ড: অমর শাস্ত্রী
স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত জ্যোতিষ ও তন্ত্রসাধক
প্রত্যেক জীবনেই গন্ধের মূল্য অপরিসীম। মানুষের জীবনে কোন গন্ধ কিভাবে প্রভাব ফেলে তা জানার আবশ্যিকতা রয়েছে। মানব জীবনে সাতটি কুণ্ডলী চক্র বর্তমান। ভিন্ন চক্রের কার্যক্রমে ভিন্ন গন্ধের প্রভাব রয়েছে। যে যন্ধ ভালো লাগে তাকে বলে সুগন্ধ। যে গন্ধ খারাপ লাগে তাকে বলে দুর্গন্ধ। এই গন্ধগুলো বিভিন্নভাবে জীবনকে পরিচালিত করে। গন্ধের কিছু সুন্দর প্রয়োগ বিরাজমান। হিন্দু শাস্ত্রে হোক কিংবা সনাতনী শাস্ত্রে। তবে সনাতনী শাস্ত্রে গন্ধের আলাদা মাত্রা আছে। সাধারনত আমরা ঈশ্বরের কাছে দুটো ধুপ জ্বালাই, শুধুই কি ঈশ্বরকে আনন্দ দেওয়ার জন্য? একেবারেই না। ঈশ্বর তো নিজেই আনন্দময়। আমাদের পরিবশেকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই তিনি আমাদের মধ্যে বিরাজমান। আমরা পরিবেশকে সুগন্ধ প্রদানের মারফৎ আনন্দঘন করে তোলার জন্য ধূপ জ্বালাই। যাতে সকলের মন ভালো হয়ে যায়। গন্ধের কিছু প্রয়োগ আছে। গন্ধ কিভাবে প্রয়োগ করলে আমরা ভালো থাকবো। এবং কি কি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ? জাতকদের কি গন্ধ ব্যবহার করা প্রয়োজন? কোন গন্ধ কিভাবে প্রয়োগ হলে ঠিক কি প্রভাব পড়তে পারে? ইত্যাদি নানান প্রশ্ন মনে ভিড় করে।
কিছু গন্ধ মানব মনে শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করে। আবার কিছু গন্ধ মানব জীবনে ক্ষতিও সাধন করে। গন্ধ মানব মনের সঙ্গে জড়িত। দৈহিক কোনও প্রভাব থাকে না এর। সুতরাং গন্ধ প্রভাবিত করে মন। শিশুরা যদি গোলাপ বা আতর মোগরা ব্যবহার করে তাহলে তা শিশুমনের জন্য খারাপ। সেজন্য শিশুদের জন্য চন্দনের ব্যবহার প্রয়োজন। গন্ধ জগতের সম্রাট হল চন্দন। শিশুমনকে উৎফুল্ল করে তোলে চন্দনের গন্ধ। কিছু গন্ধ আমাদের জীবনে ভয়ানক সমস্যার সৃষ্টি করে। গ্রাহস্থ্য জীবনে সেইসব সমস্যা দুরীকরণের জন্য ঘর মোছার জলে ফিনাইল অথবা ডেটল ও একটু নুন মিশিয় ঘর মুছে ফেলতে পারলে বাড়ির নেতিবাচক শক্তি দূরীকরণ সম্ভব। সন্ধ্যায় গুগুল বা ধুনো ধূপ এবং ঘি-এর প্রদীপ জ্বালালে শত্রু বিনষ্ট হয়। মানসীক অশান্তি দূর করার জন্য চন্দনের সুগন্ধী ধূপ জ্বালিয়ে ঈশ্বরের প্রার্থণা ও ধ্যান করা প্রয়োজন। আকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি করতে সুগন্ধীর ব্যবহার খুবই উপযোগী। দু হাতের মণিবন্ধে, দেহের ঘাড়ের পিছনে, নাভিতে ল্যাভেন্ডার সুগন্ধী ব্যবহার খুবই উপযোগী। দাম্পত্য জীবনে সমস্যা দূর করতে ফুল খুবই উপকারী। তবে গোলাপ ফুল কখনওই নয়। শয়নকক্ষে একটি সুন্দর বোতলে বা ফুলদানিতে রজনীগন্ধা ফুল একটু জল দিয়ে রেখে দিতে হবে। রজনীগন্ধার সুন্দর সুগন্ধ দাম্পত্য জীবনকেও মোহময় করে তুলবে। আবার এই রজনীগন্ধা ফুলের গুচ্ছ গোলাপি ফিতের বন্ধনে বেঁধে স্বামীর হাতে তুলে দিলে স্বামী-স্ত্রী মনোমালিন্য দূর হবে।




