Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আচমকা হার্ট অ্যাটাকের আগে জানান দেয় জিভ! হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে খুব সহজেই ব্যবস্থা নিতে পারেন?

জিভ শরীরের আয়না। যে কোনও অসুখে রোগীর জিভ দেখতে চান চিকিৎসকেরা। জিভ দেখেই বোঝা যায় শরীরে হানা দিয়েছে কোন রোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের স্বাস্থ্যের সঠিক খেয়াল না রাখলে জিভের উপর সাদা আস্তরণ পড়ে। জিভের রং বদলের নেপথ্যে রয়েছে আরও অনেক কারণ। এমনকী শরীরের ছোট্ট এই অঙ্গের সঙ্গে হৃদপিণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ হৃদরোগের আভাস দিতে পারে জিভ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। গবেষণা বলছে, জিভের রং, আস্তরণ এবং জিভে উপস্থিত জীবাণুর প্রকারভেদ হৃদরোগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জিভের চেহারা সুস্থ মানুষের তুলনায় একেবারেই আলাদা হয়। সেক্ষেত্রে ঠিক কী কী পার্থক্য থাকতে পারে। সুস্থ ব্যক্তির জিভ সাধারণত ফ্যাকাশে লালচে রঙের হয় এবং এর উপরে হালকা সাদা আস্তরণ দেখা যায়। অন্যদিকে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন, তাঁদের জিভ তুলনামূলক বেশি লাল হয়ে থাকে এবং সেখানে সাদা আস্তরণের বদলে হলুদাভ কোট জমে।শরীরে অক্সিজেনের অভাবে জিভের রং হঠাৎ নীলচে বা বেগুনি হয়ে যেতে পারে। এছাড়া, শ্বাসযন্ত্র কিংবা কার্ডিওভাসকুলার কোনও সমস্যা থাকলেও জিভের রং নীল হয়ে যেতে দেখা যায়। জীবাণুর ভূমিকাঃ শুধু রঙই নয়, জিভের উপরিভাগে থাকা জীবাণুর গঠনেও মিলেছে তফাৎ। গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদরোগীদের জিহভে বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়া বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। সুস্থ ব্যক্তিদের জিভে সেই জীবাণু তেমন থাকে না। যা থেকে গবেষকরা অনুমান করেছেন, জিভের ব্যাকটেরিয়া হৃদরোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত বহন করতে পারে। গবেষকরা ৪২ জন হৃদরোগী ও ২৮ জন সুস্থ ব্যক্তিকে নিয়ে পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীরা মুখ, জিভ বা দাঁতের কোনও সংক্রমণে ভুগছিলেন না এবং সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক বা ইমিউনোসপ্রেসিভ ওষুধ ব্যবহার করেননি। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, ব্রেকফাস্টের আগে ও দাঁত মাজারও আগে স্টেইনলেস স্টিলের চামচ দিয়ে তাঁদের জিভের আস্তরণ সংগ্রহ করা হয়। পরে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবাণুগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশ্বজুড়ে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। হৃদরোগ ঠেকাতে এই গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে দাবি গবেষকদের। তাঁদের মতে, হৃদরোগের লক্ষণ বুঝতে এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। জিভের অবস্থার উপর নজর রেখে ভবিষ্যতে হৃদরোগ শনাক্তকরণ, রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ এমনকী প্রাথমিক লক্ষণ হিসাবে বড় সতর্কবার্তা পাওয়া যেতে পারে। তবে বিষয়টি আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করে গবেষক দল।

সুস্থতার জন্য খাদ্যাভ্যাসে চাই কিছু পরিবর্তন। তারই সঙ্গে ডায়েটে লাউয়ের রস রাখলে উপকার পাবেন হাতেনাতে। শরীরের যে কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে লাউ। পুষ্টিতে ভরপুর লাউয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি৯, ভিটামিন বি৬। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত লাউয়ের রস পান করলে শরীর যেমন সতেজ থাকে, তেমনি নানা রোগ প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। লাউয়ের রসে ক্যালোরি প্রায় নেই বললেই চলে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা শরীরকে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ফলে অকারণে বারবার খিদে পায় না। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন, তাঁদের জন্য লাইয়ের জুস হতে পারে এক প্রাকৃতিক সমাধান। হার্টের সমস্যার একটি বড় কারণ ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, লাউয়ের রস এই খারাপ কোলেস্টেরলকে বাগে আনতে পারে। আসলে এই পানীয়ে রয়েছে অত্যন্ত উপকারী কিছু ফাইটো কেমিক্যালস। আর এইসব উপাদান কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধহস্ত। তাই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত খেতে পারেন লাউয়ের রস। লাউয়ে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত লাউয়ের জুস খেলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কিছুটা হলেও কমতে পারে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং হৃদপিণ্ড থাকে সুস্থ। ব্লাড সুগার বেড়ে গেলে প্রথমেই লাউয়ের জুসের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন। কারণ, একাধিক উপকারী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে এই পানীয়তে। যা ব্লাড সুগারকে বশে রাখার কাজে একাই। অম্বল, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? লাউয়ের জুস এক্ষেত্রে বেশ উপকারী। এটি হজম প্রক্রিয়া বাড়ায় এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখে। ফলে খাবার সহজে হজম হয় এবং পেট থাকে স্বস্তিতে। শরীরকে করে ডিটক্স, ত্বকে আনে উজ্জ্বলতাঃ লাউয়ের জুস শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বার করে দিতে সহায়তা করে। এর ফলে ত্বকে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে, ত্বক হয় মসৃণ ও সতেজ। যারা ব্রণ বা দাগছোপের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্যও এটি কার্যকর। শরীর ঠান্ডা রাখেঃ গরমকালে লাউয়ের জুস একপ্রকার প্রাকৃতিক ‘কুলিং ড্রিঙ্ক’। এটি শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখে এবং জলশূন্যতার ঝুঁকি কমায়। ফলে গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীর থাকে হাইড্রেটেড ও সক্রিয়। লাউয়ের জুস খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হল সকাল। খালি পেটে এটি পান করলে পাচন প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং সারাদিন শরীর থাকে হালকা ও সতেজ। অনেকে রাতে ঘুমানোর আগে লাউয়ের রস খেয়ে থাকেন। এটি শরীরকে আরাম দেয় এবং ঘুমের মান ভাল রাখতে সহায়তা করে। পুষ্টিবিদেরা গরমের দিনে লাউ আর করলা দিয়ে ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে শরীর ঠান্ডা থাকে। অ্যাসিডিটির সমস্যাও কমে। স্যুপ কিংবা স্যালাড হিসেবেও লাউ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সকলের শরীরের জন্য সবকিছু ঠিক নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles