শহরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। জিএসটি সংস্কারের সাফল্যের জয়গান গাইবার পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দিলেন দেশ এখনও এক ধাপের জিএসটি কাঠামোর জন্য প্রস্তুত নয়। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই সংস্কারকে দীপাবলির উপহার বলা হলেও তা করা হয়েছে দুর্গাপুজোকে মনে রেখেও। জাতীয় গ্রন্থাগারের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভাষা ভবনে শিল্প ও বণিক মহলের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ”৫, ১২, ১৮ এবং ২৮ শতাংশের জিএসটি কাঠামো ইচ্ছাকৃতভাবে স্থির করা হয়নি। বরং বিভিন্ন রাজ্য-স্তরের করকে নিকটতম ধাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যে রাখার এক বিস্তারিত অনুশীলনের মাধ্যমেই তা তৈরি হয়েছে। যখন জিএসটি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছিল, তখন একটি দিক উঠে আসে যে জিএসটি কাউন্সিল সদস্যরা চারটি স্ল্যাব চান না। তবে, তাঁরা এখনই এক হারের জন্য প্রস্তুত কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়নি। সম্ভবত ভবিষ্যতে তা হতে পারে।” ২২ সেপ্টেম্বর তারিখটিকেই বেছে নেওয়া হল সেবিষয়েও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ”ওই দিনটিকেই বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা যায় বাংলার পুজোর কথা। অন্য দিনক্ষণ নিয়েও দাবি উঠেছিল। কিন্তু আমরা মহালয়ার পরের দিনকেই বেছে নিয়েছি।” এই সংস্কারের সুফল বাংলার হস্তশিল্প ও কৃষিজ পণ্যের ক্ষেত্রেও দারুণ ভাবে মিলবে বলে জানান তিনি।জিএসটি চালু হওয়ার পর ওই করকাঠামোর প্রবল বিরোধিতা করে কংগ্রেস। হাত শিবিরের দাবি ছিল, কংগ্রেস জিএসটির পক্ষে কিন্তু সেই জিএসটি অনেক সরল। বিজেপি যে জিএসটি চালু করেছে সেটা জটিল। এক দেশ-এক কর ধারণার পরিপন্থী। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রথম সেই করকাঠামো চালুর ৮ বছর পর সেটার সরলীকরণ করে বুধবার নেক্সট জেনারেশন জিএসটি চালু করেছে মোদি সরকার। এবারে যে জিএসটি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে অবশ্য বিরোধী শিবির সন্তুষ্ট। কংগ্রেসের দাবি, রাহুল গান্ধী লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে আসছেন বলেই বাধ্য হয়ে ৮ বছর পর জিএসটি প্রক্রিয়ার সরলীকরণ করেছে সরকার। পুজোর আগে মোদীর বড় উপহার। নতুন জিএসটি-কে নির্মলা সীতারামন তার বাংলার সম্মুখে তুলে ধরলেন অনেকটা এভাবেই। সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত হয়েছিল নেক্সট জেন জিএসটি শীর্ষক আলোচনাসভা। সেখানেই অর্থমন্ত্রী বলেন, নয়া প্রজন্ম উইডো শপিংয়েই বেশি অভ্যস্ত। কিন্তু তার পাশাপাশি এবার মন খুলে শপিং করার জন্য জিএসটির নতুন হার ধার্য করলেন মোদিজী। নয়া প্রজন্ম এবার মন খুলে কেনাকাটা করতে পারবে পুজোর জন্য। কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগার ভাষা ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মোদীর ইচ্ছে ছিল দ্রুত নতুন জিএসটি ব্যবস্থা শুরু করে দেওয়া। কিন্তু পিতৃপক্ষের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। মহালয়ার পর দিন অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন জিএসটি হার ধার্য করার কথা ঘোষণা করা হয়। শারদীয় দুর্গোৎসব বা নবরাত্রির সময় নয়া প্রজন্ম যাতে অনন্দে কেনাকাটা করতে পারেন, তার জন্যই এই ব্যবস্থা বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এই দিন বাংলার একাধিক শিল্পের উন্নতি নিয়েও কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। তাঁর কথায়, জিএসটির নতুন হারের ফলে শান্তিনিকেতনের কুটিরশিল্প, বাঁকুড়ার টেরাকোটা শিল্প, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ার মাদুর ও ছৌ মুখোশ তৈরির শিল্প উপকৃত হবে। এছাড়াও নদীয়ার তাঁত শিল্প, বর্ধমানের শোলার শিল্প তো আছেই। সবেতেই কর ছাড় পাবেন শিল্পী তথা কারিগররা। এছাড়াও মালদা-মুর্শিদাবাদের আম, নকশি কাঁথার শিল্প দার্জিলিঙের চা শিল্পের কথা উল্লেখ করতেও ভোলেননি তিনি। তাঁর কথায়, সমাজের সব শ্রেণির মানুষই জিএসটি দিয়ে থাকেন। তাই এই কর ব্যবস্থায় উপকৃত হবেন সব স্তরের মানুষরাই। এই মাসের গোড়াতেই জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে নতুন হার নির্ধারণ করেন অর্থমন্ত্রী। আগে ছিল চারটি হার ৫, ১২, ১৮ ও ২৮ শতাংশ। সেই ছাড়গুলিকে বাদ দিয়ে শুধু ৫ ও ১৮ শতাংশকে রাখা হয়েছে। একমাত্র কিছু নির্দিষ্ট দ্রব্য, তামাকজাত দ্রব্য ও মাদক দ্রব্যতে ৪০ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে।





