সিএবি প্রশাসনে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা। সংস্থার প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে-র? ময়দানের একাংশর প্রশ্ন। সিএবি-র বার্ষিক অনুষ্ঠানে যথেষ্ট বর্ণময় উপস্থিতি ছিল সিএবি-র প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষের। যিনি বছর কয়েক আগেও সিএবি-র শাসক-গোষ্ঠীর প্রবল বিরোধী হিসাবে পরিচিত মুখ ছিলেন স্থানীয় ক্রিকেটমহলে। সিএবি-র বার্ষিক অনুষ্ঠানে একেবারে সামনের সারিতে তাঁর বসে থাকা। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উঠে পুরস্কার দেওয়া। সিএবি-র শাসক-গোষ্ঠীর বেশ কাছাকাছি বিশ্বরূপ। অদূর ভবিষ্যতে প্রাক্তন সিএবি কোষাধ্যক্ষ কি তা হলে ফিরতে চাইছেন বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায়? তিনি উদ্যোগী ক্রিকেট প্রশাসনে ফিরতে? বঙ্গ ক্রিকেটের উন্নতিতে বিশ্বরূপকেও দরকার। লোধা আইনের গেরোয় পড়ে ক্রিকেট প্রশাসন থেকে সরে যেতে হয়েছিল বিশ্বরূপকে। রাজ্য ক্রিকেট সংস্থায় তাঁর ন’বছর পূর্ণ। জাতীয় ক্রীড়া বিল আইন হয়ে যাওয়ার পর অনেক পুরনো প্রশাসকরাই নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছেন। ন’বছরের নিয়মের গেরো-ই উঠে যাচ্ছে। ফিরতে পারেন। প্রশাসক হতেও পারেন। এখনও ক্রীড়া আইন অনুপাতে বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার নতুন নিয়ম-নীতি কী হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। ভারতীয় বোর্ডই যেমন এখনও পর্যন্ত ঠিক করে উঠতে পারেনি, তারা নির্বাচন করবে কবে? প্রথা অনুযায়ী, বোর্ড এবং সমস্ত রাজ্য ক্রিকেট সংস্থায় সেপ্টেম্বরে নির্বাচন। মাঝে বোর্ড নির্বাচন সাময়িক পিছনো নিয়ে রাজ্য সংস্থাদের একটা বেসরকারি বার্তা দিয়েছে। সিএবি আপাতত লোধা আইন অনুযায়ী নির্বাচন আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সম্পন্ন করে ফেলার দিকেই। লোধা আইনে নির্বাচন হলে এখন পদাধিকারী হতে পারবেন না বিশ্বরূপ। জাতীয় ক্রীড়া আইন মেনে যখন ফের নির্বাচন হবে, তখন অবশ্যই পদপ্রার্থী হতে পারবেন তিনি। সেই লক্ষ্যে কি এখন থেকেই নেমে পড়েছেন প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ? অদূর ভবিষ্যতে সিএবি সচিব হতে আগ্রহী। পুরনো সব ভুলে সমান আগ্রহ। দুপক্ষের ঘনিষ্ঠতা যথেষ্ট দৃশ্যমান? ময়দানের রসিকতা এখানে কোনও কিছুই স্ট্যাটিক নয়। না সমীকরণ, না সম্পর্ক!
২৯ বছর বয়সি মহানার্যমান। জয় শাহ, রোহন জেটলির পর এবার মহানার্যমান সিন্ধিয়া। ক্রিকেট প্রশাসনে আরও এক রাজনীতিবিদের সন্তান। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ২৯ বছর বয়সি পুত্র মহানার্যমান সেই রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি এমপিসিএ-র সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি। সিন্ধিয়া পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রদেশের ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। মহানার্যমানের দাদু অর্থাৎ মাধবরাও সিন্ধিয়াও এমপিসিএ-র সভাপতি ছিলেন। একই পদে ছিলেন জ্যোতিরাদিত্যও। এবার রাজপরিবারের নতুন প্রজন্মের কাঁধে সেই দায়িত্ব এসে পড়েছে। শনিবার ছিল মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। যদিও সেই পদের জন্য মহানার্যমান ছাড়া আর কোনও প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি। ফলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপিসিএ-র সভাপতি হতে চলেছেন। যদিও ক্রিকেট মহলের একাংশ একে ‘পরিবারতন্ত্র’ বলে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না। ২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন। তবে তার আগেই নিশ্চিত হয়ে গেল মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট সংস্থার সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হতে চলেছেন মহানার্যমান। মঙ্গলবারই নতুন কার্যকরী সমিতি গঠন করা হবে। লন্ডনের স্কুল অফ ইকোনমিকস থেকে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা করেছেন তিনি। ২০২২-এ গোয়ালিওয়ারের ক্রিকেট সংস্থার সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। এছাড়া মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট লিগেরও প্রধান তিনি। অনেকের মতে, ক্রিকেট প্রশাসনের পদ দিয়েই রাজনীতি জীবনের সূচনা হতে চলেছে কেন্দ্রের যোগাযোগ মন্ত্রীর পুত্রের।




