Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দেশ জুড়ে মূলস্রোতে ফিরছেন নকশালেরা!‌ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির যৌথ প্রচেষ্টায় চরমপন্থা নির্মূল হবে :‌ দ্রৌপদী মুর্মু

ছত্তীসগঢ়ের সরগুজা জেলার অম্বিকাপুরে ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। ছিলেন ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এবং রাজ্যপাল রমেন ডেকাও। দেশ জুড়ে মূলস্রোতে ফিরছেন নকশালেরা। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারগুলির যৌথ প্রচেষ্টায় আগামী দিনে চরমপন্থা নির্মূল হবে। ছত্তীসগঢ়ে গিয়ে এমনই আশা প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আগামী দিনে চরমপন্থামুক্ত সমাজ গড়ে তোলার বার্তাও দিয়েছেন। আদিবাসী সমাজকে ধাপে ধাপে এগোনোর বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বলেছেন, ‘‘বামপন্থী চরমপন্থার পথ ত্যাগ করে ছত্তীসগঢ়ের মানুষ উন্নয়নের মূলস্রোতে ফিরে আসছেন। শুধু ছত্তীসগঢ়েই নয়, সারা দেশে নকশালেরা মূলস্রোতে ফিরছেন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে চরমপন্থা সম্পূর্ণ নির্মূল করা এক দিন সম্ভব হবে।’’ নকশালদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একে ‘খুব সন্তোষজনক একটি পরিবর্তন’ বলেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর আশা, উন্নয়নশীল আত্মনির্ভর ভারতে আরও বেশি করে অবদান রাখবে আদিবাসী সমাজ। সম্প্রতি বস্তার অলিম্পিক্সে ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। সে কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘‘আদিবাসী নেতাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছত্তীসগঢ়ের মানুষ শক্তিশালী, আত্মনির্ভর, বিকশিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, আমি সে ব্যাপারে নিশ্চিত।’’ আদিবাসী নারীদের উন্নয়নের পক্ষেও বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী মহিলা ক্রিকেটদলে আদিবাসী ক্রিকেটার ক্রান্তি গৌড়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘পরিশ্রম আর সংকল্পের এক বৈপ্লবিক উদাহরণ দেখিয়েছেন ক্রান্তি। সারা দেশের মেয়েদের, বিশেষত আদিবাসী নারীদের কাছে তিনি অনুপ্রেরণা।’’ একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জানান, দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলোকে সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

বিএলও’দের দুর্দশা, তা নিয়ে গতকাল নিজের পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পরের দিন, বৃহস্পতিবার এসআইআর ইস্যুতে কমিশনকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাতে তিনি, দেরি না করে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন। এসআইআর চলছে বাংলায়। শুরুর পর থেকেই একের পর এক মৃত্যুর খবর। আতঙ্কে, আশঙ্কায়, এমনকী এই প্রক্রিয়ায় যাঁরা কাজ করছেন, কাজের চাপে তাঁদের মৃত্যুর খবরও উঠে এসেছে।
মমতা চিঠিতে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন(SIR) এবং জনগণের উপর এটি যেভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে আমি বারবার আমার গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাই আমি আপনাকে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। কর্মকর্তা এবং নাগরিকদের উপর যেভাবে এই প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা কেবল অপরিকল্পিত এবং বিশৃঙ্খলই নয়, বিপদজনকও।’ গোটা প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা বা স্পষ্ট যোগাযোগের অভাব রয়েছে, তাও উল্লেখ করেছেন তিনি চিঠিতে। চিঠিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, এই অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে এবং প্রবল কাজের চাপের মধ্যে BLO-দের কাজ করতে হচ্ছে, কিন্তু BLO-দের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সময়। অবাস্তব কাজের চাপ, অসম্ভব সময়সীমা এবং অনলাইন ডেটা এন্ট্রির বিষয়ে অপর্যাপ্ত সহায়তা সম্মিলিতভাবে সমগ্র প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে বিএলও’রা দুর্দশার মুখে পড়েছেন। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘বিএলও-দের উপর অত্যধিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা তাঁদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।’ কৃষিক্ষেত্রের এই ব্যস্ততম সময়ে SIR প্রক্রিয়া চলায়, তা সাধারণের উপরেও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান উল্লেখ করেছেন সেই বিষয়টিও।

চিঠির একেবারে শেষ অংশে, এই কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য সিদ্ধান্তমূলক হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন, বলপ্রয়োগ বন্ধ করে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান এবং বর্তমান পদ্ধতি এবং সময়সূচী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্মূল্যায়ন করার আর্জি জানিয়েছেন। বুধবারেই সামনে আসে এক ঘটনা। এসআইআর এর চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী বিএলও। বুধবার ভোরবেলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন শান্তিমনি এক্কা (৪৮)। তিনি ছিলেন এলাকার একজন আইসিডিএস কর্মী ও একই সঙ্গে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। শান্তিমনি এক্কার পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত কাজের অতিরিক্ত চাপ ও মানসিক যন্ত্রণা তিনি বহুদিন ধরেই সহ্য করতে পারছিলেন না। নিয়মিতভাবে বাড়িতে ফিরে কান্নাকাটি করতেন শান্তিমনি। দীর্ঘদিনের অবসাদে, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেই দাবি স্বামী ও সন্তানের। ঘটনার পরেই, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। একইসঙ্গে তিনি নিশানা করেন কমিশনকে। পোস্টে মমতা লেখেন, ‘SIR শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ কেউ ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত চাপের কারণে। তথাকথিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আরোপিত অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত, নিরলস কাজের চাপের কারণে এত মূল্যবান জীবন হারিয়ে যাচ্ছে।’ মমতা ওই পোস্টেই লিখেছেন, আগে যে প্রক্রিয়ায় ৩ বছর সময় লাগত, এখন রাজনৈতিক কারণে, নেতাদের খুশি করার জন্য নির্বাচনের প্রাক্কালে ২ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে BLO-দের উপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তাও বলে দিয়েছিলেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। নিজের পোস্টেই তিনি নির্বাচন কমিশনকে অপরিকল্পিত অভিযান বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছেন। তারপরেই তিনি কমিশনকে চিঠি লিখলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles