বাংলা: ৪ (রবি, সায়ন, আকাশ, আকিব)
নাগাল্যান্ড: ০
নাগাল্যান্ডকে চার গোলে হারিয়ে সন্তোষ ট্রফির যাত্রা শুরু বাংলার। রবি হাঁসদা, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়দের দুরন্ত ফুটবল দেখা গিয়েছে প্রথম ম্যাচেই। বঙ্গ ব্রিগেডের সামনে কোনও জবাব ছিল উত্তর-পূর্বের দলের সামনে। জয়ের এই কৃতিত্ব ফুটবলারদেরই দিয়েছেন কোচ সঞ্জয় সেন। বাংলার চার গোলে অবদান রেখেছেন রবি হাঁসদা, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, আকাশ হেমব্রম, আকিব নবাবরা। নাগাল্যান্ডকে হারিয়ে সন্তোষ অভিযান শুরু করল বাংলা। সঞ্জয় সেনের চিন্তা ছিল, হোটেল থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব। কারণ হোটেল থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিমি। ম্যাচের আগে এই দীর্ঘ যাত্রা পেরিয়েও ক্লান্তিহীন ফুটবল উপহার বঙ্গ ব্রিগেডের। ম্যাচের শুরুতেই রবি হাঁসদার গোলে এগিয়ে যায় বাংলা। এরপর আক্রমণের সিংহভাগই থাকে বঙ্গ ব্রিগেডেরই দখলে থাকে। ৩৩ মিনিটে দুরন্ত হেডে গোল করে ব্যবধান বাড়ান সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩৭ মিনিটে সুযোগ পেয়ে যায় নাগাল্যান্ডও। অনবদ্য সেভ করেন বাংলার গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যান সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। দ্বিতীয়ার্ধে চরিত্র বদল হয়নি ম্যাচের। বরং আরও ধারাল ফুটবল উপহার দেন বাংলার ফুটবলাররা। ৪৮ মিনিটে আকাশ হেমব্রমের গোলে স্কোর লাইন ৩-০। এরপর ম্যাচের রাশ থাকে বঙ্গ ফুটবলারদের অনুকূলেই। মুহুর্মুহু আক্রমণে তখন কার্যত ছত্রভঙ্গ অবস্থা নাগাল্যান্ডের। উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্যের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন আকিব নবাব। শেষপর্যন্ত ৪-০ গোলে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে পুরো পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলার ফুটবলাররা।
ম্যাচ জিতেও ফেডারেশনের অব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন। ম্যাচের আগে সঞ্জয় সেনের চিন্তা ছিল, হোটেল থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব। কারণ হোটেল থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিমি। বাংলা দল রয়েছে মানকাটায়। অসমের ডিব্রুগড় জেলায়। খেলতে যেতে হয়েছে লখিমপুর জেলার ঢেকুয়াখানায়। ম্যাচের আগে এই দীর্ঘ যাত্রা পেরিয়েও ক্লান্তিহীন ফুটবল উপহার দিয়ে অনবদ্য জয় পেয়েছে বঙ্গ ব্রিগেড। সঞ্জয় সেন বলেন, “পুরোটাই ছেলেদের কৃতিত্ব। একটা-দু’টো ভুলভ্রান্তি হলেও আমাদের ছেলেরা ৯০ মিনিট নিখুঁত খেলেছে। স্কোর লাইন ডবল হতে পারত। তবে সব সময় তো আর গোল হয় না। ওদের অক্ষরে অক্ষরে যা বলা হয়েছে, তা ওরা পালন করার চেষ্টা করেছে। আড়াই ঘণ্টার পথ পেরিয়ে ম্যাচ খেলা চারটিখানি কথা নয়। যাতায়াত নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা পথ পেরিয়ে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার খেলতে হবে। এটা মুখে কথা নাকি? এভাবে ফুটবলটাকে কল্যাণ চৌবে শেষ করে দিচ্ছে। তুমি ধরো মেদিনীপুর থেকে দিঘা যাচ্ছ। পথিমধ্যে ধানখেতে মাঠ বসিয়ে দিলে যেমন হয়, এটাও অনেকটা তেমন। ওখানে কিচ্ছু নেই। পঞ্চায়েত এলাকায় মাঠ করা হয়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মাঠের পাশাপাশি কোনও হোটেল নেই। সেই সুযোগও নেই। কিছু করার নেই। এই নিয়েই খেলতে হবে। তাছাড়া লোকাল বাসে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে পা ছড়ানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা পর্যন্ত নেই। কী করব, এসব নিয়েই খেলে যেতে হবে। অজুহাত তো আর দেওয়া যাবে না।”





