Friday, May 1, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘ইউনিভার্সাল কিডনি’ কাজ করবে দ্রুত!‌ কৃত্রিম কিডনি গড়ে নজিরের সামনে কানাডা ও চিন

‘ইউনিভার্সাল কিডনি’। কিডনির মতোই গড়ন। নকল। কাজ করবে দ্রুত। কিডনির কাজটা হবে! নকল সেই কিডনিকে বসিয়ে দিতে হবে শরীরের ভিতরে। কৃত্রিম কিডনি গড়ে নজির গড়তে চলেছে কানাডা ও চিনের বিজ্ঞানীরা। নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কিডনি’। রক্তের গ্রুপ যা-ই হোক না কেন, তা যে কোনও ব্যক্তির শরীরেই সক্রিয় হবে। কৃত্রিম কিডনি নিয়ে গবেষণা বহু বছর ধরেই চলছে। মাঝে পশুর কিডনি মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন নিয়ে বেশ হইচই হয়েছিল। শূকরের কিডনি মানুষের শরীরে বসানো হলেও তা বেশি দিন টেকেনি। এ দিকে একটি বা দু’টি কিডনিই বিকল হয়েছে যে রোগীর, তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করিয়ে রাখাও যায় না। উপযুক্ত দাতার আশায় দিন গুনতে গুনতে বিপদ আরও বাড়ে। তাই এই সব কিছুর ঝক্কি ঝেড়ে ফেলতে কৃত্রিম কিডনি বানানোর দিকেই ঝুঁকেছেন গবেষকেরা। কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার গবেষকেরা জানিয়েছেন, মানুষের শরীরেরই কোষ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম কিডনি। যে কোনও ব্যক্তির শরীরেই তা বসানো যাবে। আপাতত ব্রেন ডেথ হওয়া এক রোগীর শরীরে বসিয়ে দেখা গিয়েছে, সেটি দিব্যি কাজ করছে। সব ঠিক থাকলে খুব তাড়াতাড়ি বাণিজ্যিক ভাবে তা বাজারে নিয়ে আসাও হবে। তলপেটে যেখানে শরীরের দু’পাশে দু’টি কিডনি রয়েছে, সেখানেই যে কোনও এক দিকে ওই কিডনি বসিয়ে দেওয়া যাবে। তাকে চালাবে হার্ট থেকে আসা রক্তই। তবে সেই রক্তকে ফিল্টার করে নেবে ওই কৃত্রিম কিডনি। নজর রাখবে শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলির ক্ষরণ যেন ঠিকমতো হয়। শুধু তা-ই নয়, শরীরে রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজও করবে ওই কৃত্রিম কিডনি। শরীরের ভিতরেই হিমো-ডায়ালিসিসের প্রক্রিয়া চলে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, আসল কিডনি দু’টি বয়ে চলা রক্তস্রোত থেকে শুধুই বিষ বা দূষিত পদার্থগুলিকে ছেঁকে নেয়। কৃত্রিম কিডনির গায়ে আলাদা করে ‘মেমব্রেন’ বা ঝিল্লির স্তর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা যে কোনও রকম টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থকে চিনে নিয়ে তাকে ছেঁকে বার করে দেবে। তার সঙ্গে থাকবে একটি বায়ো-রিঅ্যাক্টরও। সেই বায়ো-রিঅ্যাক্টর বানানো হয়েছে কিডনির সুস্থ, সবল কোষগুলি দিয়ে। সেগুলিই শরীরের স্বাভাবিক ডায়ালিসিস প্রক্রিয়াকে চালু রাখবে। কিডনির অসুখ চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে ক্রমশ। আর কিডনির সেই অসুখগুলির জন্য মূলত দায়ী দু’টি বিষয়। ডায়াবিটিস আর উচ্চ রক্তচাপ। কিডনির অসুখে ভুগে মৃত্যুর ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বার বার ডায়ালিসিস করানো বা কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ সামলানোও সকলের সাধ্যের মধ্যে নেই। কাজেই এই সমস্যার সমাধান যদি কৃত্রিম কিডনি দিয়ে হয়, তা হলে প্রাণ বাঁচবে বহু জনের।

‘ভুয়ো’ ওআরএস-এর বিক্রি রুখতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রের খাদ্য সুরক্ষা ও গুনমান দফতর (এফএসএসএআই)। নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) অনুমোদন ছাড়া এখন থেকে কোনও খাদ্যপণ্যের নামকরণে ‘ওআরএস’ শব্দটি রাখা যাবে না। লেবেলে ‘ওআরএস’ লেখা দেখে বিভ্রান্ত হয়ে অনেকেই নানা রকম মিষ্টি পানীয়, ডায়েট সোডা কিনে খেয়ে ফেলেন যা আসলে অস্বাস্থ্যকর। কোন কোন পানীয় ‘ওআরএস’ ভেবে ভুল হয় বেশির ভাগ সময়েই? ওআরএস-এর পুরো কথা ‘ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন’। শরীরে প্রয়োজনীয় জল ও খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে রোগীকে ওআরএস খাওয়ানোর নিদান দেন চিকিৎসকরা। হু অনুমোদিত ফর্মুলাতেই ওআরএস তৈরি হয়। আন্ত্রিকের সমস্যা, জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন ও বমি হচ্ছে এমন রোগীদেরই ওআরএস খাওয়ানো হয়। ডায়াবিটিস, কিডনির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে ওআরএস খাওয়ার সময়। ওআরএসে থাকে শর্করা ও সোডিয়াম, কাজেই অনিয়ন্ত্রিত প্রয়োগে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, অতিরিক্ত সোডিয়ামে রক্তচাপের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই ওআরএস খাওয়ার নিয়ম আছে। যে কাউকে ওআরএস দেওয়া যায় না। দোকানে এমন কিছু মিষ্টি পানীয়, কার্বনেটেড পানীয় বা প্যাকেটজাত ফলের রস বিক্রি হচ্ছে, যেগুলি গায়েও ‘ওআরএস’ লেখা থাকে। সেগুলি আসলে হু দ্বারা অনুমোদিত নয় বা তার ফর্মুলাও এক নয়। সে ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতেই হবে। এগুলিতে ইলেকট্রোলাইট (যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম) থাকে, তাই অনেকেই ওআরএস ভেবে ভুল করেন। এগুলিতে শর্করার মাত্রা খুব বেশি থাকে। স্পোর্টস ড্রিঙ্ক খেতে শুরু করলে ডায়েরিয়া বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। ফলের রস শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাবে ও জলশূন্যতা কমাবে। এমন কিছু ব্র্যান্ডের ফলের রস আছে যেগুলির প্যাকেটের উপর ‘ওআরএস’ লেখা থাকে। কিন্তু আসলে সেগুলি তা নয়। প্যাকেটজাত ফলের রসে শর্করার মাত্রা যেমন বেশি থাকে, তেমনই দীর্ঘ দিন প্যাকেটে সংরক্ষণের জন্য এমন কিছু প্রিজ়ারভেটিভ মেশানো থাকে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ‘জ়িরো সুগার’ লেবেল দেখে ডায়েট সোডা কিনে খেয়ে ফেলেন? এগুলি আরও বেশি অস্বাস্থ্যকর। গবেষণা বলছে, কেউ যদি দিনে একটি করেও ডায়েট পানীয় খান, তা হলে তাঁর টাইপ টু ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৩৮ শতাংশ বেড়ে যাবে। শুধু তা-ই নয়, এর থেকে ক্ষতির আশঙ্কা চিনি দেওয়া পানীয়ের চেয়েও অনেক বেশি। বোতলবন্দি নুন-চিনির জল বা ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়কে ‘ওআরএস’ ভেবে ভুল করবেন না। অনেকে ভাবেন, কেনার চেয়ে বাড়িতেই ওআরএস বানিয়ে নেবেন। সেখানেও ভুল হয়। বাড়িতে তৈরি নুন বা চিনির জল, অথবা চিনি দিয়ে সিরাপ বানিয়ে খেলে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। দেখা গিয়েছে, নুন-চিনির জলের স্বাদ বাড়াতে অনেকেই বেশি পরিমাণে চিনি ব্যবহার করেছেন। তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। বেশি নুন বা অধিক চিনি শরীরে গিয়ে বিপত্তি আরও বাড়িয়েছে। তাই একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত ‘ওআরএস’-ই খাওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles