খাসির মাংস উচ্চমানের প্রোটিন, কিন্তু এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটও বেশি থাকে। আর বিরিয়ানির ভাত হল দ্রুত হজমযোগ্য শর্করা। চিকিৎসকের মতে, এই দুয়ের মিশেল একসঙ্গে খেলে শরীরে এক ধাক্কায় অনেকটা ক্যালোরি ঢোকে আর রক্তে শর্করার মাত্রাও এক লাফে অনেকটা বেড়ে যায়। বিরিয়ানি খেলে হজম হতে অনেকটা সময় লাগে। পালানিপ্পান বলেন, ‘‘ডায়াবিটিস, ফ্যাটি লিভার বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে এমন কোনও ব্যক্তি এক প্লেট মটন বিরিয়ানি খেলে তাঁর পোস্ট মিল গ্লুকোজ়ের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীর ক্লান্ত ও নিস্তেজ লাগতে পারে।’’ মটন বিরিয়ানি শরীরের শত্রু নয়। কতটা পরিমাণ খাচ্ছেন এবং কত দিন অন্তর অন্তর খাচ্ছেন, সেটাই আসল। বিরিয়ানি খেয়ে সুস্থ থাকতে হলে সবার আগে পরিমাণ কমাতে হবে। প্রোটিন বেশি হলেও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমাতে হবে। সঙ্গে পেট ভর্তি করার জন্য এক বাটি স্যালাড রাখতে হবে। বিরিয়ানি রাতে খাবেন না। সূর্য ডোবার আগেই খাওয়াদাওয়া সেরে ফেলুন।
হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সব ফ্যাট বা চর্বি খারাপ নয়। বরং কিছু ফ্যাট হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভাল কাজ করে। হার্ট সুস্থ রাখতে হলে দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় তেমনই পাঁচ ধরনের ফ্যাটের রাখা যেতে পারে।
হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম বড় কারণ শরীরে বাড়তি কোলেস্টেরলের মাত্রা। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে, শুনলেই বেশির ভাগ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। জীবনযাপনে ব্যাপক অনিয়ম এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা ক্রমাগত বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ দিন ধরে রক্তে ভাসতে থাকা ওই চটচটে পদার্থগুলিই একটা সময়ে ধমনীর গায়ে আটকে যায়। শরীরে রক্ত চলাচলে যখন বাধা সৃষ্টি হয়, তখনই শুরু হয় নানা রকম সমস্যা। বিভিন্ন উপসর্গ জানান দেয়, শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাসা বেঁধেছে। জেনে নিন, কোন উপসর্গগুলি দেখলে সতর্ক হবেন।
ব্যায়ামের সময়ে কিংবা হাঁটাহাঁটি করার সময়ে পায়ে তীব্র যন্ত্রণা হতেই পারে। এটি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধির লক্ষণ। দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালিত হয় ধমনীর মধ্য দিয়ে। কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে ধমনীগুলির ভিতর ফ্যাটের আস্তরণ তৈরি হয়। একে ‘অ্যাথেরোসক্লেরোসিস’ বলে। এই আস্তরণ তৈরির ফলে রক্ত চলাচলের পথ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। তৈরি হতে পারে ‘প্লাক’। এই ধরনের প্লাক তৈরি হলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত ঠিকমতো ছড়িয়ে পড়তে পারে না। দেহের প্রান্তিক অঙ্গগুলিতে তৈরি হওয়া এই সমস্যাকে বলে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (পিএডি)। এই অসুখেই ব্যথা হয় পায়ের বিভিন্ন অংশে।
এ ছাড়া আর কী কী লক্ষণে সতর্কতা অবলম্বন? পায়ের পাতা অবশ হয়ে যাওয়া। পায়ে রক্ত চলাচল কম হওয়া। পায়ের ত্বকের রং বদলে যাওয়া। পায়ের নখের বৃদ্ধি কমে যাওয়া। পায়ের পাতা, গোড়ালিতে ঘা হওয়া। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা জরুরি। রোজের জীবনধারাতেও কিছু কিছু বদল আনা জরুরি। খাওয়াদাওয়াতেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এক বার এই রোগ ধরা পড়লে নিয়মিত রক্তপরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।
হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্যাট হল ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায় এবং হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ইলিশ, রুই, শিঙি, ভেটকি, কাতলা, আড় মাছে তেল থাকে। মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা কমায় এবং ‘ভালো’ কোলেস্টেরল এইচডিএলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। রান্নায় বা স্যালাডে এটি ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যের উপকার হবে। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, ক্যানোলা অয়েলে এই ধরনের ফ্যাট থাকে। বাদামে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এগুলো ধমনীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। হার্টের সমস্যা থাকলে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় আখরোট, কাঠবাদাম, পেস্তা অথবা চিয়া বীজ। অ্যাভোকাডোতে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং পটাশিয়াম থাকে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হার্টের পেশিকে সবল রাখতে সাহায্য করে। বাঙালি রান্নাঘরে অর্ধেকের বেশি রান্না সর্ষের তেল ছাড়া জমে না। সেই সর্ষের তেলও হতে পারে হার্টের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস। এতে অলিভ অয়েলের মতো প্রচুর মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। যাতে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ এর সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে সর্ষের তেল ভাল ভেবে প্রচুর পরিমাণে খেলে তাতে উল্টো সমস্যা হতে পারে। তাই সর্ষের তেল খান ভাল মানের এবং পরিমাণ মেপে।





