মেসিকে ভারতে আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত সিটের অফিসারদের জানিয়েছেন, তাঁকে পিছন থেকে ছোঁয়া, স্পর্শ করা একেবারেই পছন্দ করেননি মেসি। বিদেশি নিরাপত্তারক্ষীরা আগেই এব্যাপারে জানিয়েছিলেন। কিন্তু যুবভারতীতে অত্যুৎসাহী ভক্তদের ছোঁয়ায় বিরক্ত হন মেসি। তিনি পনেরো মিনিটের বেশি মাঠে ছিলেন না। আর মেসি চলে যেতেই পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যায়। গ্যালারি থেকে উড়ে আসে বোতল। মেসির চতুর্দিকে উপস্থিত অত্যুৎসাহী ভক্তদের সরে যাওয়ার জন্য একাধিক বার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করা হয়নি। মেসিকে প্রায় ঘিরে ফেলা হয়েছিল। তাঁকে ছোঁয়ার চেষ্টা করা হয়। পিছন থেকে স্পর্শ করার চেষ্টা করা হয়। বিরক্ত হন মেসি। তিনি আর থাকতে চাননি মাঠে। জেরার মুখে শতদ্রু দত্ত আরও জানান, সেদিন মাঠে ঢোকার জন্য দেড়শোটা গ্রাউন্ড পাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু দারুণ প্রভাবশালী ব্যক্তির জন্য সেই সংখ্যা তিনগুণ বাড়াতে হয়। শতদ্রু দত্ত আরও জানান, এই সফরের জন্য ৮৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল মেসিকে। ভারত সরকারকে ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ মেসির সফরের জন্য ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। সূত্রের খবর তিরিশ শতাংশ অর্থ এসেছিল স্পনসরের কাছ থেকে। আর বাকি তিরিশ শতাংশ অর্থ এসেছিল টিকিট বিক্রি থেকে। শতদ্রুর অ্যাকাউন্টে ২২ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। মেসির ভারত সফরে কলকাতার অনুষ্ঠান ব্যর্থ হলেও হায়দরাবাদ, মুম্বই ও দিল্লির অনুষ্ঠান সফল হয়। দিল্লির অনুষ্ঠান শেষ করে অনন্ত আম্বানির অতিথি হিসেবে জামনগরের বনতারায় যান। সেখানে বন্যপশুদের দেখে অবাক হয়ে যান মেসি।
কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। নিয়মিত জেরা চালাচ্ছেন তদন্তকারী অফিসারেরা। বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ রিষড়ায় শতদ্রুর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তিনতলা ওই বিলাসবহুল বাড়িতে রয়েছে সুইমিং পুল এবং ব্যক্তিগত ফুটবল মাঠ। তল্লাশির সময় বাড়িতে একমাত্র পরিচারিকা ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি ঘরে ঘরে তন্নতন্ন করে খোঁজ চালান তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, মেসির অনুষ্ঠানে কালো টাকা ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তল্লাশির পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক নথি পরীক্ষা করেন সিটের আধিকারিকরা। তার পরই প্রায় ২৫ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে এই টাকার মধ্যে টিকিট বিক্রির অর্থ রয়েছে, নাকি স্পনসরদের দেওয়া টাকা কিনা এখনও স্পষ্ট করেনি পুলিশ। পুলিশি জেরায় একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন শতদ্রু। তাঁর বক্তব্য, প্রথমে মাত্র দেড়শো জনের জন্য গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস কার্ড দেওয়া হলেও পরে প্রভাবশালীদের চাপের মুখে সেই সংখ্যা তিনগুণ করতে হয়। এখানেই থামেননি তিনি। আরও দাবি করেছেন, ভারত সফরের জন্য লিওনেল মেসিকে ৮৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং কর বাবদ ভারত সরকারকে দিতে হয় ১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গোটা অনুষ্ঠানে মোট খরচ হয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই অর্থের একাংশ এসেছে স্পনসরদের কাছ থেকে, বাকি টাকা জোগাড় করা হয় টিকিট বিক্রির মাধ্যমে। যুবভারতীর সেই অনুষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে তদন্ত এখন কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে ক্রীড়ামহল ও প্রশাসনের।




