Saturday, July 4, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মেসির সফরের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রুকে গ্রেফতার করল পুলিশ! ‘দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত’, বললেন ডিজি রাজীব

লিয়োনেল মেসিকে কলকাতায় আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। জানালেন ডিজি রাজীব কুমার। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস। দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য ডিজির। স্টেডিয়ামের বাইরে উত্তেজনা। বাইপাসে উত্তেজনা ছড়াল। লাঠি নিয়ে জনতাকে তাড়া পুলিশের। ‘চোর-চোর’ স্লোগান জনতার। মেসিকে সামনে রেখে দুর্নীতির অভিযোগ জনতার একাংশের। মাঠের ধারে রাখা তাঁবুতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন কয়েক জন। লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলার পর সাংবাদিক বৈঠক করলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। তিনি জানান, প্রধান উদ্যোক্তাকে আটক করা হয়েছে। আয়োজকদের গলদ রয়েছে কি না থতিয়ে দেখা হবে। দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়া উচিৎ। নইলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত খবর, মূল উদ্যোক্তা শতদ্র দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যুবভারতীর বিশৃঙ্খলা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব বলেন, “মেসি খেলছেন না শুনে ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ বা উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। আয়োজকদেক পরিকল্পনা ছিল যে তিনি এখানে আসবেন, হাত নাড়বেন, নির্দিষ্ট কিছু লোকের সাথে দেখা করবেন এবং চলে যাবেন। এখন সরকার ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করেছে, যা আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনও অব্যবস্থাপনা ছিল কি না বা অন্য কোনও কিছু ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। আয়োজকদের লিখিত অবস্থায় জানাতে হবে যে টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া হবে। নইলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ইতিমধ্যেই উদ্যোক্তাকে আটক করেছি।”কলকাতা পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম বলেন, “অবিলম্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। সবাই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। ঘটনাটি সল্টলেক স্টেডিয়ামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এটি একটি বড় ঘটনা। আমরা কাজ করছি এবং নিশ্চিত করব যে সল্টলেক স্টেডিয়ামে আজ যা ঘটেছে তার জন্য যে বা যারা দায়ী, তাদের শাস্তি দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” গোট ইন্ডিয়া ট্যুরের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আটকের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ বাধে। ক্ষুব্ধ জনতা দখল নিয়ে নেয় যুবভারতীর। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মেসিকে ঘিরে ছিলেন নেতা-মন্ত্রীরাও। আরও অভিযোগ, মেসি যুবভারতীতে পৌঁছোতেই অন্তত ৭০-৮০ জন মানুষের ভিড় ঘিরে ধরে তাঁকে। গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখাই যায়নি। চড়া দামে টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে না পাওযায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় ব়্যাফ। ছেঁড়া হয় মেসির পোস্টারও।

যুবভারতীতে ঢোকা থেকেই লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে রইলেন কর্তা-মন্ত্রীরা। মোটা টাকায় টিকিট কেটে গিয়েও প্রিয় তারকাকে দেখতে না-পাওয়া দর্শকদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ল মাঠে। বোতল পড়ল। গ্যালারির চেয়ার ভেঙে ভেঙে মাঠে ফেলা হল। ফেন্সিংয়ের গেট ভেঙে শয়ে শয়ে দর্শক ঢুকে পড়লেন মাঠে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাঁদের ফেরানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। কার্যত রণে ভঙ্গই দিতে হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের। সব মিলিয়ে লন্ডভন্ড যুবভারতী স্টেডিয়াম। শনিবার ঠিক সকাল ১১.৩০ মিনিটে যুবভারতীর মাঠে ঢোকে মেসির গাড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পল। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত দেখায় মেসিকে। তবে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু মানুষ ঘিরে ধরেন তাঁকে। ফলে গ্যালারি থেকে শুধু মেসিকে নয়, লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পলকেও দেখা যায়নি। এক সময় ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মেসি যুবভারতীতে পৌঁছোতেই অন্তত ৭০-৮০ জন মানুষের ভিড় ঘিরে ধরে তাঁকে। মূলত মন্ত্রী, কর্তারাই ঘিরে ধরেন মেসিকে। অনেকে প্রায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের মতো এলএম টেনের শরীরে ঘেঁষে ছিলেন। মেসিকে ভাল করে হাঁটার জায়গাটুকুও দিচ্ছিলেন না কেউ কেউ! ক্যামেরা এবং মোবাইল হাতে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মেসিকে ঘিরে রাখেন নিরাপত্তারক্ষীরা। অপ্রীতিকর কোনও পরিস্থিতি তৈরি না হলেও তাঁরা আয়োজকদের ভিড় সরানোর অনুরোধ করেন। গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। টিকিট কেটে মেসিকে দেখতে যাওয়া ফুটবলপ্রেমীদের ভরসা ছিল স্টেডিয়ামের তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিন।

মোহনবাগান এবং ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে মেসি পরিচিত হওয়ার সময়ও ভিড় ঘিরে ছিল তাঁকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে মাইক্রোফোনে ঘোষণা করতে হয়। তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। কারণ, মেসি যে ১৬-১৭ মিনিট মাঠে ছিলেন, সেই সময় গ্যালারি থেকে এক বারও দেখা যায়নি তাঁকে। ১১.৫২ মিনিটে মেসিকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও পর্যন্ত মাঠে এসে পৌঁছোননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আর্জেন্টিনার তারকা মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মোটা টাকায় টিকিট কিনে মাঠে এসেও মেসিকে দেখতে না পাওয়ায় ফুটবলপ্রেমীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শুরু হয় গ্যালারিতে লাগানো হোর্ডিং ভাঙচুর। পরে গ্যালারির চেয়ার ভেঙে মাঠে ছুড়তে শুরু করেন ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। মাঠে পড়তে শুরু করে বোতল। এই সময় গ্যালারিতে কোনও পুলিশকর্মীকে দেখা যায়নি। মেসিকে দেখতে না পাওয়ার হতাশায় ক্রমশ বাড়তে থাকে উত্তেজনা। এক সময় মাঠের ধারে ফেন্সিংয়ের গেট ভেঙে হু-হু করে মাঠে লোক ঢুকতে শুরু করে। প্রথমে পুলিশ ছিল দিশাহারা। কিছুটা পর সম্বিত ফেরে পুলিশকর্মীদের। লাঠি উঁচিয়ে ক্ষুব্ধ জনতাকে তাড়া করে গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীরা আবার মাঠে ফিরে আসেন। সব মিলিয়ে যুবভারতী রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা। দর্শকদের ক্ষোভে হতাশ যুবভারতী। অভিযোগ, মাঠে মেসির সঙ্গে এত ভিড় ছিল, মেসিকে দেখতেই পাননি দর্শকরা। রাগে মাঠে পরপর বোতল পড়তে থাকে। এমনকী, মেসির পোস্টার ছিঁড়ে মাঠে ফেলা হয়, ছুঁড়ে ফেলা হয় চেয়ার। দর্শকদের অভিযোগ, হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটা বৃথা হল। মাঠের মাঝে মেসিকে ঘিরে এত ভিড় যে গ্যালারি থেকে দেখাই যায়নি। সেই রাগে জল ভর্তি বোতল মাঠ লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারা হয়। ফলে, নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়েন মেসি। তাঁকে কনভয় করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। মাঠে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মাঠে বোতল পড়তে থাকে, পরপর চেয়ার ছুঁড়তে থাকে। হু হু করে মাঠে ঢুকে পড়েন দর্শকরা। মেসির সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে মাঠের মধ্যেই ফেলা হয়। গোট ইন্ডিয়া ট্যুরের যত পোস্টার ছিল সব ছিঁড়ে ফেলা হয়। দর্শকদের অভিযোগ, এত টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও কেন মেসিকে দেখা গেল না? সেই ক্ষোভ থেকেই ছোঁড়া হল বোতল। এমনকী, মাঠে ঢুকে গোল পোস্ট ভাঙার চেষ্টা করা হয়। গ্যালারি নিমেষে ফাঁকা হয়ে যায়। মাঠে ভরে যায় দর্শকে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যুবভারতীর অবস্থা বর্তমানে শোচনীয়। শাহরুখ খান মাঠে এসেছিলেন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য। কিন্তু তার আগেই তিনি ফিরে গেলেন। পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে যুবভারতীর ডাগ আউট। মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় দর্শকদের দখলে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের তাড়া করে। যদিও লাঠিচার্জ করা হয়নি। পুলিশের তাড়া খেয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় দর্শকরা। পরে পাল্টা দর্শকরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মাঠের ছাউনিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গলগল করে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। যুবভারতীর বাইরে বিবেকানন্দের মূর্তির সামনেও বিক্ষোভ দেখান দর্শকরা। ধোঁয়া দেখেই তৎপরতার সঙ্গে আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী, স্টেডিয়ামের বাইরে সাংবাদিকদের ওপরেও আক্রমণ করা হয়। আক্রমণের মুখে পড়েন চিত্র সাংবাদিকরাও।

মাঠের দখল নিয়ে নেয় অন্তত হাজার দুয়েক লোক। মাঠে ঢুকে কেউ ডিগবাজি খেয়েছেন, কেউ নিজস্বী তুলেছেন, কেউ আবার লাফিয়েছেন। কয়েক জনের হাতে দেখা গিয়েছে গেরুয়া পতাকাও। বলা ভাল, যুবভারতীর মাঠে যে যা খুশি করেছেন। শেষ পর্যন্ত র‌্যাফ নামাতে হয় গ্যালারিতে। ব্যবহার করতে হয় কাঁদানে গ্যাস। পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মেসি বিমানবন্দরের পথে রওনা হয়ে যাওয়ার পরও যুবভারতীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি পুলিশ-প্রশাসন। ফুটবলপ্রেমীদের ক্ষোভ মূলত নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে। তাঁরা ফুটবলের রাজপুত্রকে ঘিরে থাকার জন্যই গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখা যায়নি। চড়া দামে টিকিট কিনেও মেসিকে তাঁদের দেখা হল না। অনেকের বক্তব্য, ফাঁকা মাঠে কয়েক জন নিরাপত্তারক্ষীকে দিয়ে মেসিকে মাঠের চার দিকে মিনিট পাঁচেক ঘোরালেই সকলে ভাল করে দেখতে পেতেন। কিন্তু তেমন কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি। মাঠের মাঝখানে ৭০-৮০ জন লোক মেসিকে ঘিরে রেখে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের বঞ্চিত করেছেন। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু পরিকল্পনাহীনতার ছাপ দেখা গিয়েছে। সব মিলিয়ে মেসির সফর ঘিরে লজ্জায় পড়তে হল কলকাতাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles