Tuesday, July 28, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

চোট আর পিছু ছাড়ছে না মহম্মদ সামির!‌ রনজি জয়ই পাখির চোখ বাংলার আকাশের

২০২৩ বিশ্বকাপে চোট নিয়ে আগুন ধরানো বোলিং করেছিলেন। বিশ্বকাপের পরেই অস্ত্রোপচার করান। তার পরে মাঠে ফিরলেও সেরা ছন্দে ধরা দেননি সামি। দলীপ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে ফের চোটের কবলে পড়েন তিনি। ম্যাচটি ছিল পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের। ম্যাচের শেষে পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক সামির চোট নিয়ে আপডেট দেন। তাঁর পায়ের আঙুলে চোট রয়েছে। প্রথম স্পেলে সামি পাঁচ ওভার হাত ঘোরান। ৫-২-১০-০। দ্বিতীয় স্পেলে সামি ৩ ওভার করেন। সেই স্পেল বলছে ৩-০-১০-০। তৃতীয় স্পেলে আবার ৪ ওভার করেন সামি। সেই স্পেল বলছে ৪-২-৯-০। এই চোটের জন্য জাতীয় দলে তাঁর ঢোকা কিন্তু আরও বিলম্বিত হতে পারে। আবার বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে অবসরের প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়েছেন মহম্মদ সামি। জানান, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করতে তৈরি তিনি। লক্ষ্য জাতীয় দলে ফেরা। তার জন্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টকে মঞ্চ করতে চান। এশিয়া কাপের দলে তাঁকে নেওয়া হয়নি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাঁকে শেষবার খেলতে দেখা যায়। কিন্তু সম্প্রতি এশিয়া কাপের দল থেকে বাদ পড়ায় তাঁর অবসর প্রসঙ্গ ওঠে। সামি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অবসরের কোনও পরিকল্পনা নেই। এখনও তাঁর মধ্যে অনেক ক্রিকেট বাকি আছে। বরং দাবি করেন, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে আবার জাতীয় দলে ফিরতে চান। তাঁর লক্ষ্য ২০২৭ বিশ্বকাপ। টিম ইন্ডিয়াকে বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করতে চান। সামি বলেন, ‘‌আমাকে নিয়ে যদি কারোর সমস্যা থাকে, তাহলে আমাকে বলুক। আমি অবসর নিলে যদি ওদের জীবনে কোনও সুবিধা হয়। আমি কারোর জীবনে কি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি‌ যে আমাকে অবসর নিতে হবে? আমি যেদিন ক্লান্ত হয়ে যাব, সেদিন ছেড়ে চলে যাব। তোমাদের আমাকে নিতে হবে না। কিন্তু আমি পরিশ্রম করে যাব। আমাকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে না নিলে আমি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলব। আমি কোথাও না কোথাও খেলা চালিয়ে যাব। যখন আমি ক্লান্ত হয়ে যাব, তখন এইসব সিদ্ধান্ত নেব। এখন এগুলো ভাবার সময় নয়।’‌ ২০২৩ বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে ছিলেন। তাঁকে ঘিরেই ছিল বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। আহমেদাবাদে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। সেই প্রসঙ্গে এদিন তারকা পেসার বলেন, ভাগ্য তাঁদের সঙ্গে ছিল না। সামি বলেন, ‘আমার একটাই স্বপ্ন বাকি আছে। একদিনের বিশ্বকাপ জেতা। আমি বিশ্বকাপজয়ী দলের অঙ্গ হতে চাই। দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে চাই। ২০২৩ সালে আমরা খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল জিতব। তবে একটা ভয়ও ছিল। কারণ আমরা একটানা ম্যাচ জিতছিলাম। আর সেটা নকআউট ছিল। একটু ভয় ছিল আমাদের মনে। কিন্তু ফ্যানদের বিশ্বাস আমাদের মোটিভেট করে। এই স্বপ্ন পূরণ হতেই পারত। তবে হয়ত আমার ভাগ্যে ছিল না।’

আকাশ দীপ তিন ফরম্যাটেই দেশের হয়ে খেলতে চান। সম্প্রতি অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে যাত্রা শুরু করেছেন শুভমান। আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই সিরিজে দুরন্ত পারফর্ম করেছেন আকাশ। এজবাস্টনে দশ উইকেট নেওয়াই হোক বা ওভালে নাইট ওয়াচম্যান হিসাবে হাফসেঞ্চুরি-বাংলার আকাশ শুধুই মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। আকাশ বললেন, “শুভমানের অধিনায়কত্বে খেলাটা আমার কাছে নতুন বিষয় নয়। গত বছর দলীপ ট্রফিতে ও ক্যাপ্টেন ছিল। সেবার ম্যাচে ন’টা উইকেট পেয়েছিলাম। এজবাস্টনে দশটা পেয়েছি। বলতে গেলে, শুভমান আমার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে। আর ইংল্যান্ডে ও নিজেও ব্যাট হাতে দূরন্ত ফর্মে ছিল। সবমিলিয়ে দারুণ অধিনায়কত্ব করেছে। এজবাস্টন অথবা ওভাল যে পারফরম্যান্স দলকে জেতাবে, সেটাই আমার প্রিয়। তাই ১০ উইকেট আর ৬৬ রান দুটোই আমার কাছে সমান। তবে আমি বোলার। তাই বল হাতে ম্যাচ জেতাতে বাড়তি ভালো লাগে। ছোট-খাটো একটা চোট ছিল। কাল থেকে বোলিং শুরু করব। তাছাড়া ছয় মাস টানা ক্রিকেট খেলছি। একটু বিশ্রামেরও প্রয়োজন ছিল। ভারতীয় ক্রিকেটে বহুচর্তিত ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ দলের ডাক্তার আর ফিজিওর উপর নির্ভর করে। ওরা বলে দেয় কার কখন বিশ্রাম প্রয়োজন। আমাদের হাতে কিছু নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে দলে জায়গা পাওয়ার বিষয়টি নির্বাচকদের উপর। তিন ফরম্যাটেই দেশের হয়ে খেলতে চাই। আমি প্লেয়ার, নির্বাচক নই। আমার কাজ খেলা। নির্বাচকদের মনে হলে দলে নেবে। নিজেকে তিন ফরম্যাটের জন্য তৈরি করতে চাই। সেটা পারলে তিন ফরম্যাটেই খেলতে পারব। সৌরভ স্যর প্রশংসা করছেন মানে আমি ভালো কিছু করতে পেরেছি!” আকাশের প্রশংসা করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বলছিলেন, “আমি বিমান ধরতে যাওয়ার পথে এজবাস্টনে ওর বোলিং দেখছিলাম। চাইছিলাম যেন ও পাঁচ উইকেট নেয়। কারণ একজন বোলারের ক্ষেত্রে সেটা বড় বিষয়।” এবার বাংলার হয়ে রনজি জয়ই পাখির চোখ আকাশের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles