“কত অজানারে জানাইলে তুমি, কত ঘরে দিলে ঠাঁই।”
এককথায় চাঁদের হাট। শণি সকাল থেকেই সাজো সাজো রব। অগনিত মানুষের ঢল। কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের মেগা রক্তদান উৎসবে মানব সমাগমে গমগম করছিল নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়াম চত্ত্বর। মুম্বই সুপারস্টার বিগ-বি অমিতাভ বচ্চনের এই ইন্ডোরেই, সেই ‘ছুঁ কর মেরে মন কো’ গানের কলি মনে করিয়ে দিচ্ছিল বারংবার। সকাল থেকেই মহৎ কাজের শামিল হওয়ার প্রয়াস অনেকটাই মন ছুয়ে গেছে সারা বঙ্গবাসীর। বাংলায় সাড়া জাগানো স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের রক্তদান উৎসব। খেলাধুলোর পাশাপাশি মানবসেবার জন্য কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই উদ্যোগ অভিনব। রক্তদান মহৎ দান। এর কোনও বিকল্প হয় না। শনিবার এই উৎসবকে সার্থক রূপ দেবার জন্য মানুষের ঢল চোখে পড়ার মতোই। বাবুনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশাল রক্তদান উৎসবে দু হাজারের বেশি রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করে নজির স্থাপন করেছেন। এই মহৎ উদ্যোগের মাধ্যমে সংগৃহীত রক্ত মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক বড় উদাহরণ স্থাপনে কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন (Kalighat Sports Lovers Association) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক রক্তদান উৎসবে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক রক্তদাতা অংশগ্রহণ করেন। প্রতি বছরই সংগঠনের আয়োজিত বিশেষ শিবিরে দু হাজারের বেশি রক্তদাতা রক্তদান করেন। কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের রক্তদান শিবিরে কয়েক হাজার রক্তদাতা অংশ নেন, যার ফলে এটি কলকাতার অন্যতম বৃহত্তম রক্তদান উৎসব হিসেবে গণ্য হয় কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের মেগা রক্তদান উৎসব। ২৩শে জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনকে সম্মান জানিয়ে এই মেগা রক্তদান উৎসবটি নিয়মিত আয়োজন করা হয়, যদিও কখনো কখনো অন্য দিনের সাথে মিলে গেলে তারিখ পরিবর্তিত হয়। যেমনটি এই বছর সরস্বতী পুজো থাকার কারণে ২৪ জানুয়ারী রক্তদান উৎসবের আয়েজন করা হয়। প্রধান উদ্যোক্তা বাবুন ব্যানার্জীর উদ্যোগে এবং সংগঠনের পরিচালনায় এই আয়োজন অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এই মেগা রক্তদান উৎসবটি কেবল রক্ত সংগ্রহের উৎস নয়, বরং এটি একটি সামাজিক উৎসব হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছে। ১৯৯৮ থেকে মানবতার উৎসবের শুরু। মানবতার সেবায় দীর্ঘ ২৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন যাত্রায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশন। ১৯৯৮ সালে মাত্র ৫০৪ জন স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে নিয়ে যে উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, আজ তা রূপ নিয়েছে এক বৃহৎ সামাজিক আন্দোলনে। কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশনের রক্তদান শিবিরে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ২৭তম রক্তদান উৎসবের সূচনা করেন সাংসদ সুব্রত বক্সি ও আইএফএ-র সভাপতি অজিত ব্যানার্জি। সাংসদ সুব্রত বক্সি জানান, মানুষ মানুষের পাশেই থাকে। তাঁদের সমস্যা সমাধানে মানুষই এগিয়ে আসে। রক্তের কোনও বিকল্প নাম হতে পারে না। মানুষের রক্তেই একজন মানুষের প্রাণ বাঁচানো যায়। এই সেরা উৎসবের আয়োজন করে কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন নজির গড়েছে। বিশেষ করে সচিব স্বপন ব্যানার্জি যেভাবে সাধারণ মানুষকে এই উৎসবে শামিল করেন, তাতেই বোঝা যায় তাঁর সমাজসেবায় অগ্রণী ভূমিকা। সঞ্জয় বক্সি বলেন, রক্তদান মহৎ দান। এর কোনও বিকল্প হয় না। আইএফএ-র সভাপতি অজিত ব্যানার্জি বলেন, ভালোবাসা না থাকলে এই ধরনের উৎসবের আয়োজন করা খুব কঠিন। খেলাধুলোর পাশাপাশি মানবসেবার জন্য কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই উদ্যোগ অভিনব। সঞ্জয় বক্সি বলেছেন, রক্তদান মহৎ দান। এর কোনও বিকল্প হয় না। পুর প্রতিনিধি অসীম বসু বলেন, মানুষকে কাছে আনার ক্ষেত্রে রক্তদান একটা বড় মাধ্যম হতে পারে। এখানে কোনও ধর্ম নেই। রক্তদানের মধ্য দিয়ে সবাইকে কাছে আনা সম্ভব হয়। মানুষের জীবন বাঁচে। এর থেকে বড় অন্য কোনও দান হয় না। এদিন উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার মানস ভট্টাচার্য, রহিম নবি, সঞ্জয় মাঝি, উইং ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি শুভাশিস মুখার্জি সহ অন্যান্যরা। ছিলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল সচিব ক্রীড়া সংগঠক বাবলু কোলে, সন্দীপন ব্যানার্জি, ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের শেখর বিশ্বাস, অভিজিৎ পালিতরা। সচিব স্বপন ব্যানার্জি জানান, প্রতি বছরই আমরা ২৩ জানুয়ারি এই উৎসবের আয়োজন করি। কিন্তু এবারে নেতাজির জন্মদিনে সরস্বতী পুজো পড়ে যাওয়ায় একদিন পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে উৎসবের দিনটি। এবারের এই মেগা রক্তদান উৎসবে প্রায় ২৫০০ মানুষ রক্তদান করেছেন। সাধারণ মানুষের যে স্বতস্ফুর্ত প্রয়াস তা কোনওভাবেই ভোলা যাবে না। তাঁদের আন্তরিকতা এবং ভালোবাসায় এই উৎসবের আঙ্গিক অন্য মাত্রা দিয়েছে। এই রক্তদান শিবিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল এর সার্বজনীন চরিত্র। ধর্ম, জাতি কিংবা ভাষার বিভাজন ছাপিয়ে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই মানবতার ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রক্তদানের বিনিময়ে কোনও উপহার কিংবা আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র একটি সার্টিফিকেট ও সামান্য আপ্যায়নের মাধ্যমেই দায়িত্ব সম্পন্ন করা হয়। কারণ, ভালোবাসা ও মানবিক দায়বদ্ধতাকেই এই আন্দোলনের একমাত্র প্রেরণা হিসেবে বিশ্বাস করে সংগঠনটি। সামগ্রীক কর্মকাণ্ডকে সফল রূপ প্রদান করতে বাবুনের ছায়াসঙ্গী চিন্ময় চ্যাটার্জ্জীর অবদানও অসামান্য বলে জানান কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বাবুন ব্যানার্জি। এই বছর রক্ত সংগ্রহের জন্য রাজ্যের নামী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ১২টি বিভাগের চিকিৎসক দল উপস্থিত। রুবি জেনারেল হাসপাতাল, লাইফ কেয়ার, কেস কেবিন, আরএন টেগোর-সহ একাধিক স্বনামধন্য হাসপাতাল এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। ক্রীড়া ও সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। এই রক্তদান শিবির শুধুমাত্র একটি কর্মসূচি নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা এক মানবিক আন্দোলন। মানবিক দর্শনকে সামনে রেখেই ভবিষ্যতেও রক্তদান আন্দোলনকে আরও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশন ‘কেএসএলএ’এর রক্তদান উৎসব

হও রক্তদাতা, জয় করবে মানবতা! এই ট্যাগলাইন শিরোধার্য করে কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহা রক্তদান উৎসব অনুষ্ঠিত হল নেতাজি ইনডোরে স্টেডিয়ামে! প্রধান কান্ডারী স্বপন বন্দ্যোপাধ্যয়ের উদ্যোগেই প্রতি বছরই ঘটা করে অনুষ্ঠিত হয় রক্তদান শিবির। অগনিত মানুষ রক্তদান করেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাবুনের ডাকে ছুটে আসেন মানুষরা। কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত মহা রক্তদান উৎসব ২৪ শে জানুয়ারী। প্রত্যেকেই এই শিবিরের উদ্যগের জন্য ভূয়শী প্রশংসা করেন। নেতাজি মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। যুবসমাজকে নেতাজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার আহ্বান এই কর্মকাণ্ড থেকে। নেতাজির জন্ম দিনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নেতাজি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম সারির একজন অন্যতম নেতা। মহান নেতার জন্মদিনে রক্তদান শিবির সংগঠিত করে সকল রক্তদাতাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করার প্রবণতা নিয়ে থাকি প্রতি বছর। বিরোধীদলীয় নেতা বলেনব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কে ছিলেন ব্রিটিশ গোলামী থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দিতে। নেতাজির স্বপ্ন পূরণ হলেও দেশবাসী সেই স্বপ্নের সুফল এখনো ভোগ করতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কর্মকর্তা স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘Donating blood is an act of solidarity. Join the effort and save lives’.
১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গে প্রথম পালিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক রক্তদাতা দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। অস্ট্রিয়ার বংশোদ্ভূত জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যানস্টেইনার ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের জনক। ১৮৬৮ সালের ১৪ জুন তিনি জন্মগ্রহন করেন। তিনি ১৯০০ সালে মতান্তরে ১৯০১ সালে ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কার উন্মোচন করে দিয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক বিশাল অধ্যায়। এর আগে রক্তদানের বিষয়টি মোটেও সহজ ছিল না। তিনি ১৯৩০ সালে এবিও ব্লাড গ্রুপ আবিষ্কারের জন্য নোবেল প্রাইজ পান। তার জন্মদিনে তাকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে ১৪ জুন উদযাপন করা হয় বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রক্তের চাহিদা বেশি কিন্তু এসব উন্নয়নশীল দেশেই স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীর সংখ্যা কম। অধিকাংশের মনে রক্তদানের ক্ষেত্রে ‘ভয়’ বাধা হিসাবে কাজ করে। দেশের স্বাধীনতায় রক্ত ঝরানো জাতির কাছে “মোটা সুঁচ” এর অযৌক্তিক ভয় মোটেই কাম্য নয়। প্রত্যেক সুস্থ্য ব্যক্তির উচিত স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসা। কারন নিরাপদ রক্ত সরবরাহের মূল ভিত্তি হলো স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান।

রক্ত মানব দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পূর্ণমাত্রায় রক্ত থাকলে মানব দেহ থাকে সজীব ও সক্রিয়। আর রক্তশূণ্যতা বা এনিমিয়া দেখা দিলেই শরীর অকেজো ও দূর্বল হয়ে প্রাণশক্তিতে ভাটা পড়ে। আর এই অতি প্রয়োজনীয় জিনিসটি কারখানায় তৈরি হয় না। বিজ্ঞানীদের যথাসাধ্য চেষ্টা সত্ত্বেও এখনও রক্তের বিকল্প তৈরি করা সম্ভব হয়নি, নিকট ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে এমনটাও আসা করা যায় না। মানুয়ের রক্তের প্রয়োজনে মানুষকেই রক্ত দিতে হয়, জীবন বাঁচানোর জন্য রক্তদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার রক্তই লাল। এর মধ্যে কোন বিভেদ নেই। মানুষের শরীরে রক্তের প্রয়োজনীয়তা এত বেশি যে, রক্ত ছাড়া কেউ বাঁচতে পারে না। মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে প্রায়ই জরুরী রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়। যেমন- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, দুর্ঘটনায় আহত রোগী, আস্ত্রোপচারের রোগী, সন্তান প্রসব কালে, ক্যান্সার বা অন্যান্য জটিল রোগ, এনিমিয়া, থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, ডেঙ্গু হিমোরেজিক ফিভার ইত্যাদি রোগের কারণে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপন শুরু হয়েছে, যা সফল করতে প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়। ১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোন সুস্থ্য ব্যক্তি যাদের শরীরের ওজন ৪৫ কেজির উপরে, তারা প্রতি চার মাস অন্তর অন্তর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। একজন সুস্থ্য মানুষের শরীরে পাঁচ-ছয় লিটার রক্ত থাকে। এর মধ্যে সাধারণত ২৫০ থেকে ৪৫০ মিলিলিটার রক্তদান করা হয়, যা শরীরে থাকা মোট রক্তের ১০ ভাগের ১ ভাগ। রক্তদান করার সাথে সাথে আমাদের শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। দান করার দু’সপ্তাহের মধ্যেই নতুন রক্ত কণিকা জন্ম হয়ে এই ঘাটতি পূরণ করে। আর প্রকৃতিক নিময়েই যেহেতু প্রতি ৪ মাস পর পর আমাদের শরীরের রেড সেল বদলায়, তাই বছরে ৩ বার রক্ত দিলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না বরং শরীরের লোহিত কণিকা গুলোর প্রাণ ব্যস্ততা আরো বেড়ে যায়।

সামান্য পরিমাণ রক্তদানের মাধ্যমে একটি জীবন বাঁচানো নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ। নিয়মিত রক্তদান করা একটি ভালো অভ্যাস। রক্তদান করা কোন দুঃসাহসিক বা অসম্ভব কাজ নয়, বরং এর জন্য একটি সুন্দর মন থাকাই যথেষ্ট। রক্তদানে শরীরের কোন ক্ষতি হয়ই না বরং নিয়মিত রক্তদান করলে বেশ কিছু উপকারও পাওয়া যায়। যেমন, আপনার এক ব্যাগ রক্তদানে একসংগে তিনজন মানুষের জীবন বেঁচে উঠছে। সে মুহূর্থে আপনার যে মানবিক তৃপ্তি তাকে কখনোই অন্য কোন কিছুর সংগে তুলনা করা সম্ভব নয়। রক্তদাতা রক্তদান করলে জানতে পারেন তিনি কোনো সংক্রামক রোগে ভূগছেন কি না। নিয়মিত রক্তদান করলে রক্তদাতার হার্ট ভালো থাকে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত রক্তদানে রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে যায়। ফলে রক্তদাতার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদির ঝুঁকি কমে যায়। রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ বাড়ে। শরীরে রক্তকণিকা তৈরির কারখানা অস্থিমজ্জা। নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা থেকে নতুন কণিকা তৈরির চাপ থাকে। ফলে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে। এতে যে কোন দুর্ঘটনা বা অন্য কোন কারণে হঠাৎ রক্তক্ষরণ হলেও শরীর খুব সহজেই তা পূরণ করতে পারে। স্বেচ্ছায় রক্তদাতারদের জন্য বরাদ্দ ডোনার কার্ড। ওই কার্ড দিয়ে রক্তদাতা নিজে এবং নিজের পরিবার প্রয়োজনে আজীবন ওই প্রতিষ্ঠান থেকে রক্ত পেতে পারেন। রক্তদান ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। যারা নিজের জীবন বাজী রেখে রক্তদান করে মানুষের জীবন রক্ষা করেন, নিঃশ্বন্দেহে তারা অনেক বড় মনের মানুষ। রক্তদান আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বও বটে। সম্পূর্ণ মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করে, এমনকি ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। প্রত্যেক রক্তদাতাই একেকজন রক্তযোদ্ধা এবং রক্ত দিয়ে পৃথিবীর প্রানস্পন্দনে অবদান রাখতেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।





