কল্যাণীতে রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার ম্যাচে ফোকাস ছিল অনুষ্টুপ মজুমদারের উপরে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছেন তিনি। তাই এই ম্যাচে বাংলার অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের থেকে বড় ইনিংসের আশায় ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে সেই আশা পূরণ না হলেও হতাশ করেননি বাংলার ব্যাটাররা। অনুষ্টুপের শততম ম্যাচে দুরন্ত সেঞ্চুরি এল সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাটে। ১৪০ রানে অপরাজিত তিনি। ওপেনে নেমে ৮১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেললেন ক্যাপ্টেন অভিমন্যু ঈশ্বরন। সার্ভিসেসের বোলারদের বিরুদ্ধে দাপট দেখিয়ে প্রথম দিনের শেষে চার উইকেটে ৩৪০ রান তুলল বাংলা। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সার্ভিসেস। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে কার্যত ভুল প্রমাণ করেন বাংলার ব্যাটাররা। ওপেনে নেমে ১৫১ রানের জুটি গড়েন অভিমন্যু ঈশ্বরন ও সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। ১৫২ বলে ৮১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে আউট হন অভিমন্যু। ৯টি চার ও একটি ছক্কা মারেন। এর পরে দ্রুত উইকেট হারায় বাংলা। মাত্র ৯ রান করে আউট হন সুদীপ কুমার ঘরামি। তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ অনুষ্টুপ মজুমদার। শুরুটা ভালো করলেও ৩৩ বলে ২৭ রান করে ফেরেন। একটা প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। চতুর্থ উইকেটে তাঁর সঙ্গে জুটি গড়েন শাহবাজ আহমেদ। ৩৮ বলে ৩৮ রান করে ফেরেন শাহবাজ। হাল ছাড়েননি সুদীপ। সেঞ্চুরি করেও লড়াই চালিয়ে যান তিনি। এই মরশুমে রঞ্জিতে ভালো ছন্দে আছেন। সার্ভিসেসের বিরুদ্ধেও বজায় রাখলেন সেই ছন্দ। প্রথম দিনের শেষে ২২৬ বলে ১৪০ রানে অপরাজিত রইলেন সুদীপ। ১২টি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন এই ইনিংসে। তাঁর সঙ্গে ক্রিজ়ে রয়েছেন সুমন্ত গুপ্ত। ৪৫ বলে ৩১ রানে অপরাজিত তিনি। দিন শেষে চার উইকেটে ৩৪০ রান তুলেছে বাংলা।

সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে উইকেটকিপার ব্যাটার হিসাবে খেলছেন শাকির হাবিব গান্ধী। সুমিত নাগের পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে সায়ন বসাককে। চার পেসারে ৬ পয়েন্টের স্বপ্নে বাংলা। কল্যাণীতে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে সার্ভিসেসের মুখোমুখি বাংলা। এই ম্যাচ অনুষ্টুপ মজুমদারের কাছে স্পেশ্যাল। কারণ, এটা তাঁর কেরিয়ারে শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। সেই বিশেষ মাইলফলকের আগে অনুষ্টুপকে কল্য়াণীতে গিয়ে সংবর্ধিত করলেন সিএবি পদাধিকারীরা। বুধবার বাংলা দলের অনুশীলনের পর অনুষ্টুপকে ১০০ নম্বর লেখা বিশেষ জার্সি উপহার দেন সিএবি সচিব বাবলু কোলে। শততম ম্যাচ উপলক্ষে অনুষ্টুপকে বিশেষ টুপি দেন সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। গোটা বাংলা দল এই সময় উপস্থিত ছিল। দলের তরফেও সতীর্থদের স্বাক্ষর করা একটি জার্সি তুলে দেওয়া হয় অনুষ্টুপের হাতে। কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলেন, ম্যাচের শেষ দিন অনুষ্টুপকে কিছু উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মরশুমেই লিস্ট এ ক্রিকেটে শততম ম্যাচ খেলেছেন অনুষ্টুপ। এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শততম ম্যাচ খেলতে নামছেন। দলের বিপদের মুহূর্তে যেভাবে অনুষ্টুপ বারবার পরিত্রাতা হয়ে ওঠেন, সে কথা মনে করিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। বাংলার হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা অনুষ্টুপের ফিটনেস, ধারাবাহিকতার প্রশংসা করে বলেন, শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এক অসাধারণ কীর্তি। অনুষ্টুপের কেরিয়ারে তাঁর বাবা-মায়ের ভূমিকার কথাও মনে রাখতে হবে।’ অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ বলেন, শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ অসাধারণ কীর্তি। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে অনুষ্টুপ মজুমদার একজন বড় ম্যাচ উইনার। চাইব এভাবেই তিনি খেলা চালিয়ে যান। মহম্মদ সামির কথায়, ছোটবেলা থেকে সকলের স্বপ্ন থাকে রঞ্জি ট্রফি খেলার, রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার। কিন্তু অনুষ্টুপ যে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে ২১ বছরের বেশি সময় ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে চলেছেন তাঁকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। অনুষ্টুপ বলেন, ক্লাব, সিএবি, বাংলার নির্বাচকরা আমার উপর আস্থা দেখিয়েছেন, আশা করি তাঁদের প্রত্যাশা কিছুটা রাখতে পেরেছি। ২০০৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মাঠে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম খেলি। প্রথম ডিভিশনে কাস্টমস ক্লাবে প্রথম খেলার পর কালীঘাটের হয়ে খেলেছি। সকলের আশীর্বাদ পেয়েছি বলেই আজ এখানে দাঁড়িয়ে।

এদিকে, দু’বলে শূন্য রানে আউট শুভমন! রঞ্জিতে নেমেও রান পেলেন না গিল, ব্যর্থ জাদেজাও। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে নেমেও হতাশ করলেন শুভমন গিল ও রবীন্দ্র জাদেজা। পাঞ্জাবের হয়ে দু’বলে শূন্য রানে আউট হলেন শুভমন। জাডেজা করলেন ৭ রান। শুভমন গিল ও রবীন্দ্র জাদেজা ব্যর্থ। শুভমনের নেতৃত্বে ঘরের মাটিতে প্রথম বার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক এক দিনের সিরিজ় হেরেছে ভারত। সেই সিরিজ়ে জাডেজার পারফরম্যান্সের সমালোচনা চলছে। ব্যাটে-বলে ব্যর্থ তিনি। এ বার ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে নেমেও হতাশ করলেন। রঞ্জিতে শুভমনের পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছে জাদেজার সৌরাষ্ট্র। প্রথম ইনিংসে ১৭২ রানে অল আউট হয়ে যায় সৌরাষ্ট্র। তাদের হয়ে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন জাদেজা। ছ’বলে ৭ রান করে জস ইন্দরের বলে হরপ্রীত ব্রারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাদেজা। একটি চার মারেন। সৌরাষ্ট্রের ইনিংসে ধস নামান হরপ্রীত। আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে খেলা স্পিনার নেন ৬ উইকেট। সৌরাষ্ট্রের হয়ে জয় গোহিল ৮২ রান করেন। প্রেরক মাঁকড় করেন ৩২ রান। জবাবে পঞ্জাবের ব্যাটিং আক্রমণও সমস্যায় পড়ে। ওপেনার প্রভসিমরন সিংহ ৪৪ রান করলেও তিনি ফেরার পর নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকে। জাতীয় দলে টেস্টে চার নম্বরে নামলেও পঞ্জাবের হয়ে পাঁচ নম্বরে নেমেছিলেন শুভমন। পার্থ ভূতের দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। ১৩৯ রানে অল আউট হয়ে যায় পাঞ্জাব। পার্থ একাই ৫ উইকেট নিয়েছেন। বল হাতে ২ উইকেট পেয়েছেন জাডেজা। ২০২৫ সালেই ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক হয়েছেন শুভমন। তার পর এক দিনের দলেরও অভিনায়কত্ব পেয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালে টেস্টে সর্বাধিক রানের মালিক শুভমন। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছেন না তিনি। টি-টোয়েন্টি দলে তাঁকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল। কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে ব্যর্থ হওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি শুভমন। এ বার ঘরোয়া ক্রিকেটেও রান পেলেন না। এক দিনের ক্রিকেটে জাদেজার ফর্মও খুব খারাপ। টেস্টে ভাল খেললেও সাদা বলের ক্রিকেটে রান করতে পারছেন না জাদেজা। উইকেটও পাচ্ছেন না। ফলে মাঝের ওভারে সমস্যায় পড়ছে ভারতীয় দল। জল্পনা শুরু হয়েছে, এ বার এক দিনের ক্রিকেট থেকেও অবসর নিতে পারেন।





