Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘ভারতের সেরা পর্যটক বান্ধব রাজ্য’!‌ মুকুটে নয়া পালক, শিরোপা পেল সিকিম

সিকিমের মুকুটে আরও একটি পালক। এবার ‘ভারতের সেরা পর্যটক বান্ধব রাজ্য’ সম্মান পেল এই পাহাড়ি রাজ্য। শিলিগুড়ির একটি হোটেলে আয়োজিত তিনদিনের বেঙ্গল ট্র্যাভেল মার্ট ২০২৬-এ ওই সম্মান জয় করে নিল সিকিম। রবিবার সন্ধ্যায় সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রেরণা চামলিং সম্মান গ্রহণ করেন। ৯ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ছাড়াও অংশগ্রহণ করে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড এবং ভুটান সরকারের পর্যটন বিভাগ। সিকিম সরকারের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবেশবান্ধব নীতি, আতিথেয়তার মান, পর্যটন শিল্পের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের উদ্যোগের নিরিখে ওই সম্মান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বেঙ্গল ট্র্যাভেল মার্ট ২০২৬ পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন বাণিজ্য ইভেন্ট। ওই অনুষ্ঠানে ১৬০টিরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশগ্রহণ করে। ছিলেন ভারত ও বিদেশের পর্যটন স্টেক হোল্ডার, নীতিনির্ধারক, ক্রেতা-বিক্রেতারা। পাশাপাশি নেপাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুর অ্যান্ড ট্র্যাভেল এজেন্টস এবং হোটেল অ্যান্ড রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ভুটান-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বেঙ্গল ট্র্যাভেল মার্ট-এর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জানান, ভারতের সেরা পর্যটক বান্ধব রাজ্যের স্বীকৃতি পর্যটন উন্নয়ন, পর্যটকদের আপ্যায়ন, স্থায়িত্ব এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক পর্যটন শিল্প বিকাশের ভাবনা ও চেষ্টাকে উৎসাহিত করবে। সিকিম পর্যটন শিল্পে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫ জুড়ে ১৭.১২ লক্ষেরও বেশি পর্যটক ওই রাজ্য ভ্রমণে গিয়েছেন। ২০২৪ সালে পর্যটক সংখ্যা ছিল ১৬.২৫ লক্ষ। ২০২৫ সালে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটকদের সংখ্যা ৯৫ হাজারের বেশি ছিল। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার। ২০২৬ সালের শুরু থেকে প্রকৃতি যেন সিকিমে তুষারপাত ঢেলে দিয়েছে। তুষারপাতের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগের আশায় পর্যটকের ভিড় উপচে পড়েছে। উত্তর সিকিমে ঠাই নেই দশা। পূর্ব সিকিমের নাথু-লা পাস ও ছাঙ্গু উপত্যকাতেও ভিড় বেড়েছে। জানুয়ারি মাস জুড়ে সেখানে ভিড় থাকার সম্ভাবনা বেশি। স্বভাবতই নতুন বছরেও পর্যটন শিল্পে রেকর্ড ভাঙার খেলা চালিয়ে যেতে পারে সিকিম। পর্যটন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, অক্টোবরের হড়পা বানের পর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের ফলে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। নাগা-লাচুং রুট চালু হওয়ায় পর্যটকদের বুকিং উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। উত্তর সিকিমের পর্যটন সম্ভাবনা আশাব্যাঞ্জক। লাচেন রুটের তারাম চু সেতুর কাজ শেষের পথে। ফেব্রুয়ারিতে চালু হবে। এটা চালু হলে লাচেন এবং গুরুদোংমার হ্রদ সম্পূর্ণরূপে পুনরায় খোলার পথ মসৃণ হবে। পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে।

পাশের রাজ্য সিকিম ‘ভারতের সেরা পর্যটক বান্ধব রাজ্য’ সম্মান পেয়েছে। সেসময় দার্জিলিংয়ে পর্যটকদের গাড়িতে হামলার ঘটনা চলছে! প্রশাসনের নিরাপত্তার আশ্বাস সত্ত্বেও রাতে জোড়বাংলোয় দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতার একটি ট্যুরিস্ট বাস ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ। গাড়ির চালক উত্তম রায় জোড়বাংলো থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, “এটা মেনে নেওয়া যায় না। অনেক পরিশ্রম করে দার্জিলিংয়ে পর্যটন শিল্প প্রসারের কাজ চলছে। এর মধ্যে কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করছে। এভাবে চললে পর্যটকরা আসতে চাইবে না। ঘটনা শোনার পরই আমি জিটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কড়া পদক্ষেপের জন্য অনুরোধ করেছি।” চলতি মরশুমে পর্যটকদের ভিড় রয়েছে শৈলশহরে। দার্জিলিংয়ের অফবিট জায়গাগুলিতেও পর্যটকদের যথেষ্ট উপস্থিতি রয়েছে। এই আবহে পর্যটকদের গাড়িতেই হামলা ! ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে পর্যটকদের একাংশের মধ্যেও। পাহাড়ের পর্যটনেও এর প্রভাব আগামী পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। ৪ জানুয়ারি দার্জিলিংয়ে একদল পর্যটককে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। দার্জিলিংয়ের ঘুম মনাস্ট্রি এলাকার ওই ঘটনায় রাস্তার পাশে দাঁড়াতে কয়েকজন ছুটে এসে পর্যটকদের গাড়ি ঘিরে ধরেন। পর্যটক নামানোর আগে চালককে গাড়ি ঘুরিয়ে নিতে চাপ দেয়। এরপর চালক পর্যটকদের না নামিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে শিলিগুড়ি ফিরে যান। রবিবার রাতে কলকাতা থেকে পর্যটকদের নিয়ে আসা বাসে হামলা চলে। দু’জন একটি ছোটগাড়িতে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঢিল ছুড়ে গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়! কালিম্পং ঘুরে পর্যটক দলটি রাতে দার্জিলিং নেহরু রোডের একটি হোটেলে উঠেছিল। পার্কিংয়ের জায়গা না পেয়ে চালক প্রথমে লেবংয়ে যান। সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ে স্থানীয়রা আপত্তি জানালে চালক জোড়বাংলোয় বনদপ্তরের অফিসের সামনে বাস রাখেন। কিছুক্ষণের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের চালকদের গাড়িতে পর্যটকদের পাহাড়ে ঘোরানোর দাবিতে কিছুদিন থেকে আন্দোলনে নেমেছে পাহাড়ের চালকেরা। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ১৬ জানুয়ারির পরে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু আশ্বাসই সার। গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা থামছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles