Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

জরুরিকালীন ক্যাপ্টেন?‌ ছিটকে গেলেন শুভমন গিল?‌ আগ্রাসনেও ভারসাম্য রাখতে চান পন্থ!

চোট নিয়ে ছিটকে গেলেন শুভমন গিল। বদলে ক্যাপ্টেন্সি করবেন ঋষভ পন্থ। ইডেনে প্রথম ম্যাচে হেরে সিরিজ ০-১ পিছিয়ে ভারত। মহেন্দ্র সিং ধোনির পর ভারতের কোন উইকেট টেস্ট ক্যাপ্টেন্সি করতে চলেছেন। গুয়াহাটিতে ইতিহাসে পা রাখবেন পন্থ।অপেক্ষা করে থাকবে একাধিক চাপ। গিলহীন ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে হবে। দুরন্ত প্রতিপক্ষকে থামাতে হবে। আর সমতা ফেরাতে হবে সিরিজে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট সিরিজে ওয়াইটওয়াশ হয়ে গিয়েছিল ভারত। ইডেন ধরলে ০-৩ ফলাফল এখন ০-৪ হয়ে গিয়েছে। কোচ গৌতম গম্ভীর যতই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতুন, তাঁর উপর চাপ থাকছেই। কোচকে হাসি উপহার দেওয়ার দায়িত্বও নিতে হবে পন্থকে।

মাঠে নামার আগে পন্থ বলেন, ‘যে কোনও ক্যাপ্টেনের কাছে একটা মাত্র ম্যাচ তেমন স্বস্তি দেয় না। কিন্তু আমি বোর্ডকে ধন্যবাদ দেব। বড় মঞ্চে নামার আগে যদি আপনি বেশি ভাবেন, অনেক সময় চাপ তৈরি হয়। যে কারণে আমি বেশি ভাবতে চাই না। একটা কঠিন টেস্ট ম্যাচ খেলে এসেছি। দ্বিতীয় ম্যাচটা জেতার জন্য যা যা দরকার, তাই করব। কে শুভমনের বদলে খেলবে, তা ঠিক করে ফেলা হয়েছে। আমি একদিকে যেমন স্বাভাবিকত্ব ধরে রাখতে চাই, একই সঙ্গে আগ্রাসনের সঙ্গে একটা ভারসাম্যও রাখতে চাই। একটা টিমকে জেতানোর জন্য সহজসরল ভাবে যা যা দরকার, সেটাই করব।’

শুভমন খেলতে চেয়েছিলেন। যে কারণে টিমের সঙ্গে গুয়াহাটিও গিয়েছিলেন। পন্থের কথায়, ‘শুভমন ভীষণ ভাবে খেলতে চেয়েছিল। শরীর না দিলেও দলের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখাতে চেয়েছিল। এটাই আমাদের কাছ থেকে সবাই দেখতে চায়। গতকাল ওর কাছ থেকেই জানতে পেরেছি, আমাকে ক্যাপ্টেন্সি করতে হবে।’
গুয়াহাটি এসে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে ভারত। স্বস্তি একটিই কারণে। বরষাপাড়ার উইকেট। ভারতীয় দল বুঝে গিয়েছে, এই উইকেট আর যাই হোক, ইডেনের পিচ নয়। শুভমন গিলের জায়গায় দ্বিতীয় টেস্টে যিনি অধিনায়কত্ব করবেন, সেই ঋষভ পন্থ গুয়াহাটির ২২ গজ দেখে খুশি। তবে অখুশি মাত্র একটি টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া সুযোগ পেয়ে। শুক্রবার ম্যাচের আগের দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন পন্থ। নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। পন্থ জানিয়েছেন, এ ভাবে এক ম্যাচের জন্য নেতৃত্ব পাওয়ায় তিনি খুশি নন। পন্থ বলেছেন, ‘‘একটা ম্যাচের জন্য নেতৃত্ব পাওয়াটা ভাল বিষয় নয়। তবে এই সম্মান দেওয়ার জন্য আমি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কাছে কৃতজ্ঞ। অনেক সময় আপনি বড় কোনও বিষয় নিয়ে ভাবতে পারেন। তাতে লাভ কিছু হয় না। আমিও এটা নিয়ে বেশি ভাবতে চাই না। প্রথম টেস্টটা আমাদের ভাল যায়নি। এই ম্যাচটা জেতার জন্য আমাদের যা যা করা প্রয়োজন, তা আমাদের করতে হবে। শুভমনের চোটের প্রসঙ্গও। এ দিনই ভারতীয় দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। আপনার সঙ্গে কথা হয়েছে? পন্থ বলেছেন, ‘‘শুভমনের সঙ্গে তো রোজই কথা হয়। আগে চেয়ে ভাল আছে। এই ম্যাচটা ও ভীষণ ভাবে খেলতে চেয়েছিল। শারীরিক সমস্যা উপেক্ষা করে খেলতে চাইছিল। অধিনায়ক ব্যথা-যন্ত্রণা ভুলে মাঠে নামার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলে, বাকি দলের মধ্যেও একটা জেদ তৈরি হয়। দলের মানসিকতাই অন্য রকম হয়ে যায়। শুভমনের পরিবর্তে কাকে খেলানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। যে খেলবে, সে জানেও। অধিনায়ক হিসাবে সতীর্থদের স্বাধীনতা দিতে চাই। শুধু খেলোয়াড়েরাই নয়, দলের সঙ্গে থাকা সকলে নিজেরাই শিখুক এবং দলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিক। নিজের অভিজ্ঞতা সব সময় অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আমি প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে সকলকে সাহায্য করব।’’
’’

পন্থ বুঝিয়ে দিয়েছেন, শুভমনের চোটের জন্য তাঁকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতি কাম্য নয়। তাই এক ম্যাচের নেতৃত্ব নিয়ে না ভেবে ম্যাচ জেতাকেই পাখির চোখ করতে চাইছেন পন্থ। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা সকলে জানি কী করে ক্রিকেট খেলতে হয়। মাঠে কেমন আচরণ করতে হয়। শেষ টেস্টটা আমরা ভাল খেলতে পারিনি। কিন্তু আমাদের সামনে দিকে তাকাতে হবে। সামনে এগোতে হবে। গুয়াহাটিতে জেতার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমাদের করতে হবে। আমরা শুধু জয় নিয়েই ভাবতে চাইছি।’’ ইডেন গার্ডেন্সের পিচ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ব্যাটারেরা সমস্যায় পড়েছিলেন। গুয়াহাটির ২২ গজ দেখে স্বস্তি পেয়ে পন্থ বলেন, ‘‘এই মাঠে এটাই প্রথম টেস্ট। সকলের মধ্যে একটা আলাদা আবেগ রয়েছে। পিচ দেখে ভালই মনে হয়েছে। ব্যাট করার জন্য ভাল পিচ। কয়েক দিন পর হয়তো স্পিনারেরা সাহায্য পাবে। আশা করছি, ভাল লড়াই হবে।’’

দু’টেস্টের সিরিজ়ে ০-১ পিছিয়ে থাকা ভারতীয় দলের সামনে জয় ছাড়া উপায় নেই। দ্বিতীয় টেস্ট ড্র হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ় হারতে হবে ভারতকে। সিরিজ়ে সমতা ফেরানোর প্রস্তুতি নিয়ে পন্থ বলেছেন, ‘‘আমাদের মধ্যে প্রচুর আলোচনা হয়। আগের টেস্টে আমাদের মনে হয়েছিল, বেশি স্পিনার খেলালে লাভ হবে। এক জন বাড়তি জোরে বোলার খেলানোর সুযোগ সব সময় থাকে। আবার অন্য কেউ উইকেট পেলে মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। অধিনায়কদের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ। প্রশ্নের মুখে পড়তেই হয়। কিন্তু অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে তিনি আরও বলেছেন, ‘‘এমন পরিস্থিতিতে চাপ থাকবেই। এই পর্যায় সব সময় চাপ থাকে। হতে পারে আমরা সিরিজ়ে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছি। কিন্তু এ সবের ভিত্তিতে খেলা যায় না। মাঠে আমরা সব সময় চেষ্টা করি ২০০ শতাংশ দেওয়ার।’’ গুয়াহাটির বরষাপাড়া স্টেডিয়ামে টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে প্রথম নামবেন। পন্থ বেশ উত্তেজিত। তিনি বলেছেন, ‘‘এই মাঠটা আমার খুব প্রিয়। হৃদয়ের কাছের। এই মাঠেই এক দিনের আন্তর্জাতিকে আমার অভিষেক। এখানেই প্রথম টেস্ট ম্যাচে নেতৃত্ব দেব। মাঠটা আমার ক্রিকেটজীবনে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। শুধু মাঠটা নয়, আমার ক্রিকেটজীবনে গুয়াহাটির তাৎপর্যই আলাদা।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles