Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

“উনি বাবা এবং স্বামী হিসাবে ব্যর্থ!‌” বাবার জন্য কোনও মেয়েকে থানায় যেতে হলে কি সে আর ঠিক থাকে!

“উনি বাবা এবং স্বামী হিসাবে ব্যর্থ।” থানা থেকে বেরিয়ে রীতিমতো কেঁদে ফেলেছিলেন নিয়াসা।
এত বিতর্কের মাঝে এখনও চুপ হিরণ। এখনও পর্যন্ত তাঁর তরফ থেকে কোনও মন্তব্য মেলেনি। তা হলে এর পরে কী ভাবে এগোবেন হিরণের প্রথম স্ত্রী? এখনই এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না তিনি। কারণ, সবটাই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অনিন্দিতা বলেন, “বাবার জন্য কোনও মেয়েকে থানায় যেতে হলে কি সে আর ঠিক থাকে! এত সাংবাদিক, এত প্রশ্ন, ক্যামেরার আলো— এই পরিস্থিতিতে খুবই মনখারাপ ওর। কলেজে যেতে পারছে না। ওকেও তো অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে ওর বন্ধুরা সবাই পাশে আছে। ফোন করেছে, কথা বলেছে। আগামিকাল থেকে কয়েকটা দিন কলেজ ছুটি। তার পর থেকে ও আবার কলেজে যাবে। এই পরিস্থিতিতে পড়াশোনার কোনও ক্ষতি হোক, তা কোনও ভাবেই চায় না আমার মেয়ে।” ২৫ বছরের সংসার, ১৯ বছরের মেয়ের কথা প্রথম থেকেই বলছেন অনিন্দিতা। হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করেছিলেন তাঁদের মেয়ে নিয়াসা। আচমকা পরিবর্তিত এই পরিস্থিতি কী ভাবে সামলাচ্ছেন নিয়াসা? এই মুহূর্তে মধ্য কলকাতার নামী কলেজের মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী তিনি। কলেজে কি যাচ্ছেন? আলোচনায় বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে বুধবার পুলিশের দ্বারস্থ হন মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায় এবং প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়।

হিরণের বিয়ে নিয়ে বিতর্ক চলছে সর্বত্র। তবে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে নীরব অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়। প্রতিক্রিয়া আসেনি তাঁর দলের নেতৃত্ব থেকেও। একের পর এক অভিযোগ তুলছেন বিজেপি বিধায়ক হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। পাল্টা উত্তর দিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরিও। গত ৪৮ ঘণ্টায় এই একটা বিষয়ে নিয়ে কার্যত তোলপাড় সর্বত্র। হিরন্ময় ওরফে হিরণের বিয়ে বিতর্ককে কী ভাবে দেখছেন শতাব্দী রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, ঊষসী চক্রবর্তীরা? অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী বলেছেন, “প্রতিটা বিষয় নিয়ে আমাদের খাপ-পঞ্চায়েত বসানো বন্ধ করা উচিত। এই বিষয়ে কেন কেউ মতামত দেবে? এটা তো একান্তই ওঁদের ব্যক্তিগত বিষয়। পরিচিত নাম মানেই তাঁর জীবন নিয়ে খোরাক করে ফেলায় আমার সায় নেই।” অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে নিজের মতামত দিতে একেবারেই রাজি নন। তিনি বললেন, “আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। কিন্তু বিয়ের বিষয়টা তো একজনের খুবই ব্যক্তিগত বিষয়। তাই কোনও মন্তব্য করতে চাই না।” তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় আবার ভেবেছিলেন হিরণকে বিয়ের শুভেচ্ছাও জানাবেন। কিন্তু তখনও তিনি জানতেন না, হিরণের আগের বিয়ের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। শতাব্দী বলেন, “ওদের সাংসারিক জীবন কী ছিল সেটা আমার জানার কথা নয়। বাইরে থেকে আমার কোনও মন্তব্য করাই উচিত নয়। আমি হিরণকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। কিন্তু ওর স্ত্রীকে চিনি না। দু’জনে আমার বন্ধু হলে, তা-ও আমার মতামত দেওয়ার একটা জায়গা থাকত। ওদের একটা বড় মেয়ে আছে। ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি মানে দু’পক্ষেরই অসম্মান। আর সমাজমাধ্যমেও ওদেরকে নিজেদের মতো ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ভেবেছিলাম হিরণকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানাব। তখনও আমার ধারণা ছিল না যে, ওর বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। আমি জানতাম না। তবে এই বিষয়ে কারও কোনও মতামত দেওয়া উচিত নয় বলেই আমার মনে হয়।” অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদের মতে, হিরণদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশি কাটাছেঁড়া না করাই ভাল।

প্রথমবার মুখ খুলে বোমা ফাটিয়েছেন বিজেপির তারকা বিধায়কের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি। নবপরিণীতা সাফ জানিয়েছিলেন, “৫ বছর ধরে হিরণের সঙ্গে আছি। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা তো সবই জানত।” এহেন মন্তব্যের পরই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জানা সত্ত্বেও কেন তখন মুখ খোলেননি কিংবা আইনিভাবে বিয়ে ভাঙেননি প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়? এবার সেই কৌতূহলেরই অবসান ঘটালেন তিনি। অনিন্দিতা জানিয়েছেন, “আর্থিকভাবে আমি হিরণের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। নিজেও সেরকম রোজগার করতাম না। পুলিশে অভিযোগ দায়েরের সময়েও এই বিষয়টা আমি জানিয়েছি। আর্থিক দিকটা নিয়েই আশঙ্কায় ভুগছিলাম। তবে হিরণ-ঋতিকার সম্পর্কের বিষয়টা নিয়ে যখন প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমি হিরণের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে মেসেজে জানিয়েছিল- ‘কিছুটা সময় দাও।’ তারপর আর ওর দেখা করার সময় হয়নি, আর বাকিটা তো এখন সকলেই জানেন!” এখানেই অবশ্য থামেননি অনিন্দিতা। স্বামীর নতুন স্ত্রী ঋতিকার বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি। খড়্গপুরের ‘মাচো’ বিধায়কের প্রথম স্ত্রী’র মন্তব্য, “যা বুঝলাম, টাকা দিয়েই সবটা সম্ভব। এই বাচ্চা মেয়েটা হিরণের পিছনে ঘুরছে। আজ ভিয়েতনাম, কাল ব্যাংকক যাচ্ছে। ও তো এই জীবনযাত্রাতে অভ্যস্তই নয়। খুবই সাধারণ বাড়ির মেয়ে। ঋতিকার বাবা হয়তো পাঁচ হাজার টাকা উপার্জন করেন! আর আমি একটা সংসার করছিলাম। আমাদের মেয়েও রয়েছে। অন্তত ওর ভবিষ্যতের দিকটা তো আমাকে ভাবতেই হবে। মেয়েকে যেন সবকিছু গুছিয়ে দিতে পারি, সেটাই চেয়েছিলাম। শুনেছি, মেয়েটি হিরণের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস চেয়েছে। সব নিয়ে চলে যাবে তা তো হয় না! আমাকে আমার মেয়ের দিকটা ভাবতেই হবে।” থানায় এফআফআর দায়েরের পর অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের এহেন প্রতিক্রিয়ায় কৌতূহল শুরু হয়েছে, তাহলে কি দ্বিতীয় বিয়ের পর হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছেন দুই স্ত্রী?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles