ছত্রাকের মধ্যে থাকা বিশেষ উপাদান ক্যানসার কোষের সঙ্গে লড়াই করতে পারে বলে অনুমান করেছিলেন গবেষকেরা। মস্তিষ্কের ক্যানসারের সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ হল ‘গ্লিয়োব্লাস্টোমা’। ক্যানসার বাসা বাঁধলে রোগীকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। রোগের তীব্রতা কমিয়ে রোগীর বেঁচে থাকার সময়কালটা আর একটু বাড়ানোর চেষ্টা করা হয় মাত্র। এমআইটি-র গবেষকেরা জানিয়েছেন, ‘ভার্টিসিলিন এ’ উপাদানটি গ্লিয়োব্লাস্টোমার কোষগুলি ধ্বংস করে ফেলতে পারে। ক্যানসার কোষের অনিয়মিত বিভাজন বন্ধ করতেও এটি কার্যকরী হতে পারে। ‘ভার্টিসিলিন এ’ উপাদানটি একটি অ্যালকালয়েড যৌগ। এটি ছত্রাক থেকে পাওয়া যায়। এর অ্যান্টি-ক্যানসার ও অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণ রয়েছে এর। এই যৌগটির একটি বিশেষত্ব হল, এটি ক্যানসার কোষের ভিতরের এমন কিছু প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যাতে কোষগুলির মৃত্যু হতে পারে। যৌগটি ক্যানসার কোষের ডিএনএ-তেও বদল ঘটায়, যাতে কোষগুলির অনিয়মিত বিভাজন বন্ধ হতে পারে। ‘গ্লিয়োব্লাস্টোমা’ হলে রোগী বেশি দিন বাঁচতে পারেন না। আর এমন ক্যানসারের লক্ষণও ধরা পড়ে না আগে থেকে। ফলে মস্তিষ্কের ভিতরের সুস্থ কোষগুলি নষ্ট হতে থাকে, প্রভাব পড়ে স্নায়ুতে। ফলে রোগীর স্মৃতিনাশের লক্ষণও দেখা দেয়। ঝাপসা দৃষ্টি, ভুলে যাওয়ার সমস্যাকে ডিমেনশিয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। ফলে ক্যানসার যখন ধরা পড়ে, তখন আর রোগীকে বাঁচানোর তেমন উপায় থাকে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গ্লিয়োব্লাস্টোমার কোষগুলি সাধারণ ওষুধ বা কেমোথেরাপিতে বিনষ্ট হয় না। তবে এই যৌগটির প্রয়োগ যদি করা হয়, তা হলে কোষগুলির ভিতরে রাসায়নিক বদল (মিউটেশন) ঘটতে থাকে। ফলে কোষগুলি নষ্ট হতে শুরু করে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির আগে যদি এই যৌগটির প্রয়োগ করা হয়, তা হলে ক্যানসার কোষের বিনাশ প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটবে। আশপাশের সুস্থ কোষগুলিও নষ্ট হবে না। গবেষণাটি চলছে। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও খুব জটিল ও ঝঁকিপূর্ণ পদ্ধতি। সে জায়গায় ‘ভার্টিসিলিন এ’ প্রয়োগ করে যদি ক্যানসার কোষগুলিকে নষ্ট করে ফেলা যায়, তা হলে যন্ত্রণাহীন পদ্ধতিতেই মস্তিষ্কের ক্যানসারের চিকিৎসা সম্ভব হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মস্তিষ্কের ক্যানসারে ভুগছেন এমন অনেক রোগীকে বেছে নিয়ে তাঁদের উপরেও পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। যদি সকলের ক্ষেত্রেই সাফল্য আসে, তা হলে ক্যানসার জয় করার নতুন দিশা পাওয়া যাবে। উপাদানটিকে মানুষের শরীরের উপযোগী করে তুললেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) ও হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকেরা। উপাদানটির নাম ‘ভার্টিসিলিন এ’। মস্তিষ্কের ক্যানসার সারাতে এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে বলে দাবি।
কাজকর্ম না করার ফলে কোষের জন্ম, বেড়ে ওঠা, এমনকি তার ক্ষত সারানোর কাজেও সাহায্য করে সে। প্রোটিনই তার রূপ বদলে ফেলে, মানবদেহের পক্ষে হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর। নানা ধরনের ক্যানসার কোষের জন্ম ও তাদের বাড়বৃদ্ধিতে সে হয়ে ওঠে অত্যন্ত সহায়ক। মানবদেহের সেই বিশেষ একটি প্রোটিন, যার নাম ‘টিএকে১’, তাকে বেঁধে ফেলে বা নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে ক্যানসার বাড়বৃদ্ধি বন্ধ করার পথ দেখালেন বিজ্ঞানীরা। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং অস্ট্রেলিয়ার অলিভিয়া নিউটন-জন ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় দাবি, ‘টিএকে১’ প্রোটিনটিই ক্যানসার কোষগুলিকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। সুকৌশলে তাদের আড়াল করে রাখে, যাতে ওষুধ ক্যানসার কোষ অবধি পৌঁছতে না পারে। প্রোটিনটি ক্যানসার কোষের চারধারে শক্তিশালী বর্ম তৈরি করে ফেলে। এমনকি এ-ও দেখা গিয়েছে, কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির সময়ে এই প্রোটিনটি ক্যানসার কোষগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তাদের বিভাজনেও সাহায্য করে। তাই শরীরের কোথাও ক্যানসার কোষের জন্ম হলে তা খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে গিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ‘টিএকে১’ প্রোটিনটিতে যত দিন না রাসায়নিক বদল (মিউটেশন) হচ্ছে, তত দিন সে ঠিক থাকে। কোষের ক্ষত মেরামতিতেও সাহায্য করে। কিন্তু যে মুহূর্ত থেকে তার ভিতরে বদল আসতে থাকে, তখন থেকেই সে সুস্থ কোষগুলির শত্রু হয়ে ওঠে। শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী টি-কোষের সঙ্গেও সমানে টক্কর দিতে পারে এই প্রোটিন। গবেষকেরা দেখেছেন, যখন ক্যানসার কোষের বিভাজন শুরু হয় তখন শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধী কোষগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার মধ্যে একটি হল টি-কোষ, যারা ছুটে গিয়ে ক্যানসার কোষগুলিকে আক্রমণ করতে শুরু করে। কিন্তু এই প্রোটিনটি সে কাজে বাধা দেয়। উল্টে টি-কোষের সঙ্গে লড়াই করে ক্যানসার কোষগুলিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। তাই এই প্রোটিনকে জব্দ করতে পারলেই, ক্যানসারের বৃদ্ধি ধীর গতিতে হবে ও সহজেই চিকিৎসায় সেগুলিকে বিনষ্ট করা যাবে বলেই মত গবেষকদের। ‘টিএকে১’ প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য ইমিউনোথেরাপির আশ্রয় নিয়েছেন গবেষকেরা। তৈরি হচ্ছে ওষুধও। ‘সেল রিপোর্ট’ জার্নালে সেই খবর প্রকাশিতও হয়েছে। জানা গিয়েছে, এমন ওষুধ তৈরি হচ্ছে যা প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় তো করবেই, ক্যানসার কোষগুলিকেও ধ্বংস করবে। আপাতত ইঁদুরের উপর পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। মানুষের শরীরে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরেই এই ব্যাপারে বিশদ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।





