Tuesday, July 28, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভাইরাল জ্বরে বেশি ভোগে শিশুরা!‌‌ এই সময়ে শিশুকে কী কী খাওয়াবেন?‌

আবহাওয়ার বদলের সময় ভাইরাল জ্বরে বেশি ভোগে শিশুরা। গত কয়েক মাসে জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভুগেছেন অনেকেই। পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়া ধরা পড়ছে না। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উপসর্গ দেখে বোঝা যাচ্ছে, ছোঁয়াচে অ্যাডিনোভাইরাস বা রেসপিরেটরি ভাইরাসের সংক্রমণেই জ্বর, হাত-পায়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং পেটের সমস্যাও হচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে। ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গও দেখা গিয়েছে অনেক শিশুর। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর হলে ওষুধ যেমন খাবে, তেমনই পথ্যের উপরেও জোর দিতে হবে। বাবা-মায়েদের জেনে রাখা ভাল, এই সময়ে শিশুকে কী কী খাওয়াবেন ও কী নয়। গরমের পরেই হঠাৎ করে বৃষ্টি, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া অ্যাডিনোভাইরাস, রেসপিরেটরি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ। আবার টাইফয়েডের সংক্রমণও ঘটছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার। বাইরে যাওয়া মানেই কোল্ডড্রিংক, চিপ্‌স, আইসক্রিম, রঙিন ঠান্ডা পানীয়ের মতো বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে শিশুদের মধ্যে। ফলে জ্বরের পাশাপাশি পেটখারাপের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। জ্বর কমার পর শিশুর শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সে কারণে তরল খাবার খাওয়াতেই হবে, যেমন চিকেন স্যুপ, বিভিন্ন সব্জির পাতলা ঝোল, ডালের জল ইত্যাদি। প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট এবং খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ ডাব, যা দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করবে। ডাবের জল দিন কয়েক খেলে শরীরে জল ও খনিজের ভারসাম্যও বজায় থাকবে। তাজা ফলের রস, যেমন কমলা, আপেল, বেদানা বা পেঁপের রস ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন ডিমের সাদা অংশ, মাছ, মুরগির মাংস চর্বি বাদ দিয়ে, দুধ দই নিরামিষের মধ্যে ছোলা, মুসুর ডাল, সয়াবিন ও নানা রকম বাদাম খেতে পারে। ডালিয়ার খিচুড়ি, ওট্‌স, রাগি দিয়ে তৈরি খিচুড়ি শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর হবে। ভাতের সঙ্গে চিকেন স্ট্যু, পাতলা করে রান্না করা মাছের ঝোল খাওয়াতে পারেন। মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। গলা ব্যথা বা কাশি কমাতেও সাহায্য করে। ঈষদুষ্ণ জলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তেল-মশলাযুক্ত খাবার, যেমন ভাজাভুজি, ফাস্টফুড, চপ, কাটলেট এই ধরনের খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং অসুস্থতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার, যেমন, নরম পানীয়, চকোলেট, আইসক্রিম বাদ। কেটে রাখা ফল বা কাঁচা আনাজ দিয়ে বানানো স্যালাড শিশুকে খাওয়াবেন না। রাস্তায় বিক্রি হওয়া রঙিন শরবত, লস্যি, আখের রস বা কোনও ধরনের পানীয়ই দেওয়া চলবে না। ফ্রিজে রেখে দেওয়া পাউরুটি, বাসি খাবার শিশুকে দেওয়া চলবে না। চিপ্‌স, লজেন্স, ডায়েট সোডাও শিশুকে খাওয়ানো চলবে না।

শিবের মতো নীল হয়ে যায় গায়ের রং! মহাদেব বিষ পান করে রক্ষা করেছিলেন সৃষ্টিকে। সেই কারণেই তিনি নীলকণ্ঠ। পৃথিবীতে সত্যিই এমন একটি অবস্থা রয়েছে যাতে গায়ের রং নীলচে হয়ে যেতে পারে? রূপচর্চার নামে না জেনে বিভিন্ন ধাতু বা খনিজ পদার্থ গ্রহণ ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের বিপদ। বিশেষ করে দেখা দিতে পারে গুরুতর চর্মরোগ। তেমনই এক বিরল অথচ স্থায়ী চর্মরোগ হল ‘আর্জিরিয়া’। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক ধীরে ধীরে নীল বা ধূসর-নীল বর্ণ ধারণ করে, যা এক স্থায়ী পরিবর্তন। মূলত শরীরে রূপা বা তার কোনও যৌগ অতিরিক্ত পরিমাণে জমা হলে এই রোগ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, আর্জিরিয়া প্রাণঘাতী না হলেও, এটি আক্রান্তের মানসিক ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। আর্জিরিয়ার প্রধান কারণ হল চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ‘কলয়েডাল সিলভার’ নামক রূপাযুক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ। অনেকেই এর কথিত স্বাস্থ্য উপকারিতার লোভে এটি সেবন করেন, যার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এখনও প্রমাণিত নয়। এছাড়া, রূপার খনি, গয়না শিল্প বা ফটোগ্রাফি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে রূপার সংস্পর্শে এলেও এই রোগের শিকার হতে পারেন। কিছু পুরনো ঔষধপত্র বা ক্ষতস্থানে ব্যবহৃত রূপার যৌগ থেকেও আর্জিরিয়া হওয়ার নজির রয়েছে। এই রোগের লক্ষণ প্রথমে হালকাভাবে শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষত সূর্যরশ্মির প্রভাবে, ত্বকের রঙ আরও গাঢ় ও স্পষ্ট হতে থাকে। মুখমণ্ডল, ঘাড়, হাত এবং নখের মতো অংশে এই পরিবর্তন বেশি দেখা যায়। অনেক সময় মাড়ি ও চোখের শ্লেষ্মা ঝিল্লিও বিবর্ণ হয়ে পড়ে। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রোগীর পূর্ব ইতিহাস এবং শারীরিক লক্ষণকে গুরুত্ব দেন। ত্বকের বায়োপসির মাধ্যমেও শরীরে রূপার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। উদ্বেগজনক বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত আর্জিরিয়ার কোনও সুনির্দিষ্ট ও সম্পূর্ণ কার্যকরী চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। লেজার থেরাপির মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে বিবর্ণতা সামান্য কমানো গেলেও, তা ত্বকের স্বাভাবিক রঙ পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারে না। যেহেতু এই রোগের ফলে ত্বকের রঙের পরিবর্তন স্থায়ী, তাই প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। কোনও প্রকার রূপাযুক্ত ঔষধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং অজানা ধাতব পদার্থের দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই আর্জিরিয়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকার চাবিকাঠি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles