Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

জয়ের হ্যাটট্রিকে সন্তোষ ট্রফির শেষ আটে বাংলা!‌ তিন ম্যাচের সবক’টিতে জিতে সঞ্জয় সেনের দলের পয়েন্ট ৯

তিন ম্যাচের সবক’টিতে জিতে সঞ্জয় সেনের দলের পয়েন্ট ৯। সব মিলিয়ে ৬টি গোল করেছেন রবি, সায়নরা। সবথেকে বড় ব্যাপার হল, কোনও গোল হজম করেনি বাংলা। রবিবার রাজস্থানের বিরুদ্ধে নেমেছিল বাংলা। জিতলে সন্তোষ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যেত বাংলার। যদিও বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে লড়াইটা সহজ ছিল না সঞ্জয় সেনের দলের। মূলপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে জিতে আত্মবিশ্বাসী থাকা রাজস্থানকে শেষে মুহূর্তের গোলে হারাল বাংলা। এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে জিতে শেষ আটে পৌঁছে গেলেন রবি হাঁসদা, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়রা। মূলপর্বে নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার গোলের দুরন্ত জয় দিয়ে সন্তোষ ট্রফির মূলপর্ব শুরু করেছিল বাংলা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে যথেষ্ট লড়াই করে তিন পয়েন্ট অর্জন করতে হয়েছিল বঙ্গ ব্রিগেডকে। রবিবাসরীয় দুপুরে প্রতিপক্ষের পাসিং ফুটবলকে নষ্ট করে প্রতি আক্রমণে গিয়ে খেলার নীতি নিয়েছিলেন রবি হাঁসদা, করণ রাইরা। এই ম্যাচে গোড়ালিতে হালকা চোটের কারণে প্রথম এগারোয় ছিলেন না বাংলার আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার উত্তম হাঁসদা। বাংলার গ্রুপে ছিল রাজস্থান। তাই প্রতিপক্ষের সম্পর্কে কিছুটা ধারণা ছিল সঞ্জয় সেনের। তারপর এবারের কয়েকটি ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করে বাংলা কোচের মনে হয়েছিল গতবারের থেকেও এবারের রাজস্থান দল ভালো। সেই ‘ভালো’র প্রমাণ তারা প্রতি পদে পদে দিয়েছে। বাংলার সঙ্গে তাদের সেয়ানে সেয়ানে লড়াই যথেষ্ট উপভোগ্য ছিল। বেশ কয়েকবার বাংলার গোলরক্ষক সোমনাথ দত্তকে পরীক্ষার মুখেও পড়তে হয়। যদিও সমস্ত পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাংলাও তাদের ঝাঁজাল আক্রমণে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করে। তবে কিছুতেই ডেডলক ভাঙছিল না। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। বাংলার ডাগআউটে রয়েছেন সঞ্জয় সেনের মতো ‘বাঘা’ কোচ। তিনি উত্তম ছাড়া প্রথম একাদশে বিশেষ পরিবর্তন আনেননি। মনে করা হয়েছিল, বহু যুদ্ধের নায়ক গত ম্যাচের গোলদাতা নরহরি শ্রেষ্ঠা প্রথম একাদশে থাকবেন। অনেকটা অবাক করেই কোচ সঞ্জয় সেন তাঁকে প্রথম এগারোয় রাখেননি। বেঞ্চে ছিলেন আরেক তুরুপের তাস সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই সায়নই ৮৯ মিনিটে অনবদ্য গোল করে বাংলাকে জয় এনে দিলেন। তিন ম্যাচের সবক’টিতে জিতে সঞ্জয় সেনের দলের পয়েন্ট ৯। সব মিলিয়ে ৬টি গোল করেছেন রবি, সায়নরা। সবথেকে বড় ব্যাপার হল, কোনও গোল হজম করেনি বাংলা। এই জয়ের ফলে সন্তোষের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলল বাংলা।

এদিকে, ছোটদের ডার্বিতে মোহনবাগানকে হারিয়ে কোচকে কৃতিত্ব ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের। রিলায়েন্সের ফাউন্ডেশন ডেভলপমেন্ট লিগের ডার্বিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই প্রধান। সেই ম্যাচে মোহনবাগানকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বিতে নামার আগে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল গ্রুপ পর্বে নিজেদের ম্যাচে জিতেছিল। মোহনবাগান ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি’র বিরুদ্ধে। সেখানে ডার্বিতে নামার আগে ইস্টবেঙ্গল জেতে বেঙ্গল ফিউচার চ্যাম্পসের বিরুদ্ধে। তবে টানা চারটে ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা মোহনবাগান হার মানল মশাল বাহিনীর কাছে। বঙ্কিমাঞ্জলি স্টেডিয়ামে এদিন ম্যাচ দেখতে হাজির হয়েছিলেন মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা। ডেভেলপমেন্ট লিগের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ফলাফলে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খেলায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। ৪৬ মিনিটে গুণরাজের শট রিফ্লেক্টেড হয়ে গোল পান রিকি। এরপর খেলায় ফেরার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে মোহনবাগান। ৫৪ মিনিটে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি থাংজাম রোশন সিং। ৬৭ মিনিটে নিয়েছিলেন পাসাং দর্জি তামাংয়ের দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৭৫ মিনিটে সুহেল আহমেদ ভাটের হেড বিপন্মুক্ত করেন লাল-হলুদ গোলকিপার। ৮২ মিনিটে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন গুইতে। দশজনে হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। এই সুযোগ অবশ্য কাজে লাগাতে পারেনি সবুজ-মেরুন। খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ৯৪ মিনিটে ফের গোল রিকির। শেষ পর্যন্ত ২-০ জিতে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল। জোড়া গোল করে ডার্বির নায়ক রিকি সিং কৃতিত্ব দেন কোচকে। মণিপুরের কাশীপুর অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা ফুটবলারের বাবা পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। আর তাঁর ফেভারিট ফুটবলার মোহনবাগানী, সাহাল আবদুল সামাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles