সার্ভিসেসের ঘরের মাঠে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলা। রনজি ট্রফিতে সার্ভিসেসকে ইনিংস ও ৪৬ রানে হারালেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। এরমধ্যেই গ্রুপের শেষ ম্যাচে হরিয়ানার মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ভাবনা শুরু হয়ে গেল বঙ্গ শিবিরে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে হরিয়ানার মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ভাবনা শুরু বঙ্গ শিবিরে। এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে মহম্মদ সামি-সহ বঙ্গ পেস ইউনিটের একাধিক সদস্যকে। সঙ্গে সিনিয়র দলে লাল বলের ফরম্যাটে অভিষেক রোহিত যাদবের অভিষেকও কার্যত নিশ্চিত। সার্ভিসেস বোনাস পয়েন্ট নিয়ে রনজির নকআউট নিশ্চিত করে ফেলল বাংলা। মহম্মদ সামি, আকাশ দীপ, সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল, মুকেশ কুমারদের গতির আগুনে ছারখার হয়ে গেল সার্ভিসেসের ব্যাটিং। লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের জয়ের দেওয়াল লিখন স্পষ্ট। রবি-সকালে কল্যাণীতে দ্রুত সার্ভিসেসের বাকি দুই উইকেট ফেলে ম্যাচে জয়। দুই ইনিংস মিলিয়ে মহম্মদ সামির শিকার ৭ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রান দিয়ে ৫ উইকেট পান। নকআউটের ভাবনা শুরু করে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। হরিয়ানার বিরুদ্ধে বাংলা অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে লাহলিতে। তবে এই স্টেডিয়াম আগের মতো গতির স্বর্গরাজ্য নেই। বরং সেখানে এখন দাপট দুরন্ত ঘূর্ণির। বাংলা দলের এক সদস্যও শনিবার কল্যাণীতে বলছিলেন, “সার্ভিসেস সম্প্রতি ওখানে ম্যাচ খেলে এসেছে। ওদের ক্রিকেটাররাও বলছিল যে, লাহলি আর আগের মতো নেই। এখন প্রথম ওভার থেকেই বল ঘুরছে।” তাই সেখানে এক পেসারের বেশি খেলানোর পরিকল্পনা নেই বাংলার। আকাশ দীপ ও সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালের মধ্যে একজনের খেলার সম্ভাবনা প্রবল। সেই অঙ্কেই নকআউটের কথা ভেবে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে শামি-সহ একাধিক পেসারকে। বাংলার জার্সিতে এক রনজির রেলওয়েজ ম্যাচ ছাড়া তিন ফরম্যাটে সব ম্যাচই খেলেছেন শামি। সেই কথা ভেবে তাঁকে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে অযথা টার্নিং ট্র্যাকে খেলাতে চাইছে না বাংলা। হরিয়ানার বিরুদ্ধে চার স্পিনার নিয়ে নামতে পারে বাংলা। দলে শাহবাজ আহমেদ, রাহুল প্রসাদ, বিকাশ সিংয়ের মতো স্পিনার আছেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা যেতে পারে রোহিতকে।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, মোট সাতটি ম্যাচ পেয়েছে ইডেন। গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বনাম ইটালি, ইংল্যান্ড বনাম বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড বনাম ইটালি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইটালি ম্যাচগুলি ইডেনে হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেলায় বিকল্প দল হিসাবে স্কটল্যান্ড নামবে ওই ম্যাচগুলিতে। সেটা হলে ইডেনে তিনটি ম্যাচ খেলবে স্কটল্যান্ড। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হতে চলেছে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। ৯ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিপক্ষ ইটালি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড। এছাড়াও ইডেনে খেলা হবে সুপার এইটের একটি ম্যাচ, সেখানে ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হতে পারে। একটি সেমিফাইনালও ইডেনে হবে, তবে সেখানে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কোনও দলই খেলবে না। গ্রুপ পর্বে এবার এমনিতেই কোনও বড় ম্যাচ নেই। সুপার এইটে ভারতের একটা ম্যাচ পেয়েছে ইডেন। গ্রুপ পর্বে মাঠ ভরবে কি না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন ছিলই। যদিও সিএবি কর্তারা এসব নিয়ে ভাবছেন না। তাঁদের কথায়, “এখানে আমাদের তো কিছু করার নেই। তবে বিশ্বকাপে কিছু পরিমাণ দর্শক অবশ্যই ম্যাচ দেখতে আসবে। তারপর দেখা যাক।” টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে গেলেও, তাতে সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন সিএবি কর্তারা। টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়েছে। এক কর্তার কথায়, “কেউ যদি বাংলাদেশ ম্যাচ দেখবেন বলে টিকিট বুক করে থাকেন, তাহলেও সমস্যা নেই। তিনি যদি চান তাহলে টাকা ফেরত নিয়ে নিতে পারবেন। তাছাড়া এটা আইসিসির ব্যাপার। এখানে আমাদের কী করার থাকতে পারে?” তাছাড়া টিকিট বন্টন শুরু হতে এখনও অনেক দেরি। ফলে টিকিট বদলেরও কোনও ব্যাপার থাকছে না। বাংলাদেশের যে আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না, সেটা শনিবারের পর চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আইসিসির তরফ থেকে বাংলাদেশের পরিবর্ত হিসাবে স্কটল্যান্ডের নাম ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটে ম্যাচ ইডেনে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে কলকাতায় খেলতে আসছে স্কটল্যান্ড। দল পরিবর্তন নিয়ে অবশ্য সিএবির কোনও মাথাব্যথা নেই।





