Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

প্রেসিডেন্ট-হরণ! ‘তেলের জন্য রক্ত চাই না’ সাদ্দাম থেকে মাদুরো!‌ ট্রাম্পকে কড়া বার্তা ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসির! আমেরিকার নজরে কারা?‌

আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাম্পের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে। স্লোগান উঠছে, ‘তেলের জন্য রক্ত চাই না’। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সে দেশ থেকে অপহরণ করেছে আমেরিকার বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে। আপাতত সেখানেই মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টারে মাদুরোকে বন্দি করে রাখা হবে। ট্রাম্প শনিবারই জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত ভেনেজুয়েলার শাসন চালাবে আমেরিকা। কিন্তু কেন এই ক্ষমতা অধিগ্রহণ? দক্ষিণ আমেরিকার দেশের উপর কিসের ক্ষোভ ট্রাম্পের? ট্রাম্পের নজর আসলে রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিপুল তৈলভান্ডারে। মাদুরোকে সরিয়ে আসলে তা অধিগ্রহণ করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেনেজুয়েলার কুর্সিতে আপাতত তিনি এমন একজনকে বসাবেন, যিনি আমেরিকার ‘হাতের পুতুল’। সেই সুযোগেই দেশটির তৈলভান্ডারে অবাধে রাজত্ব করতে চায় ওয়াশিংটন। ইতিমধ্যে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাম্পের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু। ভেনেজুয়েলা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার। এই দেশের সংরক্ষণে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল। শিকাগো এবং ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় মার্কিন সেনার অভিযানের বিরুদ্ধে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকের মুখেই তেল সংক্রান্ত স্লোগান শোনা গিয়েছে। কেউ বলছিলেন, ‘তেলের জন্য রক্ত চাই না’, কেউ আবার বলছিলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার যুদ্ধ চাই না’। শিকাগোর ফেডেরাল প্লাজার সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের একজন চিৎকার করে বলেন, ‘‘লাতিন আমেরিকার উপর থেকে হাত তুলে নাও।’’ উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প যে অভিযান চালিয়েছেন, আমেরিকানেরা তার জন্য সম্মতি দেয়নি। কোনও ভোটাভুটি নয়। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তার জন্য আমেরিকার নাগরিকেরা অনেকেই ক্ষুব্ধ।

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসকে আপাতত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ করল সে দেশের আদালত। ভেনেজ়ুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে। ক্ষমতা পেয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ডেলসি। অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। ভেনেজ়ুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট হলেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।’’ ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার অভিযানকে ‘বর্বরোচিত’ বলে উল্লেখ করেছেন ডেলসি। মাদুরোকে অপহরণের পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আপাতত আমেরিকাই ভেনেজুয়েলা দেশটিকে চালাবে। এই ঘোষণার নিন্দা করে ডেলসি জানিয়েছেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে তাঁরা প্রস্তুত। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা কখনও কারও দাসত্ব করব না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ আর আমরা হব না। আমরা ভেনেজুয়েলাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।’’
ফ্লরিডা থেকে সাংবাদিক বৈঠকে ডেলসিকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ডেলসির সঙ্গে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর কথা হয়েছে। ভেনেজ়ুয়েলার উন্নয়নের জন্য আমেরিকা যা করতে চায়, ডেলসিও তা চান বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। ডেলসি কোথায় আছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স চারটি সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, ডেলসি এখন রাশিয়ায়। তাঁর ভাই জর্জ রড্রিগেস ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান। তিনি রাজধানী কারাসকাসেই আছেন। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী যে বেঁচে আছেন, সেই প্রমাণ দেখতে চেয়েছেন ডেলসি। আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার সংঘাত দীর্ঘ দিনের। ট্রাম্পের অভিযোগ, সেখান থেকে আমেরিকায় প্রতি বছর প্রচুর মানুষ অবৈধ ভাবে আমেরিকায় অনুপ্রবেশ করেন। এঁদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্মের অভিযোগও উঠেছে বার বার। দাবি, মাদুরো ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেনেজুয়েলার অপরাধীদের আমেরিকায় পাঠান। এ ছাড়া, আমেরিকায় মাদক সন্ত্রাস চালানোর জন্যেও মাদুরো প্রশাসনকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। দাবি, ভেনেজ়ুয়েলা হয়ে মাদকপাচারকারীরা আমেরিকায় ঢোকে। মূলত এই দুই কারণ দেখিয়ে ভেনেজ়ুয়েলায় অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। অপহরণ এবং বন্দি করা হয়েছে মাদুরোকে। তবে কারও কারও দাবি, ভেনেজুয়েলার অফুরন্ত খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক সম্পদে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই এই হামলা।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন সেনা। আল-কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেন বা ইরাকের প্রাক্তন সর্বময় কর্তা সাদ্দাম হোসেনের মতো হবে না তো! আমেরিকার সামরিক অভিযানে বিচলিত গোটা বিশ্ব। বিগত কয়েক দশকে বিশ্ব ইতিহাসে এমন ঘটনা বেনজির! বেশ কয়েক দিন ধরেই আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার চাপানউতর চলছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভেনেজ়ুয়েলা সীমান্তে কোনও তেল ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলা সরকারকে ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’ তকমাও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসাবে মাদুরোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প। আমেরিকার অভিযোগ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করছে ভেনেজ়ুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হচ্ছে ভেনেজ়ুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও ভেনেজ়ুয়েলা সব অভিযোগ অস্বীকার করে। তার মধ্যেই শনিবার মধ্যরাতে কারাকাসে মার্কিন হানা! আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি সরাসরি ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। মাদুরোর স্ত্রী পামেলা জানিয়েছেন, শীঘ্রই তাঁদের আমেরিকার বিচারব্যবস্থার সম্মুখীন করা হবে। ভারতীয় সময় শনি সন্ধ্যায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরো দম্পতিকে যুদ্ধজাহাজে চাপিয়ে নিউ ইয়র্ক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মার্কিন ফৌজদারি আইনে তাঁদের বিচার হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সেনেটের সদস্য মাইক লি জানিয়েছেন, আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো নিশ্চিত করেছেন মাদুরোদের ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি করানো হবে। শুধু মাদক পাচার মামলায় নয়, অন্য এক বিষয়ে মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। শনিবার ভিডিয়োয় মাদুরোর বিরুদ্ধে দুর্নীতিগ্রস্ত, অবৈধ সরকার পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে! মাদুরোর পরবর্তী ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি কী হবে, তা এখনই বলা কঠিন। অনেকে মনে করছেন, ভেনেজ়ুয়েলায় আবার গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন হবে। তবে কারও পছন্দ ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। যদিও তাঁর পছন্দ আবার এদমুন্দো গোঞ্জালেস উরুতিয়া। তিনি মনে করেন, মাদুরো যাঁকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তাঁকেই ভেনেজুয়েলার গদিতে বসানো উচিত।

ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে আমেরিকার এই সামরিক অভিযানের সঙ্গে তুলনা টানা যায় ১৯৮৯ সালে পানামার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নেরিয়েগাকে আটক করার ঘটনার সঙ্গে। মাদুরোর মতো নেরিয়েগার বিরুদ্ধেও মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছিল ওয়াশিংটন। নেরিয়েগাকে গ্রেফতারের পর আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করেছিল পানামা বাহিনী। অল্প দিনের মধ্যেই আত্মসমর্পণ। পানামায় হামলার নেপথ্যে তৎকালীন আমেরিকা প্রশাসনের যুক্তি ছিল, সে দেশে মার্কিন সেনার উপর আক্রমণ। পানামায় থাকা আমেরিকানদের নিরাপত্তা বিঘ্ন হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে আক্রমণ চালায় আমেরিকা। নেরিয়েগাকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৮৫ সালে পানামার ক্ষমতায় আসেন নেরিয়েগা। পেশায় তিনি ছিলেন একজন সেনা কর্মকর্তা। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন তিনি। অনেকের মতে, আমেরিকার রোষের কারণ ছিল এটাই। কারণ, আমেরিকাবিরোধী বলে পরিচিত ছিলেন নেরিয়েগা। ২০১০ সাল পর্যন্ত আমেরিকার জেলে বন্দি। পরে অন্য এক মামলায় বিচারের জন্য তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ফ্রান্সে। এক বছর সে দেশে ছিলেন নেরিয়েগা। তার পরে আবার তাঁকে পানামাতেই ফেরত পাঠানো হয়। সেখানেই জেলবন্দি অবস্থায় মৃত্যু হয় নেরিয়েগার।

কোনও দেশের রাজধানী থেকে কোনও আক্রমণ ছাড়াই সে দেশের প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অনেক বেশি আলোচ্য। একাংশের মতে, সাদ্দামকে ইরাকে ঢুকে গ্রেফতার করার ঘটনার সঙ্গে অনেক বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ২০০৩ সালে ইরাকে গুহায় লুকিয়ে থাকা সাদ্দামকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী। সে বছর ১৩ ডিসেম্বর আটক করা হয় তাঁকে। তবে মাদুরোর পরিস্থিতির সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে, সেই ঘটনারও। কারণ, তার অনেক আগে থেকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল আমেরিকা। তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, ইরাক নিজেদের দেশে বিধ্বংসী সব অস্ত্র মজুত রাখছে। তাদের আশঙ্কা ছিল, আমেরিকায় হামলা চালাতে পারে সাদ্দাম বাহিনী। সেই আশঙ্কা থেকেই ইরাকে ঢুকে যুদ্ধ ঘোষণা করে জর্জ বুশ প্রশাসন। সাদ্দামকে ইরাকের তিকরিত শহরের একটি গুহা থেকে আটক করে নিয়ে যায় মার্কিন সেনা। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেন্বর সাদ্দামকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ২০২২ সালের ফ্রেব্রুয়ারিতে হন্ডুরাসের হার্নান্দেজকে নিজের বাড়িতে আটক করা হয়েছিল। তবে সেই অভিযানে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে ছিল হন্ডুরাসের বাহিনীও। তবে হার্নান্দেজ যখন আটক করা হয় তখন তিনি হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন না। প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কয়েক দিন পরে তাঁকে আটক করা হয়। মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মাস দুয়েক পর তাঁকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দোষীসাব্যস্ত করে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর পরিণতি সাদ্দাম বা নেরিয়েগার মতো হয়নি। গত ১ ডিসেম্বর বিশেষ ক্ষমতাবলে হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দেন ট্রাম্প।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করেছে মার্কিন সেনা। স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার গভীর রাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপ অতিক্রম করে প্রাসাদে ঢুকে শোয়ার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে! এ বার ‘রুদ্ধশ্বাস’ সেই অভিযানের বর্ণনা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বললেন, ‘ঠিক যেন টিভি শোয়ের মতো!’ ফ্লরিডার মার-আ-লাগো থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরোকে বন্দি করতে ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। গোটা শহর ঢেকে যায় অন্ধকারে। ট্রাম্প বলেন, ‘‘গত কাল আমেরিকা যা অর্জন করেছে, বিশ্বের কোনও দেশ তা পারেনি। সত্যি বলতে, অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজ়ুয়েলার সমস্ত সামরিক ক্ষমতা শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল। কারণ, আমাদের সেনাবাহিনী এবং আইন সংস্থাগুলি রাতের অন্ধকারে মাদুরোকে সফল ভাবে ধরে ফেলেছিল। ভয়ঙ্কর অভিযান ছিল!’’ ট্রাম্প জানান, মাদুরোকে একটি ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত’ দুর্গ থেকে ধরা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘ গত চার দিন ধরে এই অভিযানের জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষা করছিলাম।’’ তবে গোটা অভিযানে মার্কিন সেনার কেউ হতাহত হননি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘কয়েক জন আঘাত পেলেও পরে তাঁরা ফিরে এসেছিলেন। এখন তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।’’ পাশাপাশি, ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরোর ছেড়ে যাওয়া পদ এখনই কাউকে দখল করতে দেবে না আমেরিকা। ভেনেজ়ুয়েলায় কী হবে, তা এ বার আমেরিকা নির্ধারণ করবে। বিরোধী দলের কেউ শাসনভার পাবেন কি না, তা-ও ঠিক করবে আমেরিকাই। আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মাদুরোর আটক হওয়ার খবর জানান ট্রাম্প। মূল অভিযান হয় তারও আগে। অভিযানের দায়িত্বে ছিল এফবিআই-এর বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল। ভোরে সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স-কে ট্রাম্প বলেন, ‘‘অভিযানের পরিকল্পনা খুব ভাল ছিল। বহু দুর্দান্ত সৈন্য এবং মানুষ এই অভিযানে জড়িয়ে ছিলেন। অসাধারণ অভিযান ছিল এটি!’’ উল্লেখ্য, শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালাতে শুরু করেছিল মার্কিন সেনা। পর পর সাত বার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল কারাকাসে। মিরান্ডা, আরাগুয়ার মতো প্রদেশেও হামলা চলেছিল। সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গভীর রাতে মাদুরোর প্রাসাদ ঘিরে ফেলে মার্কিন সেনা। শোয়ার ঘরে ঢুকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে।

চোখে কালো আবরণ। কানে শব্দনিরোধক আবরণ লাগানো। পরনে ছাইরঙা এক জ্যাকেট। হাতে একটা জলের বোতল ধরা। তার ছিপি খোলা। মনে হয়, তিনি জল খাচ্ছিলেন। সেই সময় তোলা হয় ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বন্দিদশার ছবি। তিনি রয়েছেন মার্কিন জাহাজে। সেই ছবিই নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার রাতে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) পোস্ট করা এই ছবির সঙ্গে ট্রাম্প এক লাইনে লিখেছেন, মাদুরোর গন্তব্য নিউ ইয়র্ক। কেন তাঁকে নিউ ইয়র্ক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেখানে কোথায় রাখা হবে— সে সব ব্যাপারে আলোকপাত করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে মার্কিন প্রশাসনের একাংশের মতে, নিউ ইয়র্কেই বিচারপ্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হবে মাদুরোকে। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। আমেরিকার অভিযোগ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করছে ভেনেজ়ুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হচ্ছে ভেনেজ়ুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, শনিবার আমেরিকার বিচার বিভাগ এ-ও জানিয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে দুর্নীতিগ্রস্ত, অবৈধ সরকার পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে! আমেরিকায় সেই সব অভিযোগের সম্মুখীন হতে হবে মাদুরোকে। শুক্রবার মধ্যরাতেই (স্থানীয় সময় অনুসারে রাত ২টো) ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পর পর সাত বার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। হামলার খবর পাওয়া যায় সে দেশের মিরান্ডা, আরাগুয়ার মতো প্রদেশেও। এই হামলার নেপথ্যে কে বা কারা, প্রথমে তা স্পষ্ট ছিল না। সম্ভাব্য মার্কিন হানা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, সেই সময়েই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লিখেছেন, “ভেনেজুয়েলা এবং তার নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সাফল্যের সঙ্গে বড় মাত্রার অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করা হয়েছে। তাঁরা দেশ ছেড়েছেন।” মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজ়ুয়েলা থেকে উড়িয়ে আনা হয় আমেরিকায়। তবে মাদুরোর নিউ ইয়র্কে যাওয়ার যে ছবি ট্রাম্প শনিবার পোস্ট করেছেন, তাতে সিলিয়াকে দেখা যায়নি। একই জাহাজে মাদুরোর সঙ্গে সিলিয়াকেও নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার সামরিক অভিযান নিয়ে বিস্তারিত জানান ট্রাম্প। ফ্লরিডার মার-আ-লাগোয় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভেনেজ়ুয়েলার ভবিষ্যৎ আমেরিকা হাতেই! মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘ভেনেজ়ুয়েলায় কী হবে, তা এ বার নির্ধারণ করবে আমেরিকাই।’’ ট্রাম্প জানান, গত চার দিন ধরে এই অভিযানের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সঠিক সময় এবং আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষা করছিলেন। মাদুরোকে একটি ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’ থেকে ধরা হয়। তবে এই অভিযানে মার্কিন সেনার কেউ হতাহত হননি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

হুমকি-হুঁশিয়ারির পথে আর না-হেঁটে ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে দেশছা়ড়া করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস কোথায়, তাঁরা কী অবস্থায় রয়েছেন, সেই সম্পর্কে অন্ধকারে ভেনেজ়ুয়েলার সরকারও। আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, একাধিক অপরাধের অভিযোগে মাদুরোকে গ্রেফতার করেছে আমেরিকা। একটা সময় পর্যন্ত সংসার চালাতে বাস চালাতেন মাদুরো। ক্রমে ভেনেজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ২০১৩ সালে চাভেজ়ের মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন। চাভেজ এবং তার পর মাদুরোর ২৬ বছরের শাসনে ভেনেজুয়েলায় নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়েছে তাঁদের দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অফ ভেনেজ়ুয়েলার। দীর্ঘ দিন ধরেই ভেনেজ়ুয়েলা আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে। মাদুরোর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার পরেও অবশ্য ২০২৪ সালের নির্বাচনে কার্যত হইহই করে পুননির্বাচিত হয়েছেন মাদুরো। ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ়ই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভোটে কারচুপি করেছেন মাদুরো। মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর। কিন্তু তাঁকে ভোটে লড়তে দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে ভেনেজ়ুয়েলায় ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ’ মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। ট্রাম্পের সঙ্গে মাদুরোর সংঘাত বহু দিনের। ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে মাদকের কারবার চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেনেজ়ুয়েলার শরণার্থীদের আমেরিকায় আশ্রয় নেওয়া নিয়েও আপত্তি ছিল ট্রাম্পের। ২০১৩ সালের পর থেকে ভেনেজ়ুয়েলা থেকে বহু মানুষ আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটা চাপানউতর ছিলই। সম্প্রতি মাদক চোরাচালান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। আমেরিকার অভিযোগ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করছে ভেনেজ়ুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হচ্ছে ভেনেজ়ুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে জঙ্গি-কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি সে দেশের তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভেনেজ়ুয়েলা সীমান্তে কোনও তেলের ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। ভেনেজ়ুয়েলার সরকারকেও ফের ‘জঙ্গি গোষ্ঠীর’ তকমা দেন তিনি। তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসাবে মাদুরোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প। গত কয়েক মাসে ভেনেজ়ুয়েলাকে ঘিরতে ক্যারিবিয়ান সাগরে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ এবং পরমাণু-ডুবোজাহাজ নামিয়েছিল আমেরিকা। সর্বক্ষণ দেশটিকে একপ্রকার ঘিরে রেখেছিল মার্কিন ফৌজ। শুক্রবার মধ্যরাত (স্থানীয় সময় অনুসারে রাত ২টো) থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অন্তত সাত বার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। হামলার খবর পাওয়া যায় সে দেশের মিরান্ডা, আরাগুয়ার মতো প্রদেশেও। আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করেছে ভেনেজ়ুয়েলা। ভেনেজ়ুয়েলার সরকারের দাবি, সে দেশের খনিজ তেল এবং সম্পদ হাতানোর জন্যই এই কাজ করেছে আমেরিকা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চেষ্টা সফল হবে না বলে জানিয়েছে তারা। আমেরিকার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বসতি এলাকাতেও হামলা চালানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এটা ঠিক যে, বিশ্বের বৃহত্তম তৈল উত্তোলক দেশগুলির মধ্যে অগ্রগণ্য ভেনেজ়ুয়েলা। দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরে থাকা এই ‘সমাজতান্ত্রিক’ দেশ বরাবরই আমেরিকার শিরঃপীড়ার কারণ। ভূরাজনৈতিক এই বাধ্যবাধকতা থেকেই আমেরিকার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছিলেন মাদুরো। এমনকি সামরিক অভিযানের আগেই চিনের কয়েক জন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হানার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে রাশিয়া, ইরান, কিউবার মতো দেশ।

ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে আমেরিকা। পতন হয়েছে সরকারের। এই অবস্থায় খুব প্রয়োজন ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার ওই দেশে ভারতীয়দের যাওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন সেই সতর্কবার্তা। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া যেন ভারতীয়েরা ওই দেশ এড়িয়ে যান। ভেনেজ়ুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকেদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। যে কোনও প্রয়োজনে সে দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট মেল আইডি ও ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার চাপানউতর চলছিল দীর্ঘ দিন ধরেই। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভেনেজ়ুয়েলা সীমান্তে কোনও তেল ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলা সরকারকে ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’ তকমাও দিয়েছিলেন তিনি। মাদুরোকে ‘অবৈধ শাসক’ বলে অভিহিত করে তাঁকে পদত্যাগ করতেও বলেছিলেন। আমেরিকা বার বার দাবি করেছিল, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করছে ভেনেজজুয়েলাকে। ভেনেজ়ুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে তেল চুরি করে তার পরে তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাল্টা ভেনেজ়ুয়েলার দাবি ছিল, তাদের সেই খনিজ সম্পদ লুট করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বন্দি মাদুরোর ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন। তার পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক দেশের নাগরিকদের প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি করল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles