Thursday, July 23, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

চাঁদের হাটের মঞ্চে মধ্যমণি মোহন ‘রত্ন’ টুটু বোস!‌‌ মোহনবাগান দিবসেই একসঙ্গে চলার বার্তা দিলেন সৃঞ্জয় ও দেবাশিস?‌

জমকালো অনুষ্ঠান। ইতিহাসের পাতায় যে দিনের অবস্থান। গর্বের আরেক নাম। ‘মোহনবাগান দিবস’। ইনডোর জুড়ে শুধু একটাই আওয়াজ জয় মোহনবাগান, জয় মোহনবাগান। খালি পায়ে ইংরেজ হারানোর স্পর্ধা। মোহনবাগান রত্ন তুলে দেওয়ার মঞ্চে আবেগতাড়িত সৃঞ্জয় বোস। ছেলে হিসেবে এদিনটাই সবচেয়ে গর্বের দিন সৃঞ্জয় বোসের কাছে। সেই মঞ্চ থেকেই মোহন সভাপতি দেবাশিস দত্তের অঙ্গীকার। আগামী দিনে একসঙ্গে চলার বার্তাও। দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন। উজ্জ্বল মোহনবাগানের নাম। শুধু ফুটবল নয়, বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্র থেকে সামাজিক কর্তব্য, সব কিছুতেই উজ্জ্বল সবুজ-মেরুন পতাকা। মোহনবাগান দিবসে স্বীকৃতি দেওয়া হল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য থেকে বিভিন্ন মাধ্যমের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিদের। ‘মোহনবাগান রত্ন’-এ ভূষিত স্বপনসাধন বোস। মঙ্গল সন্ধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতিদের। তবে সকলের চোখ ছিল কিংবদন্তির সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকেই। ভিডিওবার্তায় বক্তব্য রাখেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, বাইচুং ভুটিয়া, আইএম বিজয়ন, জোসে ব্যারেটো, সুব্রত ভট্টাচার্য প্রমুখ। সংবর্ধনা দেওয়ার আগে ভিডিওবার্তা, তিনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানুষ। এই সম্মান যেন ‘গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজা’। আসলে তাঁর আমল থেকেই ‘মোহনবাগান রত্ন’ দেওয়া শুরু হয়। ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস ও সভাপতি দেবাশিস দত্ত মিলে তাঁকে মোহনবাগান রত্নে ভূষিত করেন। মঞ্চে তখন চাঁদের হাট। হবে নাই বা কেন! তিনি যে সবুজ-মেরুনের প্রাণভোমরা টুটু বোস।’‌

জাঁকজমকভাবে পালিত মোহনবাগান দিবস। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে যেন চাঁদের হাট। সকালে মোহনবাগান লেনে অমর একাদশের প্রথম মূর্তিতে মাল্যদান করে মোহনবাগান দিবসের সূচনা। তারপর টর্চ ব়্যালিতে ছিলেন সভাপতি দেবাশিস দত্ত। ব়্যালি শেষ হয় ক্লাবে। মোহনবাগানে শুরুতেই পতাকা উত্তোলনেও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বসু। কেক কাটা, প্রাক্তনদের ম্যাচে পেসিডেন্ট একাদশ এবং সেক্রেটারি একাদশের ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব দেবাশিস দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসুর। মেরিনার্স ফ্যান ক্লাবের গান প্রকাশিত। ক্লাবতাঁবুতে অমর একাদশ ফুটবল যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। জ্বালানো হয় মশাল। তুমুল বৃষ্টিতেও নেভেনি সবুজ মেরুন আগুনের শিখা। সন্ধ্যায় সৌমেন্দ্র-সুরজিতের সঙ্গীতানুষ্ঠানের মূর্ছনায় উদ্বেল নেতাজি ইন্ডোর। প্রবল গর্জনে ‘জয় মোহনবাগান’ স্লোগান। উচ্ছ্বাস, উন্মাদনায় ভরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

সন্ধ্যায় জনপ্রিয় জুটি সৌরেন্দ্র‌-সৌম্যজিতের গানের তালে তালে ফুটবল জাগলিং। মোহনবাগান দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি, সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্ত্তী, মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, মনোজ তিওয়ারিরা। অমর একাদশের পরিবারের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ব্যাজ এবং উত্তরীয় দিয়ে অমর একাদশের পরিবারের প্রতিনিধিদের সংবর্ধিত করা হয়। মাস দেড়েক আগেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোহনবাগানের দুই শীর্ষকর্তার মধ্যে সম্পর্কের বিচ্যূতি এই মঞ্চেই মিলিমিশে একাকার। মোহনবাগান দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে ভ্রাতৃত্বের ছোঁয়া। দুই কর্তার একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার।

আবেগজড়িত কণ্ঠে সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, ‘‌মোহনবাগান ক্লাবের আসল চালিকাশক্তি সমর্থকরা। আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হই যখন মোহনবাগান সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। সৃঞ্জয় আমার হাত না ছাড়লে আমি কোনওদিন ছাড়ব না। শুনেছি আমাদের তুলনা টুটু দা নিজের এবং অঞ্জন দার জুটির সঙ্গে করেছে। আমি এবং সৃঞ্জয় টুটু দা ও অঞ্জন দার নখের যোগ্য হতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করব।’‌ নিজের বাবার হাতে ‘‌মোহনবাগান রত্ন’‌ তুলে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আপ্লুত বাগান সচিব সৃঞ্জয় বসু বলেন, ‘‌এই দিনটা সব মোহনবাগানিদের কাছে আবেগের। আমার কাছে আরও আবেগের। কারণ সবচেয়ে বড় পুরস্কার টুটু বসুকে দিতে পারব। আমার সৌভাগ্য যার হাত ধরে মাঠে এসেছি, তাঁকে মোহনবাগান রত্ন দিতে পারছি। অঞ্জন মিত্রকে মনে পড়ছে। কারণ ওনার মস্তিষ্কপ্রসূত এই দিনটা। সমর্থকদের প্রার্থনা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।’‌

ভারতীয় ফুটবলের এক চলমান ইতিহাস। বিশেষ করে মোহনবাগানের। নাম নয়, নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান। বিদেশি নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর প্রতিপক্ষের ঘর থেকে তুলে আনেন চিমা ওকেরিকে। দলবদলের বাজারে প্রতিপক্ষের ঘর ভেঙেছেন অনেকবার। একপ্রকার হাইজ্যাক করে সৌরভ গাঙ্গুলিকে মোহনবাগানে নিয়ে আসেন। সফল উদ্যোগপতির পাশাপাশি মোহনবাগানের কান্ডারী। তার সময়কালে তিনটে জাতীয় লিগ এসেছে। স্পনসরহীন সময় নিজেই ক্লাব চালান। দুটো আই লিগ এসেছে। এসেছে আইএসএলও। মঙ্গলবার মোহনবাগান দিবসে ‘মোহনবাগান রত্ন’ দেওয়া হয় স্বপনসাধন বসু, ওরফে টুটু বসুকে। তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন দেবাশিস দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসু। ছিলেন তিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, স্নেহাশিস চক্রবর্তী। এছাড়াও ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি, অভিষেক ডালমিয়া, বাবুল সুপ্রিয়, প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি সহ কর্মসমিতির সদস্যরা।

আবেগতাড়িত ‘‌মোহনবাগান রত্ন।’‌ ভাগ করে নেন অনেক স্মৃতি। টুটু বসু বলেন, ‘‌সৌরভকে যখন আমি তুলেছিলাম, ওর বাবা আমার নামে এফআইআর করেছিল। ওর মা আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। বলেছিল, আমার ছেলে মোহনবাগানে খেলবে। যখন শুনলাম আমাকে মোহনবাগান রত্ন দেওয়া হচ্ছে, সাংবাদিকরা প্রশ্ন করে, আপনার কেমন লাগছে? বলেছিলাম, যাদের জন্য রত্ন পেয়েছি, তাঁদের স্টেডিয়ামে গিয়ে বলব। ছোটবেলায় শুনেছিলাম চাঁদ পাওয়ার গল্প, আমি আজ মনে করছি হাতে চাঁদ পেয়েছি। ইতিহাসে কেন টুটু দার নাম লেখা থাকে আমি বলে দেব। টাকা অনেকে খরচ করতে পারে। মোহনবাগান সভ্যদের ভোটাধিকার ছিল না। তাঁরা ভোট দিতে পারত না। আমি সচিব হওয়ার পর আশ্চর্য হলাম যে ক্লাবের সদস্যদের ভোটের অধিকার নেই। আমরা কোর্টে গেলাম। আমাদের হয়ে কোনও উকিল দাঁড়াল না। আমি কালো কোট পরে গিয়ে বললাম, এই ক্লাবের মেম্বারদের ভোটের অধিকার নেই। পোস্টাল ব্যালটে ভোট হয়। ভারতীয় নাগরিকরা যেমন ভোট দেয়, তেমন হোক। বললাম ৮০০০ সদস্যদের ছবি নিয়ে জমা দেব। চিফ জাস্টিসের ঘরে ছবি জমা দিলাম। ঐতিহাসিক নির্বাচন হাইকোর্ট দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল এবং হাইকোর্টেই হয়েছিল। আমি সচিব হয়েছিলাম। টুটু বসু মেম্বারদের ভোটের অধিকার দিয়েছিল।’‌

মোহনবাগানের ক্যান্টিন নিজের নামে করার অনুরোধ জানিয়ে টুটু বসু বলেন, ‘‌আমার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে আমি খাদ্যরসিক। ক্যান্টিন ৩০ লাখ টাকা দিয়ে করে দিয়েছিলাম। আমরা স্টু পাউরুটি খেয়ে উদ্বোধন করেছিলাম। আমি মারা গেলে ক্যান্টিন আমার নামে করে দিও।’‌ ঐতিহাসিক দিনে ফেরান প্রথম বিদেশি সই করার স্মৃতি। একইসঙ্গে তুলে ধরেন ক্লাব কর্পোরেট সংস্থাকে তুলে দেওয়ার গল্প। টুটু বসু বলেন, ‘আইনে ছিল বিদেশি প্লেয়ার খেলাতে পারবে না। আমি সেই কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। বলেছিলাম যা হওয়ার হবে। চিমা তখন সবে বিয়ে করেছে। ওর সঙ্গে কথা বলতে যাই। টাকা পয়সার বিষয়ে স্ত্রী ক্যাথির সঙ্গে কথা বলতে বলে। সে তখন রান্না করছিল। রান্না ঘরে গিয়ে কথা বলি। সবসময় ক্লাবের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। যখন বুঝলাম আমার ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন বন্ধু সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে বললাম দায়িত্ব নিতে। আগের বছর দুটো ট্রফি দিয়েছে।’‌

মোহনবাগান দিবসে এসে আগামী বছর কন্যাশ্রী কাপে সবুজ মেরুনের মেয়েদের দল খেলানোর দাবি জানান ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এছাড়াও মোহনবাগান ট্রফি জিতলে, সঙ্গে সঙ্গেই ক্লাবে আনার কথা আর্জি জানান। অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘গর্বের দিন। ইংরেজদের চোখে চোখ রেখে অদম্য সাহস নিয়ে মোহনবাগান প্রথম শিখিয়েছিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে সাফল্য পাওয়া যায়। স্বপন সাধন বসু মোহনবাগানের ভীত গড়ে দিয়েছে। মোহনবাগান রত্ন তাঁকে কী দেওয়া হবে? তিনিই তো প্রতিষ্ঠান। টুটু দা-অঞ্জন দার মানিকজোর জুটির কথা শুনছিলাম। আগামী দিনে দেবাশিস দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসু যেন ওদের মতো হয়। আগামী দিনে কন্যাশ্রী কাপে মোহনবাগানের মেয়েদের দেখতে চাই। মোহনবাগান ট্রফি জিতলে সেটা যেন তিনদিন পরে না আসে, যেন সঙ্গে সঙ্গেই ক্লাবে আসে।’ এর উত্তরে ফুটে ওঠে প্রবাদপ্রতিম প্রশাসকের হাস্যরস। টুটু বসু বলেন, ‘প্রেম করলেই কি সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে হয়? এবার তো ট্রফি এসেছিল, একটু পরে হলেও। আমার বিশ্বাস, মানিকজোড় জুটি‌ করবে। মোহনবাগান ক্লাব যাতে হাত দেয়, সোনা হয়ে যায়।’‌ টুটু বসুকে মোহনবাগান রত্ন দেওয়া প্রসঙ্গে সুজিত বসু বলেন, ‘‌১৯১১ সালের দিনটা সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে চলছে মোহনবাগান। আমি একসময় ৬০ পয়সা, এক টাকায় খেলা দেখা লোক। টুটু দা যে সম্মান পাচ্ছে সেটা আমাদের জন্য গৌরবের।’‌ এদিন ১৯ জনকে মোহনবাগানের লাইফ মেম্বার করা হয়। ২০ নম্বর স্থানে নিজের নামের আগাম বুকিং করে রাখলেন ‘‌মোহনবাগান রত্ন।’‌ টুটু বসু বলেন, ‘‌বয়স বাড়ছে। কতদিন আর আপনাদের মধ্যে থাকব জানি না। এক লক্ষ টাকার সঙ্গে চার লক্ষ টাকার চেক মোহনবাগান ক্লাবে পাঠিয়ে দিচ্ছি। পরের বছর আমাকে ২০তম লাইফ মেম্বার করার অনুরোধ।’‌ ঐতিহাসিক দিনে ছোটবেলার বন্ধু অঞ্জন মিত্র এবং স্ত্রীকে মিস করেন মোহনবাগান রত্ন।

মোহনবাগান দিবস উপলক্ষে একগুচ্ছ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল এএফসি এশিয়া কাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাঁদের সংবর্ধিত করা হয়। আসেননি সঙ্গীতা বাসফোর, অঞ্জু তামাং এবং কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী। রিম্পা হালদারকে বিশেষ সংবর্ধনা। ম্যারিনার্স বেস ক্যাম্পকে সংবর্ধনা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে আঁকা ২৫,৫০০ বর্গ ফুটের টিফোর জন্য পুরস্কৃত করা হয় এই ফ্যানস ক্লাবকে। টিফোর রেপ্লিকা মোহনবাগান সভাপতি এবং সচিবের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এমডিএক্স, মেরিনার্স দ্য এক্সট্রিমের মিউজিক ভিডিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। জীবনকৃতি সম্মান প্রাপক রাজু মুখার্জীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। রাজু মুখার্জি বলেন, ‘‌মোহনবাগান আমার কাছে আবেগ। ১৭ বছর বয়সে মোহনবাগানে আসি। তারপর থেকে রক্তে জমে গিয়েছে। প্রত্যেককে ধন্যবাদ। বিশেষ করে যারা আমাকে এই পুরস্কার দেওয়ার যোগ্য মনে করেছে। মোহনবাগান আমাকে মানুষ করেছে। মোহনবাগানে আমি অনেক কিংবদন্তিদের দেখেছি। জ্যোতিষ মিত্র আমার আইডল ছিলেন। তবে আমি দুটো বড় বড় শূন্য করে মোহনবাগানে জীবন শুরু করেছিলাম।’‌

অরুণলাল সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পান রণজোৎ সিং খায়রা। সুভাষ ভৌমিক নামাঙ্কিত পুরস্কার পান জেমি ম্যাকলারেন‌। শিবদাস ভাদুড়ী নামাঙ্কিত সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পান আপুঁইয়া। তবে ম্যাকলারেন এবং আপুঁইয়া এদিন হাজির ছিলেন না। প্রথমজন এখনও কলকাতায় আসেননি। দ্বিতীয়জন এলেও, একদিন পর মহমেডানের বিরুদ্ধে ডুরান্ড অভিযান শুরু মোহনবাগানের। তাই মোহনবাগান দিবসে অনুপস্থিত। সেরা উঠতি ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসের হাতে পুরস্কার তুলে দেন টলিউডের প্রখ্যাত তারকা প্রসেনজিৎ। মোহনবাগানের সেরা উদীয়মান ফুটবলার হয়েছেন তরুণ ডিফেন্ডার দীপেন্দু বিশ্বাস। ‘ঘরের ছেলে’ দীপেন্দু বলেন, ‘আমি প্রথমে সমর্থক, তারপর ফুটবলার’। তিনি বলেন, “শুভ মোহনবাগান দিবস। সকলকে ধন্যবাদ যে, আমাকে যোগ্য মনে করেছে। আশা করি, আগামী দিনে আরও ভালো হবে। জয় মোহনবাগান।” উমাকান্ত পালোধি নামাঙ্কিত সেরা সমর্থকের পুরস্কার পান রিপন মণ্ডল। প্রতুল চক্রবর্তী নামাঙ্কিত সেরা রেফারির পুরস্কার দেওয়া হয় মিলন দত্তকে। অঞ্জন মিত্র সেরা প্রশাসকের পুরস্কার পান কমল কুমার মৈত্র। মতি নন্দি নামাঙ্কিত সেরা ক্রীড়া সাংবাদিকের পুরস্কার দেওয়া হয় দুই প্রয়াত সাংবাদিক অরুণ সেনগুপ্ত এবং মানস চক্রবর্তীকে। প্রণব ব্যানার্জি নামাঙ্কিত আওয়ার্ড সেরা অ্যাথলিটের পুরস্কার পান অর্চিতা ব্যানার্জি। কেশব দত্ত সেরা হকি প্লেয়ায় হন অর্জুন শর্মা। ১৯ জনকে নতুন লাইফ মেম্বারকেও সংবর্ধিত করা হয়। এই তালিকায় ছিলেন শ্রেয়া পাণ্ডে, বোধিসত্ত্ব ব্যানার্জি, সোহনলাল ঘোষ, সৌমেন রায়, সামিউল্লাহ খান, অমিতাভ চৌধুরী, সুরজিৎ ঘোষ, আদিত্য মুখার্জি, মনমোহন আগরওয়াল, অমিত কুমার শ্যাম, সুক্রম কুণ্ডু, প্রিয়াঙ্কা সরকার, রাজেশ্বরী রায়, অর্ণব গাঙ্গুলি, সৌমজিৎ বসু, রাজু নস্কর, প্রবীর মহাপাত্র, অরিজিৎ ব্যানার্জি এবং জাকির হোসেন।

মোহনবাগান রত্ন: স্বপনসাধন বোস
সেরা ক্রীড়া সাংবাদিক: অরুণ সেনগুপ্ত, মানস ভট্টাচার্য (দুজনেই মরণোত্তর)
সেরা সমর্থক: রিপন মণ্ডল
সেরা ক্রীড়া সংগঠক: কমল কুমার মৈত্র (অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সচিব)
সেরা রেফারি: মিলন দত্ত
সেরা অ্যাথলিট: অর্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সেরা হকি খেলোয়াড়: অর্জুন শর্মা
সেরা উদীয়মান ফুটবলার: দীপেন্দু বিশ্বাস
সেরা ফরওয়ার্ড: জেমি ম্যাকলারেন
সেরা ফুটবলার: আপুইয়া
সেরা ক্রিকেটার: রণজ্যোৎ সিং খাইরা
জীবনকৃতি: রাজু মুখোপাধ্যায়‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles