Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘উন্নয়নের পাঁচালি’ শোনাতে গিয়ে বিপত্তি!‌ খোদ তৃণমূল কর্মীদের মুখেই চোর-চোর স্লোগান!

তৃণমূল কর্মীদের থেকেই উড়ে এলো ‘চোর-চোর’ স্লোগান। খোদ তৃণমূল বিধায়কের দিকেই কটাক্ষ। একাংশই তাঁকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিলেন। ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচি নিয়ে নারায়ণগড় ব্লকের ৬ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কসবা কমিউনিটি হলে হাজির হয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট। হঠাৎ তাঁকে ঘিরে একদল যুবক ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন। ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে, তা শোনানোর কর্মসূচি নিয়ে নিজের বিধানসভা এলাকাতেই গিয়ে বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল বিধায়ক। দলের কর্মীরাই তাঁকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিলেন। দৃশ্যত অপ্রস্তুত বিধায়ক আর কথা বাড়াননি। ফিরে গেলেন গাড়ি করে। ঘটনাস্থল পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়। তৃণমূল বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট। হঠাৎ তাঁকে ঘিরে একদল যুবক ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের ওই ভিড়ে দেখা যায় তৃণমূলের পতাকাও। ক্ষোভের কারণ বলতে গিয়ে দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করতে থাকেন তৃণমূলের অঞ্চল যুব সভাপতি শেখ বাপি। তাঁর অভিযোগ, বিধায়ক ভোটারদের সম্মান করেননি। মানুষকে পশুর সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর কথায়, ‘‘এই কসবা এলাকা থেকে তৃণমূল লিড পায় ভোটে। কিন্তু প্রকাশ্যেই বিধায়ক বলেছেন, এই এলাকা গোয়ালঘর। ভোটাররা গরু! আজ কী মনে হল সেই গরু আর গোয়ালঘর দেখতে এলেন?’’ বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০২১ সালে বিধায়ক হওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় একবারও যাননি সূর্যকান্ত। এমনকি, তৃণমূলের কোনও কর্মসূচিতেও দেখা যায়নি তাঁকে। আবার ভোট আসছে। তাই বিধায়কও এলাকায় আসা-যাওয়া শুরু করলেন। তৃণমূলের যুব নেতা বলেন, ‘‘আমরা সকলে জমায়েত হয়ে বিধায়ককে প্রশ্ন করি, গরু এবং গোয়ালঘর দেখতে কেন এই গ্রামে এলেন? এখন আমাদের প্রয়োজন হচ্ছে কেন? দলের কাছে অনুরোধ করব, ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই বিধায়ককে যেন আর টিকিট দেওয়া না-হয়। আর উনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে সব অসম্মানের জবাব দেওয়া হবে।’’ বিধায়ক সূর্যকান্ত জানিয়েছেন, তিনি দলীয় কর্মসূচিতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন ‘চিৎকার-চেঁচামেচি’ করেছেন। বিধায়ক বলেন, ‘‘আমাকে অপদস্থ করার চেষ্টা হয়। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে দলের কেউ জড়িত নন। ১০-১৫ জন চিৎকার করেছে। আসলে যারা টাকা কামাতে পারছে না, তারাই স্লোগান তুলেছে।’’

এদিকে, মনিরুলের বিরুদ্ধে এফআইআর! ভাঙচুরে অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক বললেন, জেলে যেতে হলে যাব, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বিডিও অফিসে তাণ্ডব এবং এসআইআরের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল বিধায়ক বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য মনিরুলের নামে থানায় অভিযোগ জানানো হয়নি। বদলে শুক্রবার প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। ঘটনাক্রমে শনিবার জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে মনিরুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পদ্মশিবিরের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হয়ে মনিরুল কেবল সরকারি কাজে বাধাদানই করেননি, তিনি গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও ব্যাহত করার চেষ্টা করেছেন। অন্য দিকে, শুক্রবার এসআইআরের কাজের দায়িত্বে থাকা ইআরও-কে পাঠানো চিঠিতে মনিরুল জানান, নির্বাচন কমিশন, তাদের আধিকারিক এবং ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি সর্বদা সংবিধান মেনে চলেন এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন। তবে কোথাও হয়তো শব্দচয়ন ভুল হয়েছিল। গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসের সামনে যা বলেছিলেন, তা নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা নষ্টের উদ্দেশ্যে বলেননি। ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করাও তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তাঁর নামে এফআইআর দায়ের হয়েছে শুনে ফরাক্কার বিধায়কের উক্তি, “মানুষের জন্য লড়াই করতে গিয়ে যদি জেলে যেতে হয়, তবে যাব। বিজেপি আর নির্বাচন কমিশন এখন আর আলাদা কিছু নয়। কমিশন এখন বিজেপির মুখপাত্র হিসাবেই কাজ করছে।” বিধায়কের এই মন্তব্য কেন্দ্র-রাজ্য প্রশাসনিক সংঘাতকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। কেন কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও প্রশাসন মনিরুলের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘প্রশাসনিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন পুলিশ ব্যবস্থা নিল না, সেটাই তো বড় প্রশ্ন। একটা রাজনৈতিক দলকে কেন এফআইআর করতে হচ্ছে? এটাই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান অবস্থার উদ্বেগের ছবি।” ভরতপুরের বিধায়ক তথা জনগণ উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের আবার অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যৌথ ভাবে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তৃণমূলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ওরা সংখ্যালঘু আবেগ নিয়ে দ্বিচারিতা করছে। আগামী নির্বাচনে এর ফল টের পাবে।” মনিরুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের নিয়ে বিজেপির সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান সুবলচন্দ্র ঘোষের দাবি, “একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে স্বশাসিত সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর বা খুনের হুমকি দেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে ওঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles