RK NEWZ সেবাশ্রয়ে বড় স্ক্যামের অভিযোগ। ‘ভাইপোকে’ সরাসরি ‘চিটিংবাজ’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরের নামে সেখানে এক প্রকাণ্ড জালিয়াতি ও স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারি ঘটেছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—এই মামলায় জড়িয়ে পড়া প্রভাবশালীরা ‘একবার জেলে ঢুকলে আর বেরোতে পারবে না!’ ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ হেলথ ক্যাম্প নিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অভূতপূর্ব ও বিস্ফোরক আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘ভাইপোকে’ সরাসরি ‘চিটিংবাজ’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরের নামে সেখানে এক প্রকাণ্ড জালিয়াতি ও স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারি ঘটেছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—এই মামলায় জড়িয়ে পড়া প্রভাবশালীরা ‘একবার জেলে ঢুকলে আর বেরোতে পারবে না!’ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই স্ক্যামের বিষয়ে সবিস্তার নথি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন,“একটি বড় স্ক্যাম সামনে এসেছে, ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের স্ক্যাম। বিষ্ণুপুর থানায় ইতিমধ্যেই একাধিক এফআইআর হয়েছে। এই চিটিংবাজ ভাইপো যা করেছে—সরকারি হাসপাতালের আল্ট্রা সাউন্ড মেশিন ও এক্স-রে মেশিন বাইরে নিয়ে গেছে, অভিজ্ঞদের বদলে মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া ও সরকারি ডাক্তারদের সেখানে ডিউটি দিতে বাধ্য করা হয়েছে।”
বিকলাঙ্গ শিশু, মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ ও সিজড মেশিন! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় কিছু নথি ও ছবি দেখিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন, সেবাশ্রয় ক্যাম্পে ভুয়ো বা অনভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসার জেরে একাধিক শিশু শারীরিক বিকলাঙ্গতার শিকার হয়েছে এবং এক মহিলা নিজের পা হারিয়েছেন। তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের গোডাউন থেকে ২০২১ সালে মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া ওষুধের বিরাট মজুত উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের যে সব আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন বেআইনিভাবে ক্যাম্প তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেগুলিও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন,“এ তো একপ্রকার খুনের মামলা! এই চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। সব প্রমাণ জোগাড় করা হয়েছে। বৃক্ষ তুমি কে? ফলেন পরিচয়!” শুভেন্দু যখন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ডাঃ রাজীব বিশ্বাস নামে এক চিকিৎসকের একটি বিতর্কিত চিঠির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন, ঠিক তখনই এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে উপস্থিত আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা বিধায়ক রত্না দেবনাথ উঠে দাঁড়িয়ে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন—রাজীব বিশ্বাস তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দাবি করেছিলেন যে ‘পিসি ও ভাইপো আলাদা’ এবং তিনি অভিষেকের হয়েই কাজ করতেন। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন,“চিন্তা করবেন না, আমরা ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আরও নিচ্ছি। কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাটমিক এনার্জি বিভাগ ও স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার ও নন্দীগ্রামে যে সরকারি ডাক্তারদের জোর করে ডিউটি দেওয়া হয়েছিল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সেবাশ্রয় কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত হওয়া সমস্ত মানুষের অভিযোগকে পৃথক পৃথক এফআইআর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। গোটা ঘটনার মূলে পৌঁছাতে সিআইডি ও এসটিএফ-কে যৌথভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ক্যামাক স্ট্রিট কোনও প্রতিক্রিয়া দেয় কিনা দেখার বিষয়।



