেন পাঁচ নম্বরে নামা স্মিটকে (০)। দশম ওভারে ২ উইকেটে ৮৬ থেকে ৪ উইকেটে ৮৬ হয়ে যাওয়ার পর রক্ষণাত্মক হয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি। তার আগে পর্যন্ত ওভার প্রতি ১০ রানের কাছাকাছি তুলেছে তারা। ১১তম ওভারে অক্ষর ফিরিয়ে দেন ইরাসমাসকে (১১ বলে ১৮)। তার আগের ওভারেই অক্ষরকে এক জোড়া ছক্কা মারেন নামিবিয়ার অধিনায়ক। নামিবিয়া ৮৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ভারতের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। নামিবিয়ার বাকি ব্যাটারেরা ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে আশাব্যঞ্জক কিছু করতে পারেননি। মালান ক্রুগার (১০ বলে ৫), জ়ান গ্রিন, রুবেন ট্রামপেলম্যানেরা (১৬ বলে ৬), স্কোল্টজ় (৪ বলে ৪) পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করতে পারেননি। ভারতের সফলতম বোলার বরুণ ৭ রানে ৩ উইকেট নিলেন। হার্দিকের ২ উইকেট ২১ রানে। অক্ষর ২ উইকেট নিলেন ২০ রানে। ২০ রানে ১ উইকেট নিলেন বুমরাহ। ৩৬ রানে ১ উইকেট অর্শদীপের। ১১ রানে ১ উইকেট শিবমের।





