এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছেন বিশ্ববাসী। রাতের আকাশে আলো ছড়াবে রক্তবর্ণ চাঁদ! আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভারত-সহ একাধিক জায়গা থেকে খোলা চোখে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, এমনই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ৭ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ৯টা থেকে থেকে ৮ তারিখ রাত আড়াইটে পর্যন্ত রাতের আকাশে উদয় হবে রক্তবর্ণ চন্দ্র। ৭ সেপ্টেম্বর? জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পৃথিবীর ছায়ায় সম্পূর্ণ ঢেকে যাবে চাঁদ। আর তাতেই শ্বেতশুভ্র চাঁদের রং, রূপ বদলে যাবে। রক্তিম আভায় জ্বলজ্বল হয়ে উঠবে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। সেটাই ‘ব্লাড মুন’। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ এমনিতে বিরল কোনও ঘটনা নয়। পৃথিবীর আহ্নিক গতি-বার্ষিক গতির জেরে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর এই ঘটনা ঘটে। কিন্তু তার জন্য চাঁদের রূপবদল, রক্তবর্ণ হয়ে ওঠা, এ বিরল। ভারত থেকে ঠিক কোন সময় সবচেয়ে সুন্দর দেখাবে পৃথিবীর উপগ্রহকে, তার বিস্তারিত সময়সীমাও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৫৮ থেকে পরদিন অর্থাৎ ৮ তারিখ রাত ২টো ২৫ পর্যন্ত পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে থাকবে চাঁদ। এর মধ্যে রাত ১১টা থেকে ১২টা ২২ পর্যন্ত পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময়সীমা। এই সময়ের মধ্যে চাঁদ ধীরে ধীরে হয়ে উঠবে রক্তাভ। আর মাহেন্দ্রক্ষণ হল রাত ১১টা ৪১। অর্থাৎ এই সময়েই ‘ব্লাড মুন’-এর সবচেয়ে সুন্দর রূপ দেখা যাবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তবে শর্ত একটাই। আকাশ পরিষ্কার, দূষণমাত্রা ন্যূনতম থাকলে ‘ব্লাড মুন’-এর আসল রূপ দেখা যাবে। কলকাতা, মুম্বই, বেঙ্গালুরু থেকে স্পষ্ট দেখা যাবে রক্তবর্ণ চাঁদ।
নাসার স্ফেয়ারএক্স টেলিস্কোপ খুঁজে পেল এক ইন্টারস্টেলার ধূমকেতুকে! নাম 3I/ATLAS। যার শরীরে ভর্তি কার্বন-ডাই অক্সাইড। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল এই মহাজাগতিক বস্তুকে ঘিরে। আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট সময়কালের মধ্যে নাসার ‘দূরবিন’ খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে ওই বস্তুকে। তাতেই ধরা পড়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বন-ডাই অক্সাইড রয়েছে সেখানে। পাশাপাশি বরফ ও কার্বন ও মনোক্সাইডও মিলেছে। তবে অল্প পরিমাণে। কেবলই স্ফেয়ারএক্স নয়, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নজরবন্দিও হয়েছে ইন্টারস্টেলার বস্তুটি। সামগ্রিক ভাবে ‘অ্যাটলাস’-এর সঙ্গে মিল লক্ষ করা যাচ্ছে কুইপার বেল্টে অবস্থিত বস্তুদের সঙ্গে! অন্য কোনও নক্ষত্রমণ্ডলী তথা তারার পরিবার থেকে বিচ্যুত হয়ে সে এসে পড়েছে! কী করে ধরা গেল এটি ইন্টারস্টেলার? আসলে এর কক্ষপথই সেই দিকটি পরিষ্কার করে দিচ্ছে। কিন্তু এই অন্য জগতের বাসিন্দা আমাদের জন্য কোনও বিপদবার্তা বয়ে আনবে না তো? এব্যাপারে অবশ্য আশ্বাস দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌরজগতের ভিতর দিয়ে নিজের মনে এগিয়ে চলবে মহাজাগতিক বস্তুটি। ১ জুলাই প্রথমবার ৩আই/অ্যাটলাস নামের এক জ্যোতিষ্ককে দেখতে পান বিজ্ঞানীরা। দেখা যায়, সেটি ১ লক্ষ ৩০ হাজার মাইল প্রতি ঘণ্টা বেগে ধেয়ে আসছে। আবিষ্কারের পরদিনই বোঝা গিয়েছিল, সেটি রয়েছে সৌরজগতের বাইরে। যার ব্যাস ১৫ মাইল। অর্থাৎ আকারে ম্যানহাটন শহরের চেয়েও বড়। এই বস্তুটিকে এমনকী ভিনগ্রহীদের যান বলেই প্রাথমিক ভাবে দাবি করা হয়েছিল।




