বিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরকে কটাক্ষ লক্ষ্মীরতন শুক্লার। টিম নির্বাচন এবং ফিটনেস নিয়ে মহম্মদ সামির হয়ে সওয়াল করেন বাংলার কোচ। রঞ্জি ট্রফিতে গুজরাটের বিরুদ্ধে বাংলার হয়ে ৮ উইকেট নেন সামি। ম্যাচ শেষে তারকা পেসারের ভূয়সী প্রশংসা করেন লক্ষ্মী। তাঁকে ‘সেলফ মেড সার্টিফিকেট’ দেন। এক কথায়, চড় মারেন আগরকরের মুখে। লক্ষ্মীরতন বলেন, ‘সামি কেমন বল করেছে সবাই দেখেছে। আমার নতুন করে কিছু বলার নেই। ওর পারফরম্যান্স বলে দিয়েছে। ওর দায়বদ্ধতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না। মহম্মদ সামি কী সেটা সারা বিশ্ব জানে। ওর কারোর থেকে কোনও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। ওর বোলিংই ওর সার্টিফিকেট। ও সম্পূর্ণ ফিট।’ ভারতের টেস্ট দলে তাঁকে ডাকা হয়নি। তার কারণ হিসেবে ফিটনেসের অভাব এবং যথাযত ম্যাচ টাইম না পাওয়াকে দায়ী করেন আগরকর। তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্মীর এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে মুখ্য নির্বাচককে খোঁচা। বছরের শুরুতে গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার হয় তারকা পেসারের। কিন্তু চোটমুক্ত হয়ে মাঠে ফেরেন। দুটো রঞ্জি ম্যাচে ১৫ উইকেট তুলে নেন। লক্ষ্মী তারকা পেসারের কর্মসংস্কৃতির প্রশংসা করেন। দাবি করেন, প্রত্যেক ম্যাচেই খেলতে চান সামি। কিন্তু তাঁরা ভেবেচিন্তে তাঁর ওয়ার্কলোড সামলাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে লক্ষ্মী বলেন, ‘সাতটা ম্যাচেই সামিকে খেলানো যাবে না। যদিও ও নিজেকে ফিট বলে এবং প্রত্যেক ম্যাচে খেলতে চায়। যেভাবে দৌড়াচ্ছে, অবিশ্বাস্য। ৫০০ উইকেটের পরেও দারুণ ছন্দে। ঠাণ্ডা মাথায় খেলছে।’ ভারতের জার্সিতে শেষবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে দেখা যায় সামিকে। তারওপর আবার দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকেন। দুই দশক পর গুজরাটের বিরুদ্ধে বাংলার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সামি। তাঁর পাঁচ উইকেট প্রতিপক্ষের মিডল অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দেয়। আরও একবার লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে অন্যতম সেরা প্রতিপন্ন করেন। ম্যাচ শেষে সামি জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি ফিট এবং তৈরি। তিনি বলেন, ‘সবাই দেশের হয়ে খেলতে চায়। আমি সেটার জন্য তৈরি। নিজেকে ফিট রাখা এবং পারফর্ম করা আমার মোটিভেশন। বাকিটা নির্বাচকদের ওপর নির্ভর করছে।’ সামির এই দুরন্ত পারফরম্যান্সে আবার স্পটলাইট নির্বাচকদের ওপর।

ভেস্তে গেল সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টি। বৃষ্টির জন্য। তুমুল বৃষ্টির জন্য ক্যানবেরায় খেলাই শুরু করা গেল না ৯.৪ ওভারের পর। ক্যানবেরায় সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টি ম্যাচে বৃষ্টির ভ্রুকুটি ছিল। খেলা অবশ্য যথাসময়েই শুরু হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া টস জিতে শুরুতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুই ভারতীয় ওপেনার মারকাটারি ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। কিন্তু দলের রান যখন পাঁচ ওভারে ৪৩/১ তখন বৃষ্টি নামে। ওইসময় আউট হয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক শর্মা (১৯)। উইকেটে ছিলেন শুভমান গিল ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এরপর বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকার পর ফের তিনটে নাগাদ খেলা শুরু হয়। জানানো হয় ১৮ ওভারের খেলা হবে। এরপরই সূর্য ও গিল আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। এশিয়া কাপে রান পাননি সূর্য। এদিন যেন তা সুদে আসলে পুষিয়ে দেওয়ার জন্য ক্যানবেরায় নেমেছিলেন। ২৪ বলে ৩৯ করে ফেলেছিলেন সূর্য। ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছয়। আর গিল করে ফেলেছিলেন ২০ বলে ৩৭। মেরেছিলেন চারটি চার ও একটি ছয়। ৯.৪ ওভারে ভারতের রান যখন ৯৭/১। তখন ফের বৃষ্টি নামে। সূর্য ও গিল জুটিতে তুলে ফেলেছিলেন ৬২ রান। দুর্দান্ত খেলছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য। বৃষ্টির জন্য খেলাই হয়ে গেল পরিত্যক্ত। আর শুরুই করা গেল না খেলা। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ এখন হয়ে গেল চার ম্যাচের। এটা ঘটনা, ক্যানবেরায় ছিল বৃষ্টির ভ্রুকুটি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস জানিয়েছিল, বুধবার সারাদিন ধরেই ক্যানবেরায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দিনের বেলাতেই ৬০ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। রাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির প্রকোপ কমে যাবে জানা গিয়েছিল। যে সময়ে ম্যাচ শুরু হবে, তখন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ১৩ থেকে ২৫ শতাংশ ছিল। আরও রাত হলে তা নেমে আসবে সাত শতাংশে। কিন্তু আদতে হল উল্টো। এত বৃষ্টি হল যে খেলাই করতে হল পরিত্যক্ত।





