Tuesday, July 28, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেট!‌ দু’টি হারে জিএসটি কার্যকর ৫ এবং ১৮ শতাংশ

দেশবাসীর জন্য বড় উপহার। করকাঠামোয় আমূল বদল। কেন্দ্রের প্রস্তাবে সায় জিএসটি কাউন্সিলের। নেক্সট জেনারেশন জিএসটি ছাড়পত্র পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১২ এবং ২৮ শতাংশের যে জিএসটি স্তর ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু পণ্যকে রাখা হয়েছে ৪০ শতাংশ হারের বিশেষ তালিকায়। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হারে জিএসটি কার্যকর করা হবে। পণ্য পরিষেবা কর জিএসটি কাঠামোয় কেন্দ্রীয় সরকার যে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল, জিএসটি কাউন্সিল তা অনুমোদন করেছে। বুধবার কাউন্সিলের প্রথম বৈঠকের পরেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন নতুন জিএসটি হার ঘোষণা করেছেন। এ বার থেকে দু’টি হারে জিএসটি কার্যকর হবে ৫ এবং ১৮ শতাংশ। ১২ এবং ২৮ শতাংশের যে জিএসটি স্তর ছিল, তা তুলে দেওয়া হল। কিছু পণ্যকে রাখা হয়েছে ৪০ শতাংশ হারের বিশেষ তালিকায়। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হারে জিএসটি কার্যকর করা হবে। দুধ, ছানা, পনির, রুটি, পাউরুটির উপর পাঁচ শতাংশ জিএসটি ছিল। তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কনডেন্‌সড মিল্ক, মাখন, ঘি, তেল, চি়জ এবং দুগ্ধজাত যাবতীয় পণ্যের উপর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে জিএসটি করা হয়েছে পাঁচ শতাংশ। একই হার প্রযোজ্য বাদাম, খেজুর, আনারস, অ্যাভোকাডো, পেয়ারা, আম এবং অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রে। পশুচর্বি, সসেজ, সংরক্ষিত বা রান্না করা মাংস, মাছ, চিনি, পাস্তা, নুডল্‌স, স্প্যাগেটি এবং বিভিন্ন সব্জির দাম কমছে। জিএসটি এ সব ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামছে। জ্যাম, জেলি, মাশরুম, নারকেলের জল, ইস্ট, সরষে, সয়াবিন, ভুজিয়া এবং পানীয় জলের ২০ লিটারের বোতলের উপর থেকে জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমে হল পাঁচ শতাংশ। মধু, মিছরি, চকোলেট, কর্নফ্লেক্‌স, কেক, পেস্ট্রি, স্যুপ, আইসক্রিম, জিলেটিনের উপর থেকে জিএসটি কমানো হয়েছে। এত দিন ১৮ শতাংশ জিএসটি ছিল এই সমস্ত পণ্যে। কমে হয়েছে পাঁচ শতাংশ। যাবতীয় জীবনবীমা এবং স্বাস্থ্য বীমার উপর থেকে জিএসটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বিড়ির দাম কমছে। বিড়ির পাতার উপর ১৮ শতাংশ থেকে জিএসটি কমে হচ্ছে পাঁচ শতাংশ। বিড়ির উপর ২৮ শতাংশ থেকে জিএসটি কমে হচ্ছে ১৮ শতাংশ। সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়ার উপর জিএসটি পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। টিভি, এসি, ছোট গাড়ি, ৩৫০ সিসি-র নীচে বাইকের দাম কমছে। এখন থেকে এই পণ্যগুলিতে ১৮ শতাংশ জিএসটি নেওয়া হবে। বিলাসবহুল গাড়ি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট জেট, রেসিং কারের উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি আরোপ করা হয়েছে। পান মশলা, বাড়তি চিনি মিশ্রিত পানীয়, কার্বনযুক্ত পানীয়ের দাম বাড়ছে। ২৮ শতাংশ থেকে জিএসটি করা হচ্ছে ৪০ শতাংশ। সিগারেট, চুরুট এবং তামাকজাত যাবতীয় পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ হারে জিএসটি নেওয়া হবে। কয়লার দাম বাড়ছে। পাঁচ থেকে ১৮ শতাংশ হচ্ছে কয়লার উপর জিএসটি।

নেক্সট জেনারেশন জিএসটি ছাড়পত্র পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করলেন, এই নয়া জিএসটি আসলে আমজনতা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের মুশকিল আসান করবে। একই সঙ্গে ইজ অফ ডুয়িং বিজনেসের সূচকেও এগিয়ে দেবে ভারতকে। জিএসটি সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত কেন্দ্র সরকার এককভাবে নিতে পারে না। সিদ্ধান্ত নেয় জিএসটি কাউন্সিল। তাতে রাজ্য সরকারগুলির প্রতিনিধিও থাকে। ফলে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিমত হওয়ার জায়গাও রয়েছে। কাউন্সিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিতেই সোশাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সোশাল মিডিয়ায় মোদি বলেন, “স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেই আমি নেক্সট জেনারেশন জিএসটির সংস্কারের কথা বলেছিলাম। আমি খুশি যে জিএসটি কাউন্সিলে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রতিনিধিরা কেন্দ্রের প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে। এই নেক্সট জেনারেশন জিএসটির ফলে আমজনতা, কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, মধ্যবিত্ত, মহিলা এবং যুবসমাজ উপকৃত হবে। এই বিরাট মাত্রার করকাঠামোর সংস্কারের ফলে আমাদের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। ইজ ও ডুয়িং বিজনেস বাড়বে।” জিএসটি কমিয়ে দেশের বাজারে চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যেই জিএসটি কমালো মোদি সরকার। এর অন্যতম উদ্দেশ্য, আমেরিকার শুল্কবোমা সামাল দেওয়া। জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের পর কাঠামোয় বড় বদলের কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। মূলত মধ্যবিত্তের কথা ভেবেই জিএসটি কাঠমোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেকারণেই বেশিরভাগ খাবারের দাম কমবে। খাদ্যপণ্য ছাড়াও জিএসটি কমে ৫ শতাংশে দাঁড়াচ্ছে সাবান, শ্যাম্পু, ব্রাশ, শেভিং ক্রিম, বাসন, সেলাই মেশিন, ট্র্যাক্টর, কীটনাশক, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত পণ্যে। কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত পণ্যে জিএসটি কমলে সবজির দামও কমবে। চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত একাধিক পণ্য যেমন থার্মোমিটার, মেডিক্যাল গ্রেড অক্সিজেন, টেস্ট কিট, গ্লুকোমিটার, চশমা-এগুলিতেও জিএসটি কমিয়ে পাঁচ শতাংশে আনা হয়েছে। মার্বেল, পাথর, চর্মজাত পণ্য, হ্যান্ডিক্রাফটসেও এবার জিএসটি কমে ৫%। স্বাস্থ্য বিমা এবং জীবন বিমাতে জিএসটি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। ৩৩টি জীবনদায়ী ওষুধেও জিএসটি শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রুটি, পনির, দুধের ক্ষেত্রে। এই খাদ্যপণ্যগুলিতে জিএসটি থাকছে না। অনুমান করা যায়, নতুন জিএসটি কাঠামোয় ১৭৫টি জিনিসের দাম কমতে পারে। ১৮ এবং ১২ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ জিএসটি বসছে তেল, ঘি, মাখন, চিজ, নুডলস, চানাচুর, নিমকি, ভুজিয়া, বিস্কুট, পাস্তা, সস ইত্যাদির। অর্থাৎ এই খাদ্যপণ্যগুলির দাম কমবে।

আইপিএলের টিকিটের দাম বাড়ছে। আগে আইপিএলের টিকিট কিনতে গেলে ২৮ শতাংশ জিএসটি দিতে হত। এ বার থেকে ৪০ শতাংশ জিএসটি দিতে হবে। অর্থাৎ জিএসটি কাঠামোর সর্বোচ্চ ধাপে রাখা হয়েছে আইপিএলের টিকিটকে। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার আইপিএলের ম্যাচকে ব্যয়বহুল বিনোদন হিসাবেই দেখছে। সবচেয়ে বেশি কর দিতে হবে। আইপিএলের কোনও ম্যাচের টিকিটের দাম ১০০০ টাকা। আগে করসমেত দিতে হত ১২৮০ টাকা। এ বার থেকে সেটাই ১৪০০ টাকা হয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে ৬৪০ টাকার টিকিটের দাম বেড়ে হচ্ছে ৭০০ টাকা। ২০০০ টাকার টিকিটের দাম ২৫৬০-এর বদলে হচ্ছে ২৮০০ টাকা। তার পরে স্টেডিয়াম ফি এবং অনলাইন বুকিং বাবদ খরচও রয়েছে। ফলে এক লাফে কয়েকশো টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বিলাসবহুল গাড়ি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট জেট, রেসিং কারের উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিগারেট, চুরুট এবং তামাকজাত যাবতীয় পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ হারে জিএসটি নেওয়া হবে। জিএসটি বাড়ছে আইপিএলের টিকিটেও। আইপিএলের টিকিটের দাম বাড়লেও, সাধারণ কোনও ক্রিকেট ম্যাচের টিকিটে ১৮ শতাংশই জিএসটি নেওয়া হবে। তার কোনও পরিবর্তন হয়নি। শুধু আইপিএলের মতো ‘প্রিমিয়াম’ খেলাধুলোর ক্ষেত্রে বর্ধিত হারে কর দিতে হবে। বিনোদনের মধ্যে রয়েছে সিনেমাও। তবে সিনেমার টিকিটের দাম কমছে। আগে সিনেমার টিকিটের দামের সঙ্গে ১২ শতাংশ কর দিতে হত। এখন সেটা কমে হয়েছে পাঁচ শতাংশ। তবে ১০০ টাকা বা তার নিচের দামের ক্ষেত্রে এই কর প্রযোজ্য। টিকিটের দাম ১০০ টাকার বেশি হলে ১৮ শতাংশ কর দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles