টি-টোয়েন্টি দলে যে শুভমন গিলকে রাখা হবে না, তা আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। প্রত্যক্ষ ভাবে না হলেও, পরোক্ষ ভাবে এই সিদ্ধান্তে মত ছিল কোচ গৌতম গম্ভীর এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে শুভমন গিলকে। শনিবার দল ঘোষণা হয়েছে। তার আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল শুভমনকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হবে না। প্রত্যক্ষ ভাবে না হলেও, পরোক্ষ ভাবে এই সিদ্ধান্তে মত ছিল কোচ গৌতম গম্ভীর এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের। সূর্যকে বাঁচিয়ে শুভমনকে ছেঁটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে গম্ভীরের বিরুদ্ধে। সকালে ঠিক হয় শুভমনকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হবে না। তবে প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর, সূর্যকুমার বা গম্ভীর কেউ শুভমনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেননি। সংবাদ সংস্থাকে তেমনই জানিয়েছেন বোর্ডের এক সূত্র। শুভমন বা সূর্য, কোনও এক জনের বাদ পড়া নিশ্চিতই ছিল। গত এক বছরে সূর্যের ফর্ম খারাপ হলেও তিনি বেঁচে গিয়েছেন। কোপ পড়েছে শুভমনের উপরে। যে ভাবে শুভমনের সঙ্গে কথাবার্তা বলা হয়েছে, তাতে ভারতের টেস্ট ও এক দিনের অধিনায়কের হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। সূর্যকুমারও শুভমনের পাশে দাঁড়াননি বলে জানা গিয়েছে। দল নির্বাচনী বৈঠকের কিছু ক্ষণ আগে শুভমনকে ফোন করে তাঁর বাদ পড়ার কথা জানানো হয়। বোর্ডের এক সূত্র বলেছেন, “বৈঠকের আগে শুভমনের সঙ্গে কথা বলা হয়। বিস্তারিত বলার অধিকার নেই আমাদের। তবে দলের কম্বিনেশনের কথাই বলা হয়েছে।” লখনউ ম্যাচের আগে অনুশীলনে গোড়ালিতে চোট পেয়েছিলেন শুভমন। সেই ম্যাচেই সঞ্জু স্যামসনকে খেলানোর ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলা হয়। লখনউ ম্যাচ কুয়াশার কারণে হয়নি। অহমদাবাদে দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন শুভমন। চোটও প্রায় সেরে গিয়েছিল। হাড়ে চিড় ধরেনি। শুভমন খেলার মতো অবস্থায় ছিলেন। তা সত্ত্বেও প্রথম একাদশে নেওয়া হয়নি। বোর্ড জানিয়েছিল, ঝুঁকি নেওয়া হবে না বলেই বাদ দেওয়া হয়েছে শুভমনকে। তবে সঞ্জুকে সুযোগ করে দিতেই প্রথম একাদশে তাঁকে রাখার অভিযোগ উঠেছে গম্ভীরের বিরুদ্ধে। এক প্রাক্তন নির্বাচক বলেছেন, “ইংল্যান্ডে ভাল খেলার জন্য টি-টোয়েন্টিতে শুভমনকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল। কিন্তু সঞ্জুও তো খারাপ খেলেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাঁচ ম্যাচ আগে শুভমনকে বাদ দেওয়া এটাই বুঝিয়ে দিল, অজিত আগরকরের নির্বাচক কমিটি ভুল শোধরাতে নেমে পড়েছে।”
সূর্যকুমারও খাদের কিনারায় রয়েছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজ়ে রান না পেলে, বিশ্বকাপই হয়তো ভারতের জাতীয় দলে শেষ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। সাজঘরে আস্থাও তিনি হারাবেন বলে অনেকের বিশ্বাস। তাঁকেও শুভমনের মতোই ছেঁটে ফেলা হতে পারে। তখন হয়তো শুভমনকেই আবার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরিয়ে এনে অধিনায়ক করে দেওয়া হবে। শুভমনকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে আগরকর বলেন, “আমরা জানি শুভমন কতটা ভাল ক্রিকেটার। দুর্ভাগ্যবশত গত বিশ্বকাপেও দলের কম্বিনেশনের জন্য ওকে নেওয়া হয়নি। দলের কম্বিনেশনই সবার আগে থাকে। ১৫ জনের দল বেছে নিতে হলে কাউকে তো বাদ দিতেই হবে। এই মুহূর্তে গিলকেই বাদ দিতে হল।” একই প্রসঙ্গে সূর্যকুমার যাদব বলেন, “গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আমরা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ২০০-র বেশি রান করেছিলাম এবং গিল সেই দলে ছিল। এই মুহূর্তে টপ অর্ডারে একজন কিপার রাখার জন্যই ওকে বাদ দিতে হল। পরের দিকে রিঙ্কু এবং ওয়াশিংটন রয়েছে। তাই উপরের দিকে ঈশানকে দরকার ছিল। গিলের ফর্ম নিয়ে কোনও চিন্তাই নেই আমাদের।”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে দিল বিসিসিআই। শনিবার ভারতের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে শুভমন গিলের বাদ পড়া। নাম না থাকায় ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ফর্ম, দলগত ভারসাম্য ও বোর্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে উঠেছে প্রশ্ন। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুতই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁদের দাবি, গিলের বাদ পড়া কোনওভাবেই তাঁর পারফরম্যান্স বা যোগ্যতার ওপর প্রশ্ন নয়। বরং পুরোপুরি টিম ব্যালেন্স এবং ম্যানেজমেন্টের কৌশলগত ভাবনার ফল। বিশেষ করে ওপেনিং কম্বিনেশনকে মাথায় রেখে। নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগরকর সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘শুভমনের ক্ষমতা নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ও হয়তো খুব বেশি রান পায়নি, কিন্তু তাতে আমাদের মূল্যায়ন বদলায় না। আগের বিশ্বকাপেও ভিন্ন কম্বিনেশনের কারণে ও দুর্ভাগ্যবশত সুযোগ পায়নি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এবারও সিদ্ধান্তটা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলগত ভারসাম্যের বিষয়। বিশেষ করে ওপরে দু’জন উইকেটকিপার রাখার পরিকল্পনা।’ ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও একই সুরে কথা বলেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ফর্ম নয়, পুরোপুরি দলের প্রয়োজন ও টিমের ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। স্কাই বলেন, ‘এটা ওর ফর্মের ব্যাপার নয়। পুরো বিষয়টাই কম্বিনেশন নিয়ে। আমরা ওপরে একজন উইকেটকিপার রাখতে চেয়েছিলাম। শুভমানের ক্লাস নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই, ও অসাধারণ খেলোয়াড়।’ তিনি আরও জানান, ‘রিঙ্কু সিংকে আমাদের দরকার ছিল, ওয়াশিংটন সুন্দরও রয়েছে। একাধিক কম্বিনেশন যাতে বেছে নেওয়া যায় সেই জন্যই এই দল বেছে নেওয়া হয়েছে। গিলের যোগ্যতা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।’ দল নতুন করে নির্বাচনের অংশ হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে অক্ষর প্যাটেলের। গিলের বাদ পড়ার ফলে শূন্য হওয়া ভাইস ক্যাপ্টেন্সির জায়গা পূরণ করবেন তিনি। উল্লেখযোগ্যা ভাবে স্কোয়াডে ফিরেছেন ঈশান কিষাণও। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ফের জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। চলতি বছর সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ঝাড়খণ্ডকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ঈশান, যা তাঁকে টপ অর্ডারের একজন কার্যকর ও প্রধান বিকল্প হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।




