‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি তৈরি। পারদ নেমে ৯ ডিগ্রি। শীতের রেকর্ড ভাঙল কলকাতা! চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি। বাংলার আট জেলায় ‘কোল্ড অ্যালার্ট’ জারি। আলিপুর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্য়ে এই জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৫-৬ ডিগ্রি নেমে যেতে পারে। আরও শক্তি বাড়াতে পারে উত্তুরে হাওয়া, রাতের দিকে বাড়বে কাঁপুনি। সব মিলিয়ে শীত নামবে ‘ফুল পারফর্মেন্সে’। শীতের অনবদ্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকল বাঙালি। হাড় কাঁপানোর শীতের অনুভব করল কলকাতা তথা বাংলা। ভেঙে গেল বিগত কয়েক বছরের সকল রেকর্ড। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শহরের তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ৯ ডিগ্রির ঘরে। এদিন দমদমেই এতটা নেমে গিয়েছিল পারদ। একই অবস্থা ছিল আলিপুর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও। এক ধাক্কায় পারদ নেমেছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সঙ্গে শরীরজুড়ে কাঁপুনি দিতে এখনও বয়ে চলেছে কনকন উত্তুরে হাওয়া।সাম্প্রতিক অতীতে এই রকম শীত দেখেনি কলকাতা। প্রতিবছর শহরবাসীর মনে শীত নিয়ে ক্ষোভের ছায়া দেখা যায়। কারণ নভেম্বরে শীতের সিকি ভাগ অনুভূতি মেলে না। ডিসেম্বরে শীতটা টের পাওয়া গেলেও, তা হয় ক্ষণিকের। জানুয়ারি ঢুকতেই তেজ বাড়ে রোদের। অবশ্য, এই বছর তেমন কিছু হয়নি। উল্টে ভেঙে গিয়েছে গত ১৩ বছরের রেকর্ড। এক কথায়, কলকাতায় জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে। একই অবস্থা উত্তরবঙ্গ এবং সমগ্র দক্ষিণবঙ্গেও। বাংলার আট জেলায় ‘কোল্ড অ্যালার্ট’ জারি করেছে হাওয়া অফিস। আলিপুর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্য়ে এই জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৫-৬ ডিগ্রি নেমে যেতে পারে। আরও শক্তি বাড়াতে পারে উত্তুরে হাওয়া, রাতের দিকে বাড়বে কাঁপুনি। সব মিলিয়ে শীত নামবে ‘ফুল পারফর্মেন্সে’। কিন্তু কোন কোন জেলাতে জারি হয়েছে এই অ্য়ালার্ট? জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়াতেই এখন দাপট বাড়বে শীতের। উত্তরবঙ্গে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে চার-পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সঙ্গে রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাসও। আবহবিদদের মতে, কয়েকদিনের মধ্য়েই বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলার শীতের মাইলেজ বাড়ানোর ‘জ্বালানি’ এই বিশেষ হাওয়া। হিমেল হাওয়ার এমন বাড়বাড়ন্তের কারণ কী? আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলছে, বাংলার শীতে ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছে নিম্নচাপ। যা বর্ষার সময় ডেকে আনে কালক্ষণ। শীতের বাংলায় ডেকে এনেছে মন ভাল করা আবহাওয়া। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের বুকে জন্ম নিয়েছে নতুন নিম্নচাপ। সেই সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে আরও পারদ পড়ছে বাংলার। মঙ্গলবার কলকাতা সাক্ষী থেকেছে প্রায় দেড় দশকের সবচেয়ে শীতলতম দিনের। ভেঙে দিয়েছে প্রায় সব রেকর্ড। একই আবহাওয়া উত্তরবঙ্গ এবং গোটা দক্ষিণবঙ্গে। ঘরের বাইরে পা রাখলেই শরীর জুড়ে হিমস্রোত বইয়ে দিচ্ছে উত্তুরে হাওয়া। যে হাওয়াকে আবার ‘জ্বালানি’ জোগাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে বসে থাকা নিম্নচাপ। এ যেন গোটা দেশের স্থলভাগের হাওয়া নিজের দিকে টেনে সবটাই ছুড়ে দিচ্ছে বাংলার দিকে। কিন্তু নিম্নচাপ তো বৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়। তেমন কোনও সম্ভবনা এখন থাকছে না? আবহবিদরা বলছেন, এই নিম্নচাপ বাংলা থেকেই অনেকটাই দূরে রয়েছে। তাই আপাতত বৃষ্টির বিন্দুমাত্র সম্ভবনা নেই। বাংলাজুড়ে এখন দাপট বজায় রাখবে উত্তুরে হাওয়ার। অবশ্য উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সমীকরণটা একটু ভিন্ন। সোমবার বিকালেই আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, উত্তরের নীচের দিকে জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলিতে রয়েছে তুষারপাতের সম্ভবনা। মঙ্গলবার মুখ থুবড়ে পড়েছে কলকাতা শহরের তাপমাত্রা। দমদমে পারদ নেমেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আলিপুরে তাপমাত্রা পড়েছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু হয়েছে গোটা বাংলাজুড়েই শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়ায় ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরবঙ্গের নীচের দিকের জেলা জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে তাপমাত্রা রয়েছে ৯ ডিগ্রির ঘরে। সঙ্গে রয়েছে কুয়াশার দাপট। বেলা বাড়লেও ঘন কুয়াশার ঘেরাটোপ থেকে বাংলার বেরনোর সম্ভবনা অনেকটাই কম।





