Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পশ্চিম সিকিমের ছোট্ট দুই গ্রাম হি-পাতাল আর ছায়াতাল!‌ পাহাড়-মেঘ আর নির্জনতার খোঁজে, পাহড় ঘেরা স্বল্পচেনা দুই ঠিকানায়

পাহাড় মানে যাঁদের কাছে নৈঃশব্দেই শব্দ খোঁজা, তাঁরা চলুন পশ্চিম সিকিমের ছোট্ট দুই গ্রামে। হি-পাতাল আর ছায়াতাল। মেঘ কথা বলে সর্ব ক্ষণ। কখনও যদি তাদের মান-অভিমান চলে, তখন মেঘ চলে যায় দূরে। ঠিক তখনই উঁকি দেয় রোদ। সূর্যালোকে ঝলমলিয়ে ওঠে পাহাড়গুলি। দেখতে একইরকম, কিন্তু একটু ভাল করে নজর করলে বোঝা যাবে, তার মধ্যেও রয়েছে রঙের পরত। হোক না সবুজ। সব রং কি একই হয়? নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে হি-পাতালের দূরত্ব ১৫১ কিলোমিটার। পেলিং থেকেও জায়গাটি খুব বেশি দূর নয়। তবে পেলিংয়ের মতো হোটেল, রিসর্টের বাড়বাড়ন্ত নেই এখানে। বরং পাহাড়, বিচিত্র রকম পাখি, সবুজের সমারোহ মন ভাল করে দেয়। জায়গাটি আর পাঁচটা পাহাড়ি গ্রামের মতোই। তবে তার মধ্যেও নিজস্বতা রয়েছে। দেখার চোখ থাকলে তা খুঁজে পাওয়া যায়। ব্যস্ত জীবন থেকে বেরিয়ে, পাহাড়ি গ্রামে নরম রোদ গায়ে মেখে যদি একটি দিন আলস্যে কাটিয়ে দেওয়ার বাসনা থাকে, তবে এই স্থান জুড়ে নিতেই পারেন ভ্রমণ তালিকায়। দেখার মতো ট্যুরিস্ট স্পট নেই। তবে গাড়ি নিয়ে পাহাড়ি রাস্তায় বেরিয়ে পড়লে দেখতে পাবেন পাহাড়, খাদ, গাছ, মেঘের কত রকম রূপ। নির্জন স্থানে পাখির কলকাকলি ছাড়া তেমন শব্দ কানে যাবে না। আর প্রকৃতি সদয় হলে দেখা মিলবে কাঞ্চনজঙ্ঘার। দেখতে পাবেন স্লিপিং বুদ্ধ। কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাবরু, রাথং, পান্ডিম-সহ বিরাট তুষারশৃঙ্গশ্রেণির নামকরণ হয়েছে এ ভাবেই, ঠিক যেন বুদ্ধ ঘুমিয়ে রয়েছেন।

হাতে সময় থাকলে চড়াইপথ বেয়ে খানিকটা উপরে উঠে দেখে নিন গ্রামের বৌদ্ধ মঠ। গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে নিতে পারেন হি-খোলা ওয়াটার পার্ক, সিংশোর ব্রিজ, উত্তরে গ্রাম, ডেনটাম চিজ ফ্যাক্টরি ইত্যাদি স্থান। হি-পাতাল থেকে হেঁটেই চলে যাওয়া যায় ছায়াতাল। তবে সঙ্গে গাড়ি থাকলে চলুন তাতেই। ‘তাল’ মানে জলাশয়। ‘ছায়া’ নামে ছোট্ট একটি হ্রদকে কেন্দ্র করে এই গ্রাম। তার নামেই ছায়াতাল। নির্জন এই জায়গায় প্রকৃতির শোভা উপভোগ করতে করতেই কাটিয়ে দেওয়া যায় ২টি দিন। ছায়াতাল পায়ে হেঁটেই ঘুরতে পারেন। আবার ছায়াতাল থেকে ওখরে এসে শুরু করতে পারেন ভার্সে রডোডেনড্রন ট্রেক। যদিও শীতে ফুল পাবেন না। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে হি-পাতালের দূরত্ব ১৫১ কিলোমিটার। গাড়ি ভাড়া করে আসতে পারেন। কম খরচে আসতে চাইলে শিলিগুড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে শেয়ার জিপে জোরথাং। জোরথাং থেকে অন্য শেয়ার জিপ ধরে পৌঁছে যান হি-পাতাল বা ছায়াতাল। হি-পাতাল এবং ছায়াতাল দুই গ্রামেই একাধিক হোম স্টে রয়েছে। সেখানেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে একই সঙ্গে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles