সদস্য, সমর্থকদের আশ্বস্ত করল মোহনবাগান ক্লাব। সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বসু জানিয়েছেন, ইরানে না খেলার বিষয়টি মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বোর্ডে তুলবেন। ইরানে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ান্স লিগ-টু-তে মোহনবাগান খেলতে না যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সদস্য, সমর্থকেরা। তাঁদের আশ্বস্ত করল মোহনবাগান ক্লাব। মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বসু যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বোর্ডে গোটা ব্যাপারটা আলোচনার জন্য তুলবেন। সদস্য, সমর্থকদের পাশে থাকার আবেদন জানিয়ে দেবাশিস, এবং সৃঞ্জয় বলেছেন, “আমরা গত বছরও ইরানে খেলতে যাইনি। ইরানে যে একটা সমস্যা হচ্ছে সেটা সবাই জানেন। ফুটবলাররা যদি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, ম্যানেজমেন্ট সেখানে কিছু করতে পারে না। খেলার আগে গুরুত্বপূর্ণ হল ফুটবলাদের জীবন। ইরানে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা আমরা ফুটবলারদের উপরেই ছেড়ে দিয়েছিলাম।” মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মালিক সঞ্জীব গোয়েন্কার কথা জানিয়ে দেবাশিস এবং সৃঞ্জয় বলেন, “তিনি বছরে ৭০-৮০ কোটি টাকার দল গঠন করেন সর্বোচ্চ স্তরে ভাল ফল করার জন্য। এত খরচ করে দল গঠন করার পরেও কোনও সমস্যা না থাকলে ইরানে কেন খেলতে যাওয়া হবে না?” অনিশ্চিত আইএসএলের কথাও এই বিবৃতে জানিয়ে বলা হয়েছে, “এখনও আমরা জানি না আইএসএল হবে কি না। হলে কবে হবে, কী ভাবে হবে, কিছুই জানি না। তা সত্ত্বেও সঞ্জীব গোয়েন্কা বিশাল খরচ করে দল গঠন করেছেন।” মোহনবাগান সমর্থকদের প্রতি আবেদন জানিয়ে দেবাশিস এবং সৃঞ্জয় বলেছেন, “শুধু আবেগের বশে সমালোচনা না করে একটু যুক্তি দিয়ে ভাবুন। যিনি প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল গড়ে লক্ষ লক্ষ সমর্থকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন, তাঁকে সমালোচনায় বিদ্ধ করতে আপনাদের হৃদয় কাঁপছে না? আমরা সবাই চাই, মোহনবাগান ভারতীয় ফুটবলের গন্ডি ছাড়িয়ে এশীয় স্তরেও সাফল্য পাক। যখন ইরানে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, নিশ্চয়ই তার নেপথ্যে কারণ রয়েছে। মোহনবাগান কার্যকারী কমিটির পক্ষ থেকে মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের বোর্ডে গোটা ব্যাপারটা আলোচনার জন্য তোলা হবে। আশা করব, যে কোনও পরিস্থিতিতে সদস্য, সমর্থকেরা আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাশে থাকবেন।”
ঘোষিতআইএফএ শিল্ডের সূচি। দু’টি আলাদা গ্রুপে রাখা হয়েছে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানকে। ৮ অক্টোবর থেকে শিল্ড শুরু হবে। ফাইনাল ১৮ অক্টোবর। গ্রুপ এ-তে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে রয়েছে শ্রীনিধি ডেকান, নামধারী এফসি। মোহনবাগান রয়েছে গ্রুপ বি-তে। তাদের সঙ্গে রয়েছে গোকুলাম কেরালা এবং ইউনাইটেড স্পোর্টস। ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শিল্ড। ৮ অক্টোবর লাল-হলুদের প্রতিপক্ষ শ্রীনিধি ডেকান। এর পর ১৪ অক্টোবর ইস্টবেঙ্গল খেলবে নামধারীর সঙ্গে। মোহনবাগানের প্রথম ম্যাচ ৯ অক্টোবর। সে দিন প্রতিপক্ষ গোকুলাম কেরালা। সবুজ-মেরুনের পরের ম্যাচ ১৫ অক্টোবর ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে। শিল্ডের বাকি ম্যাচ শ্রীনিধি-নামধারী (১১ অক্টোবর), ইউনাইটেড স্পোর্টস-গোকুলাম (১২ অক্টোবর)। সব ম্যাচ বিকেল ৩টে থেকে হবে। তবে কোন ম্যাচ কোথায় হবে, এখনও ঠিক হয়নি। আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, “এ বার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দিয়েই শিল্ড শুরু হবে। কলকাতার দলগুলো যাতে কলকাতার মাঠে খেলতে পারে, সেই চেষ্টা করছি। কিছু ম্যাচ জেলার মাঠেও হতে পারে।” ফাইনালের আগে কলকাতার দুই প্রধানের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদি দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হয়, সেই ম্যাচ যুবভারতীতে হবে। ফাইনালের সময় এখনও ঠিক হয়নি। টিকিটের দামও এখনও ঠিক হয়নি।





