বহু বছর ধরে চার দেওয়ালে বন্দি। জেলের মধ্যেই কেটে যায় দিন আর রাত। চার দেওয়াল থেকে বেরিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হলেন কয়েকজন কারাবন্দি। ময়দানে গঙ্গাসাগরের একটি ক্যাম্পে গিয়ে করলেন খাবার বিতরণ। সকলেই একাধিক অভিযোগে জেলবন্দি। অনেকে আবার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। তবে তাঁরা সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান। মানুষের জন্য কাজ করেই নতুন মানুষ হতে চান। ময়দানে গঙ্গাসাগরে পুন্যার্থীদের জন্য হওয়া ক্যাম্পে খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করলেন। গঙ্গাসাগরে পুন্যার্থীদের সাহায্যে জন্য বসেছে ক্যাম্প। সেগুলির মধ্যেই একটি হচ্ছে অবধূত দেবীদাস সেবা সংস্থান। এডিজি (কারা) লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা জানান, তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। গঙ্গাসাগরের যাত্রীদের সবরকমভাবে সাহায্য করে এই প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে কারা দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে এবার কারাবন্দিদের মধ্যে কয়েকজন সাগরযাত্রীদের সেবা করেন। তাঁদের অনুরোধে সাড়া দেয় কারা দপ্তর। রীতিমতো অ্যাপ্রোন পরে ও হাতা, খুন্তি হাতে নিয়ে সাধুসন্ত ও তীর্থযাত্রীদের খাবার দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কারাবন্দিরা। হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আনন্দের সঙ্গেই খাবার বিতরণ করেন। কারাবন্দিরা জানান, এতে যেমন তাঁদের পুন্য অর্জন হচ্ছে, তেমনই এই কাজ করে আনন্দ পাচ্ছেন। বহু বছর ধরে তাঁরা কোনও মেলা বা একসঙ্গে এত মানুষ দেখেননি। চার দেওয়ালের মধ্যেই বন্দি থাকতে হয় তাঁদের। দিন, রাত কেটে যায় একই রুটিনে। সেখানে এতদিন পর মেলায় আসা ও তার সঙ্গে মানুষের সেবা করা অত্যন্ত আনন্দ দিচ্ছে বলে জানান কারাবন্দিরা।
হবু জামাইয়ের পরামর্শে অসুস্থ মালিকের আলমারির লকার থেকে গয়না চুরি করে ভাবী শাশুড়ি। এমনকী, সুযোগ বুঝে তুলে নেয় কয়েক লাখ টাকাও। বাড়ির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতেই দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় ওই বাড়িরই পরিচারিকার হবু জামাই রোহন বল। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২০১৪ সাল থেকে স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভুগছেন বাড়ির মালিক। তখন থেকেই তাঁর দেখভাল করত নমিতা ভট্টাচার্য নামে এক পরিচারিকা। ২০২৪ সালে হাসপাতালে ভর্তি হন ওই রোগী। বাড়িতে সবসময় কেউ থাকতেন না। তাই পরিবারের অন্যরাও নমিতার উপরই তাঁর আর্থিক লেনদেনেরও ভার দেন। হাসপাতালের বিল মেটানো থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের লেনদেনেও দায়িত্ব নেয় নমিতা। বাড়ির প্রৌঢ় মালিক শুধু চেকে সই করে দিতেন। চেকে টাকার সংখ্যা লিখে তা তুলে নিয়ে আসত নমিতাই। বাড়ির লকারের আলমারির চাবিও ছিল নমিতার কাছে। এর মধ্যেই মেয়ের বিয়ের সময় হয়। নমিতার মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল রোহন বল নামে ওই যুবকের। মেয়ের বিয়ের জন্য লাগবে খরচ। সেই খরচ নিয়ে মেয়ে আর হবু জামাইয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসে নমিতা। আর সেই উপায় বাতলে দেয় হবু জামাই রোহন। সে ভাবী শাশুড়িকে পরামর্শ দেয়, সুযোগ বুঝে বাড়ি থেকে টাকা ও গয়না চুরি করতে। প্রথমে নমিতা দোনামনা করলেও পরে রাজি হয়ে যায়। লকারের চাবি তার কাছে থাকার কারণে সে আলমারির লকার খুলে ৬৫ গ্রাম সোনার গয়না হাতিয়ে নেয়। তা তুলে দেয় হবু জামাইয়ের হাতে। ব্যাঙ্কে গিয়ে মালিকের সই করা চেক নমিতা রোহনকে দেয়। রোহন ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নেয় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু কিছুটা সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর ব্যাঙ্ক থেকে মেসেজ পান। জানতে পারেন, তাঁর অজান্তেই তুলে নেওয়া হয়েছে টাকা। বাড়ি ফিরে দেখেন, আলমারি থেকে উধাও সোনার গয়না। পরিচারিকাকে প্রশ্ন করার পরই উধাও হয়ে যায় সে। তিনি পাটুলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ব্যাঙ্কের সিসিটিভির ফুটেজ ও পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তদন্ত করতে শুরু করে। তাতেই রোহন বলের ঠিকানা খুঁজে পান পুলিশ আধিকারিকরা। রোহনকে গ্রেপ্তার করে তার ভাবী শাশুড়ির সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





