Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আইএফএ স্টলের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!‌ কলকাতা বইমেলার থিম দেশ আর্জেন্তিনা, বইতীর্থে বরাদ্দ ১০ কোটি

বইমেলার উদ্বোধনে মমতা। বইতীর্থে বরাদ্দ ১০ কোটি। চলতি বছরে কলকাতা বইমেলার থিম দেশ আর্জেন্তিনা। ওই দেশের দূতও উপস্থিত ছিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বইমেলায় এ বার আসেনি বাংলাদেশ এবং আমেরিকা। এসেছে চিন। ৪৯ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বই মেলায় আইএফএ স্টলের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম, পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরী পরিষেবা মন্ত্রী সুজিত বসু, সাংসদ দোলা সেন। আইএফএ স্টল ঘুরে দেখেন বিধাননগর পুরপ্রধান কৃষ্ণা চক্রবর্তী। নিজের আঁকা ছবির দু’টি প্রদর্শনী করেছিলেন। আর সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ‘সিবিআই (তদন্ত) হয়েছিল’। ৪৯ তম কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনে গিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ঘটনায় তিনি ‘অপমানিত’ হয়েছিলেন বলেও জানান মমতা। কী ভাবে লেখালিখি এবং ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন, সে কথা বলতে গিয়েই প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। পাশাপাশিই ঘোষণা করেন, বইমেলা প্রাঙ্গণেই বইপ্রেমীদের জন্য তৈরি হবে ‘বইতীর্থ’। সে জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। এ বছরে কলকাতা বইমেলার ‘থিম দেশ’ আর্জেন্তিনা। ওই দেশের দূত মারিয়ানো কোসিনো উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বইমেলায় এ বার আসেনি বাংলাদেশ এবং আমেরিকা। কিন্তু এসেছে চিন। মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যে বছর বইমেলায় আগুন লেগেছিল, তখন তিনি রাজ্যের বিরোধীদলে। কিন্তু সে বছরেও তিনি মেলায় উপস্থিত হয়েছিলেন।

মমতা জানান, আগে ‘টুকটাক’ লিখে ফেলে দিতেন তিনি। সুব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁকে সে সব লেখা ফেলে দিতে বারণ করেছিলেন। একই ভাবে শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য তাঁকে আঁকা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মমতার কথায়, ‘‘শুভাদা, শিপ্রা বৌদি (শিল্পীর স্ত্রী) আমার বাড়িতে গিয়েছিলেন। তখন ক্যানভাসে কাজ করছিলাম। তখন শুভাদাই সম্ভবত দোলাকে (রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন) বলেছিলেন, ওকে বারণ করো ফেলতে (ক্যানভাস)। ওর প্রতিটা তুলির টান বোঝা যায়। ও যেন আঁকে। দুটো এগজ়িবিশন করেছিলাম। আমার বিরুদ্ধে সিবিআই হয়েছিল।’’ মমতা বলেন, ‘‘এক পয়সা নিজের জন্য নিইনি। দিয়ে দিয়েছিলাম এনজিও-কে, স্প্যাস্টিক সোসাইটিকে বা সরকারকে। গরিবদের সাহায্য করার জন্য। তাতেও…।’’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘ওই ঘটনার পর থেকে নিজেকে লাঞ্ছিত, অপমানিত মনে হয়েছে।যে সার্কিট হাউসে যাই, ওরা ক্যানভাস রেখে দেয়। এঁকে রেখে আসি। জেলাকেই দিয়ে আসি। ওরা কাজে লাগায়। আমার কাছে কেউ এলে বা বিদেশ সফরে গেলে উপহার দিই। টাকা বেঁচে যায়। রং-তুলির টাকা ম্যানেজ হয়ে যায়। সাংসদ হিসাবে সাত বার জিতেছি। মাসে দেড় লক্ষ টাকা পেনশন নিতে পারি। নিইনি। ১৫ বছর দিল্লি থেকে টাকা নিইনি। এখানেও টাকা নিই না। কয়েক কোটি টাকা সরকারকে দিয়ে দিয়েছি। যারা গালাগাল দেয়, জানে না। আমি গালাগালিকে ভালবাসি। গাল দিলে বুঝতে পারি, কিছু হয়েছে, ভাল কথা বলতে চাইছে, পারছে না। মগজে কারও কারও মরুভূমি রয়েছে। বইতীর্থের কথা বলেছি। আগামী বছর কলকাতা বইমেলা ৫০ বছরে পা দেবে। তখন যাতে এসে দেখতে পাই বই প্রাঙ্গণের সঙ্গে বইতীর্থ।’’

মমতার আঁকা ছবি কে বা কারা কিনেছিলেন, তা নিয়ে তদন্তে নেমেছিল সিবিআই। ছবির ক্রেতাদের ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে ডাক পেয়েছিলেন ব্যবসায়ী শিবাজি পাঁজা। জেরায় বার বার উঠেছিল মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবির প্রসঙ্গ। সিবিআই দাবি করেছিল, ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে শিবাজি মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি কিনেছিলেন। সেই টাকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। সিবিআই দাবি করেছিল, যাঁরা মমতার ছবি কিনেছিলেন, তাঁরা তৃণমূলের মুখপাত্রের অ্যাকাউন্টে টাকা দিয়েছিলেন। কেউ নগদ টাকা দিয়েছিলেন। সেই তালিকায় ছিলেন সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন, রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুন্ডু। ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে হানার সময়ে বাধা পেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল সিবিআই। শীর্ষ আদালতে দু’টি হলফনামা জমা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেখানেও মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবির প্রসঙ্গ উঠেছিল। হলফনামায় সিবিআই দাবি করেছিল, মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা বহু ছবি কোনও বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা কিনেছে বা তার ডিরেক্টর কিনেছেন। মমতার মুখে সেই প্রসঙ্গই ফিরে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় ‘অপমানিত’ হয়েছিলেন তিনি। তাই আর প্রদর্শনী করেন না। তবে ছবি তিনি এখনও আঁকেন। এই বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রীর লেখা ন’টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এ নিয়ে তাঁর মোট ১৬২টি বই প্রকাশিত হল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ন’টি বইয়ের মধ্যে একটির বিষয় এসআইআর। ২৬টি কবিতা সংবলিত সেই বইয়ের নাম ‘স্যার ছাব্বিশে ছাব্বিশ’। মমতা জানান, হেলিকপ্টারে জেলা সফরে যাওয়ার ফাঁকে তিনি কবিতা লিখেছেন। এখনও যে তিনি হাতে লিখতেই ‘স্বচ্ছন্দ’, জানিয়েছেন সে কথাও। সল্টলেকে বইমেলা প্রাঙ্গণে ‘বইতীর্থ’ করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। বইমেলার আয়োজক গিল্ডকে ‘বইতীর্থ’-এর জন্য সরকারি ভাবে একটি আবেদন জানাতেও বলেন মমতা। লেখক স্বপ্নময় চক্রবর্তীর হাতে গিল্ড এবং প্রকাশনী সংস্থার ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট’ পুরস্কার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরে ৪৯ বার হাতুড়ি ঠুকে ৪৯তম কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করেন। মেলাকে ‘দুষ্টু লোকদের’ হাত থেকে বাঁচানোর জন্য গিল্ডকে বিমা করানোরও পরামর্শ দেন। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, প্রযুক্তির যুগে বই পড়ার ঝোঁক কি একটু কমেছে? তার পরে নিজেই জানিয়ে দেন, কমেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles