Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসব্জি খেতে হবে!‌ ওজন কমানো বা জটিল রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়

ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসব্জি না খেলে ওজন কমানো বা জটিল রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। সুস্থ যাপনের ইচ্ছেও রয়েছে, অথচ শাকসব্জি দেখলেই নাক সিঁটকান। অনেকের ক্ষেত্রে শৈশবের অনীহা বড় হওয়া পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। অনেকের আবার নতুন করে এই অপছন্দ তৈরি হয়। কিন্তু ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসব্জি না খেলে ওজন কমানো বা জটিল রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। স্বাদকোরকের অভ্যাস বদলের প্রয়োজন। স্বাদকোরকগুলির পছন্দ ও অপছন্দকে নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শাকসব্জির প্রতি এই অনাগ্রহ চিরকালীন না-ও হতে পারে। মানুষের স্বাদের বোধকে নতুন ভাবে গড়ে তোলা যায়। একটু ধৈর্য ধরলে এবং নিয়ম মেনে চললে শাকসব্জির স্বাদ ধীরে ধীরে ভাল লাগতে শুরু করে। সব্জি পছন্দ করার বিষয়টি ইচ্ছাশক্তির উপর নির্ভর করে না, বরং নিউরোপ্লাস্টিসিটি এবং মাইক্রোবায়োম অ্যাডপ্টেশনের এক অদ্ভুত মিশ্রণের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ কৌশল মেনে চললে সব্জি পছন্দ করতে বাধ্য হবে স্বাদকোরক। মানুষের জিহ্বার স্বাদকেন্দ্র স্থির থাকে না। প্রায় ১০-১৪ দিনের মধ্যে এই স্বাদকেন্দ্র বদলে যেতে পারে। অর্থাৎ আজ যে স্বাদ অপছন্দ, কিছু দিন পর সেটিই সহনীয়, এমনকি উপভোগ্যও মনে হতে পারে। নিয়মিত শাকসব্জি খেতে শুরু করলে জিভ ধীরে ধীরে সেই স্বাদের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টানা কয়েক সপ্তাহ ফাইবারযুক্ত বা তেতো খাবার, অথবা নতুন স্বাদের খাবার খেলে সেই স্বাদই প্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি, তখন অতিরিক্ত মিষ্টি বা নোনতা খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। শুধু জিভ নয়, মুখের ভিতরে থাকা অদৃশ্য জীবাণুরাও স্বাদের অনুভূতিতে বড় ভূমিকা নেয়। দীর্ঘ দিন ধরে যে খাবার খাওয়া হয়, মুখের জীবাণু সেগুলির সঙ্গেই মানিয়ে নেয়। তাই যাঁরা নিয়মিত আমিষ ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খান, তাঁদের কাছে শাকসব্জি খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু যখন ধীরে ধীরে শাকসব্জি খাওয়া শুরু হয়, তখন মুখের জীবাণুর ধরন পাল্টে যায়। এর ফলেই শাকসব্জির স্বাদ আগের মতো বিরক্তিকর মনে হয় না আর।

গ্যাস-অম্বলে ভোগার প্রবণতা রয়েছে? কিছু খেলেই অম্বল, না খেলেও অম্বল। দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যার কবলে পড়েছেন। গ্যাসট্রাইটিসের রোগে নাজেহাল পরিস্থিতি। কেবল মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড খেয়ে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘ দিন ধরে যদি কেউ গ্যাসট্রাইটিসে ভোগেন, অর্থাৎ গ্যাস, অম্বল, বুকজ্বালা, বদহজমের সমস্যা থেকে থাকে, তা হলে পেটে এইচ পাইলোরি নামক ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এইচ পাইলোরি (হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি) এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া, যা পাকস্থলীর আস্তরণে সংক্রমণ ঘটায় এবং পেপটিক আলসার, গ্যাসট্রাইটিস বা পাকস্থলীর প্রদাহ, এমনকি পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রধান কারণ হতে পারে। এটি পাকস্থলীর অ্যাসিড থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। পাকস্থলীর ভিতরের প্রতিরক্ষামূলক স্তরকে দুর্বল করে আলসার তৈরি করে। এই ব্যাক্টেরিয়া পেটে বাসা বেঁধেছে কি না, তা শনাক্ত করার জন্য ‘স্টুল এইচ পাইলোরি এজি’, ‘ইউরিয়া ব্রিদ টেস্ট’, ‘এন্ডোস্কোপি’, ‘বায়োপ্‌সি’ করানোর পরামর্শ। কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমেই এইচ পাইলোরির সম্পর্কে জানা যাবে। সময় মতো শনাক্ত করা গেলে মাত্র দু’সপ্তাহেই সেটি সারানো সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles