RK NEWZ প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে অভিযুক্তদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে! সেই সঙ্গে হতে পারে ১০ কোটি টাকা জরিমানা! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণা পরেই শুক্রবার এই সংক্রান্ত খসড়া বিলে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ করা হতে পারে এই বিল। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিলটিতে অনুমোদন দিয়েছে। সেই বিল আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের আরও কড়া শাস্তি দেওয়া যাবে। নিশ্চিত করা যাবে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে এই সংক্রান্ত ঘটনার দ্রুত বিচারও। সূত্র বলছে, বিল আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দোষীদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সঙ্গে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে। সূত্র বলছে, পরীক্ষায় দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র ৪৭ জনকে অপসারণ করা হয়েছে। তাঁদের পদের উল্লেখ করা হয়নি। কয়েক জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে মোদী ভিডিয়ো বার্তায় জানান, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করে নিট-কাণ্ডের অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য খসড়া বিল তৈরি করছে সরকার। শুক্রবার এই বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে আগামী সপ্তাহে সেই বিল সংসদে পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োবার্তায় মোদী বলেন, ‘‘প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ বিষয় নয়। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।’’ তিনি জানান, এই কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আড়াই মাসে সরকারের তরফে অনেক পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের যাতে এক বছর নষ্ট না হয় তাই দ্বিতীয় বার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মোদীর এই আশ্বাসের পরেই অনশন প্রত্যাহার করে নেন গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে অনশন করছিলেন তিনি। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-ও। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে অন্যতম, দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। ডাক্তারির প্রবেশিকা নিটে কেলেঙ্কারির কারণে গত মে মাস থেকে আত্মঘাতী হয়েছে কয়েক জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের পরিবারকে এক কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দিতে হবে বলেও দাবি করেছে সিজেপি।
এই আবহে বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিয়ো বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। সেখানে তিনি লেখেন, “মাননীয় মোদীজি, আমাদের ছাত্রেরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করছেন। আপনি মধ্যরাতের করুণ ভিডিয়ো দিয়ে তাঁদের বুদ্ধিমত্তাকে অপমান করবেন না।” তার পরেই প্রধানমন্ত্রীকে তিন দাবির কথা স্মরণ করিয়ে দেন রাহুল— এক, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, দুই, পড়ুয়াদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি, তিন, পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা। মোদীকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গেও। তাঁর কটাক্ষ, একপাক্ষিক ভাবে ‘মনের কথা’ না-বলে লোকসভার অধিবেশনে যোগ দিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরুন প্রধানমন্ত্রী।



