‘২০২৬-এ পৃথিবী শেষ’- এই ধরনের ভয়াবহ দাবি। কোথাও মিম, কোথাও ভিডিও- দাবি করা হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে, ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে, এমনকি ভিনগ্রহবাসীর আক্রমণ পর্যন্ত! এত কিছু দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, সত্যিই কি ২০২৬ সালেই পৃথিবীর শেষ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসবের কোনও বিশ্বাসযোগ্য উৎস নেই। পুরনো ভবিষ্যদ্বাণী, ভুল ব্যাখ্যা, সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব আর বিশ্বজোড়া অস্থিরতাই এই ভয় বাড়াচ্ছে। আজকের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও মানুষকে আরও চিন্তিত করছে, যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমী দুনিয়ার টানাপড়েন, দক্ষিণ চিন সাগরের উত্তেজনা- সব মিলিয়ে বিশ্ব অস্থির। The Economist-এর ‘The World Ahead 2026’-এ সম্ভাব্য সংঘাতের উল্লেখ থাকায় ভয় আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি বা প্রযুক্তি নিয়ে চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে, এটা সত্যি। মানবসভ্যতার শেষ হয়ে যাবে, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক বা তথ্যভিত্তিক প্রমাণ নেই। সুতরাং, ভয়ের খবর দেখে আতঙ্কিত না হয়ে, তথ্য যাচাই করুন, গুজবে বিশ্বাস করবেন না। ২০২৬ কঠিন বছর হতে পারে কিন্তু শেষ বছর নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে বাবা ভাঙ্গার নানা ভবিষ্যদ্বাণী- বড় যুদ্ধ, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ, বন্যা বা ঝড়ের মতো দুর্যোগের সম্ভাবনা। আবার কেউ দাবি করছে, নভেম্বরে নাকি একটি ভিনগ্রহী মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকবে! কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার বলেছেন, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীর কোনও সরকারি নথি নেই। সবই মুখে মুখে প্রচারিত, পরে তার ভিত্তিতে বানানো ব্যাখ্যা। নস্ত্রাদামুস বা রিয়াজ গোহর শাহী বা আথোস সালোমের কথাও একইভাবে ভুল ব্যাখ্যা করে ছড়ানো হচ্ছে। ভাইরাল হচ্ছে ‘ডুমসডে’ বা প্রলয়-তত্ত্ব? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভয় এবং আতঙ্কের খবর দ্রুত ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগোরিদম চমকপ্রদ বা ভয়ংকর কনটেন্টকে এগিয়ে দেয়। জটিল বাস্তব সংকটকে সহজে বোঝার জন্য মানুষ প্রায়ই ‘একটি নির্দিষ্ট শেষ তারিখ’-এর ওপর বিশ্বাস করতে চায়। এই নির্দিষ্ট তারিখ মনকে সাময়িক স্বস্তি দেয়, যেন সব কিছুর একটা শেষ আছে। তাহলে কি সত্যিই ২০২৬-এ পৃথিবী শেষ? না, একেবারেই নয়। ইতিহাস বলে, আগেও বহু ‘শেষের ভবিষ্যদ্বাণী’ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ২০০০ সালের Y2K আতঙ্ক- কম্পিউটার ধসে সবকিছু থেমে যাবে বলা হয়েছিল। ২০১২ সালের মায়া ক্যালেন্ডার তত্ত্ব- পৃথিবী ধ্বংস হবে দাবি করা হয়েছিল। সবই ভুল প্রমাণিত হয়েছে।





