নৈহাটিতে খেলা ছিল মোহনবাগান ও মেসারার্সের। তৈরি ছিলেন মেসারার্সের ফুটবলার, রেফারি, লাইন্সম্যান। কিন্তু মোহনবাগান দল পাঠায়নি। ম্যাচের ‘স্টার্ট লিস্ট’-এ মোহনবাগানের দিকটি ফাঁকা রাখা হয়। খেলল না মোহনবাগান। কলকাতা লিগে বুধবার মেসারার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল সবুজ-মেরুনের। কিন্তু দল নামাল না তারা। এই ম্যাচ নিয়ে রাজ্যের ফুটবল নিয়ামক সংস্থা আইএফএ কী সিদ্ধান্ত নেবে, এখন সেটাই দেখার। মোহনবাগান এই ম্যাচ খেলবে না বলে দু’বার চিঠি দিয়েছিল আইএফএ-কে। শেষ চিঠিটা দিয়েছিল মঙ্গলবার। একসঙ্গে ডুরান্ড কাপ এবং লিগের ম্যাচ খেলা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিল বাগান। কিন্তু আইএফএ জানিয়েছে, তাদের পক্ষে শেষ মুহূর্তে সূচি বদলানো সম্ভব নয়। নৈহাটিতে খেলা ছিল মোহনবাগান ও মেসারার্সের। তৈরি ছিলেন মেসারার্সের ফুটবলার, রেফারি, লাইন্সম্যান। কিন্তু মোহনবাগান দল পাঠায়নি। ম্যাচের আগে দুই দলের যে তালিকা তৈরি হয়, সেখানে মোহনবাগানের দিকটি ফাঁকা রাখা হয়। মোহনবাগান না খেলায় এই ম্যাচের ভবিষ্যৎ কী, সে ব্যাপারে আইএফএ সিদ্ধান্ত নেবে। মেসারার্সকে ওয়াকওভার দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে ৩ পয়েন্ট পাবে তারা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আইএফএ-র লিগ কমিটি। ৮ আগস্ট মোহনবাগান প্রথম আইএফএ-কে অনুরোধ করেছিল, কলকাতা লিগে তাদের বাকি ম্যাচ যেন ডুরান্ড কাপের পরে করা হয়। কারণ হিসেবে মোহনবাগান জানায়, ডুরান্ডে তাদের ১৬ জন ফুটবলার খেলছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জন নিয়মিত প্রথম একাদশে খেলছেন। তাঁরাই আবার কলকাতা লিগেও খেলছেন। এই ফুটবলারদের বিশ্রাম প্রয়োজন। কোনও ভাবেই একসঙ্গে দুটো প্রতিযোগিতায় খেলা সম্ভব নয়। তাই ডুরান্ড শেষ হলেই যেন তাদের লিগের ম্যাচ দেওয়া হয়। মোহনবাগানের সেই অনুরোধ রাখল না আইএফএ। মোহনবাগানও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে খেলল না। এখন দেখার আইএফএর সিদ্ধান্ত?
প্রসঙ্গত, মেজারার্সের বিরুদ্ধে কলকাতা লিগের ম্যাচ খেলবে না মোহনবাগান। আইএফএকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কর্তৃপক্ষ। শুধু এই ম্যাচ নয়, তাঁদের ডুরান্ড অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা লিগের কোনও ম্যাচে নামবে না সবুজ মেরুন। আইএফএকে এটা লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডুরান্ড কাপের জন্য ১৮ জন ফুটবলার নথিভুক্ত করা হয়েছে। তারমধ্যে ৮-৯ জন নিয়মিত খেলছে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই জুনিয়র। কলকাতা লিগের বেশ কয়েকজন ফুটবলার ডুরান্ডে নিয়মিত খেলছে। এদের মধ্যে কেউ চোট পেয়ে গেলে সমস্যায় পড়বে দল। আইএফএকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অবস্থায় ডুরান্ড কাপের পাশাপাশি কলকাতা লিগ খেলা সম্ভব নয়। ৮ আগস্ট আইএফএকে চিঠি দেন দলের সিইও বিনয় চোপড়া। সেই চিঠিতেই ডুরান্ড চলাকালীন কলকাতা লিগের কোনও ম্যাচ না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি আইএফএ। অনুরোধের তোয়াক্কা না করেই বুধবার ম্যাচ রাখা হয়। প্রথমে এই ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল মোহনবাগান মাঠে। কিন্তু ব্রডকাস্ট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ না হওয়ায়, ম্যাচ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নৈহাটিতে। সোমবার রাতে আইএফএকে চিঠি দিয়ে মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, বুধবার কলকাতা লিগের ম্যাচ খেলবে না তাঁরা। এই বিষয়ে আইএফএর পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানা যায়নি।
ডুরান্ড কাপের শেষ আটে পৌঁছে গিয়েছে মোহনবাগান। তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপ শীর্ষে হোসে মোলিনার দল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ডায়মন্ড হারবারকে পাঁচ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছে সবুজ মেরুন ব্রিগেড। মরশুমের প্রথম ম্যাচে নেমেই গোল পান জেমি ম্যাকলারেন এবং জেসন কামিন্স। মোহনবাগান শিবিরে এখন ফিল গুড পরিবেশ। কলকাতা লিগ এবং ডুরান্ড কাপের মধ্যে এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যশালী টুর্নামেন্টকেই গুরুত্ব দিচ্ছে মোহনবাগান। শেষ আটে কাদের বিরুদ্ধে নামবে মোলিনার দল, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। ডার্বি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে রবিবার যুবভারতীতে মুখোমুখি হবে দুই প্রধান। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালেই ডার্বি চাইছে না ইস্ট-মোহন। ডুরান্ড কর্তৃপক্ষকে সেটা জানিয়ে দিয়েছে তাঁরা। তাই শোনা যাচ্ছে, রবিবার ডার্বি নাও হতে পারে। মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। তারপর লটারি হবে। সেক্ষেত্রে শেষ আটের বদলে সেমিফাইনালে হতে পারে ডার্বি। গ্রুপের শেষ ম্যাচে চোটের জন্য প্রথম দলের পাঁচজন ফুটবলকে পাননি মোলিনা। তবে আশা করা যাচ্ছে, কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁদের পাওয়া যাবে। শেষ আটে ডার্বি না হলে, দুই প্রধানের মধ্যে একটি দলের ম্যাচ কলকাতার বাইরে হবে। ডুরান্ডের সূচি অনুযায়ী কলকাতায় একটাই কোয়ার্টার ফাইনাল। মোহনবাগানের মতো ইস্টবেঙ্গলও গ্রুপ শীর্ষে থেকে শেষ করেছে। শেষ ম্যাচে বিএসএফকে ছয় গোলে হারায়। গ্রুপের একনম্বর দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র সংগ্রহ করার পর, অস্কার ব্রুজো জানান, ডার্বির জন্য তাঁর দল তৈরি। দীর্ঘদিন পর মরশুমের শুরুটা ভাল করেছে ইস্টবেঙ্গল। তাই ডুরান্ড জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে লাল হলুদ সমর্থকরা। এবারের টুর্নামেন্টে আইএসএলের একাধিক দল নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দুই প্রধানের সামনে চ্যালেঞ্জ তেমন নেই বললেই চলে। অর্থাৎ, কলকাতায় ডুরান্ড ফেরার সম্ভাবনা প্রবল।




