Wednesday, July 22, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘‌মিসেস গলফ’‌ সুন্দরীর ফাঁদে সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীরা!‌ বৌদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত রহস্যময়ী নারী?‌

বয়স ৩০-র কোঠায়। বৌদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ। নয়জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক। ৩০ বছর বয়সি উইলাওয়ান এমসাওয়াত। বৌদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে যৌনকাজে লিপ্ত থাকার ৮০,০০০-র বেশি ছবি এবং ভিডিয়ো। সেগুলো দেখিয়েই বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের ব্ল্যাকমেল। মিসেস গলফ নামেই উইলাওয়ানকে চিহ্নিত করছে পুলিশ। উত্তর ব্যাঙ্ককের বিলাসবহুল বাড়ি থেকে উইলাওয়ান গ্রেফতার। ভয় দেখিয়ে অর্থ তোলা, আর্থিক তছরুপ, চুরি করা জিনিসপত্র নেওয়ার মতো অভিযোগ। তিন বছরে প্রায় ১০২ কোটি টাকার মতো কামিয়েছিলেন উইলাওয়ান। অসংখ্য বৌদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে যৌনকাজে লিপ্ত থাকার ৮০,০০০-র বেশি ছবি এবং ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছে তাঁর বাড়ি থেকে। বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের ব্ল্যাকমেল করা হত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। বৌদ্ধ ভিক্ষুক স্বীকার করে নিয়েছেন যে উইলাওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। একজন দাবি করেন, মহিলার সঙ্গে দীর্ঘকালীন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। এমনকী উপহার হিসেবে উইলাওয়ান তাঁকে গাড়ি দিয়েছিলেন বলেও দাবি। পরবর্তীতে অপর একজনের সঙ্গে মহিলার সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। তখন থেকে টাকার দাবি শুরু হয়। মহিলা দাবি করেন যে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে তাঁর সন্তানও হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গত মাসের মাঝামাঝি সময় পুরো বিষয়টি সামনে আসে, যখন একজন সন্ন্যাস ছেড়ে দেন আর তিনি গায়েব হয়ে যান। মহিলার ব্ল্যাকমেলের জেরেই তিনি উধাও হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। উইলাওয়ানের দাবি, তিনিই ওই ব্যক্তির সন্তানের মা। পুলিশ জানিয়েছে, মহিলার ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাঁর ফোন থেকে অজস্র ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিয়ো ও প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে, ব্ল্যাকমেল করে যে টাকা ওই মহিলা অনলাইনে জুয়া খেলার কাজে ব্যবহার করতেন। বৌদ্ধ মঠগুলি সম্পর্কে তাই জনগণ বিশেষ শ্রদ্ধার মনোভাব পোষণ করেন। আজীবন ব্রহ্মচর্য পালনের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভিক্ষুরা তাইল্যান্ডের জনসাধারণের কাছে সম্ভ্রমের পাত্র। এই যৌন কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পরই জনসমাজে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে শুরু করেছে। স্বর্গের সুন্দরী অপ্সরাদের প্রেমের আহ্বান উপেক্ষা করতে পারেননি পুরাণের ঋষি-মুনিরাও। তপস্যাভঙ্গ করার জন্য কামকলার ফাঁদ পাততেন ঊর্বশী, মেনকা, রম্ভারা। কলিযুগেও সেই ফাঁদ এড়াতে পারলেন না সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীরা। অপ্সরা না হলেও সুন্দরী তরুণীর মধু-ফাঁদে পা দিয়ে এক ভয়ঙ্কর যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লেন একদল বৌদ্ধভিক্ষু। বৌদ্ধভিক্ষুদের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে যৌনতার ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ। গ্রেফতার তাই তরুণী। তাইল্যান্ডের পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর প্রকাশ্যে এসেছে কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি। জড়িত কমপক্ষে ৯ জন বৌদ্ধভিক্ষু। কেলেঙ্কারির নেপথ্যে নাম ৩০ বছর বয়সি উইলাওয়ান এমসাওয়াত। ‘মিস গল্‌ফ’ নামেই পরিচিত। এই তাই তরুণী ভিক্ষুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের স্থাপন করার পর তাঁদের ভয় দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আদায়। ব্যাঙ্ককের উত্তরে নন্থাবুরিতে একটি বিলাসবহুল বাড়ি থেকে গ্রেফতার উইলাওয়ান। তোলাবাজি, অর্থ পাচার এবং চুরির অভিযোগ এনেছে তাই পুলিশ। তাইল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, ‘মিস গল্‌ফ’ নামের তরুণী অন্তত ৯ জন ভিক্ষুর সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছিলেন। বৌদ্ধভিক্ষুরাও ব্রহ্মচর্যের ব্রত লঙ্ঘন করে তরুণীর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হন, অভিযোগ। তরুণীর শয্যাসঙ্গী হওয়ার খেসারতও দিতে হয়েছে মোটা টাকার বিনিময়ে। গোপনে তোলা ভিক্ষুদের সঙ্গমের মুহূর্তের হাজার হাজার ছবি ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছিলেন উইলাওয়ান। প্রথমে তিনি ভিক্ষুদের প্রেমের ফাঁদে জড়াতেন। তার পর টেনে নিয়ে যেতেন শয্যায়। সঙ্গমের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়ে যেত গোপনে। পরে সেই ছবিকে হাতিয়ার করে ভিক্ষুদের ব্ল্যাকমেল করে অর্থ রোজগার করতেন তরুণী। ভয় দেখিয়ে ৯ জনের থেকে ভারতীয় মুদ্রায় ১০৩ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা তরুণীর বাড়িতে বৌদ্ধভিক্ষুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত থাকার ৮০ হাজারেরও বেশি ছবি এবং ভিডিয়ো খুঁজে পেয়েছে। সামান্য সরকারি ভাতা ও জনগণের দানের উপর নির্ভর করা বৌদ্ধভিক্ষুরা এই বিপুল টাকা পেতেন কোথা থেকে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রকাশিত হয়েছে আরও একটি কলঙ্কময় অধ্যায়। তরুণীর পকেটে ঢোকা ১০৩ কোটি টাকার পুরোটাই এসেছে মঠের দানবাক্স ও অ্যাকাউন্ট থেকে! যৌনতৃপ্তির মূল্য চোকাতে মঠের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জনগণের দানের টাকা নয়-ছয় করেছেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিভিন্ন মঠের ৯ জন ভিক্ষুর থেকে গেরুয়া পোশাক পরার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত সন্ন্যাসীদের কয়েক জন উচ্চপদস্থ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সরকার আইন লঙ্ঘনকারী সন্ন্যাসীদের জরিমানা-সহ জেলের ঘানি টানানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ রাজা নিজের আসন্ন ৭৩তম জন্মদিনের উৎসবে যোগদান করতে আসা ৮০ জনেরও বেশি সন্ন্যাসীর নিমন্ত্রণ বাতিল করেন। ৮১ জন ভিক্ষুকে উচ্চতর উপাধি দেওয়ার যে রাজকীয় আদেশ জারিও প্রত্যাহার করেন। বড় একটি যৌন কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস করল তাই পুলিশ? ওয়াট ট্রি থোটসাথেপ নামের একটি মঠের ভিক্ষু নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। উইলাওয়ানের ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে মঠত্যাগ করেন ওই ভিক্ষু। পুলিশ জানিয়েছে যে, টাকা দিতে না পেরে তিনি তরুণীর হাত থেকে বাঁচতে মঠ ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে যান। পরে পুলিশ জানতে পারে, ওই সন্ন্যাসীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ার পর উইলাওয়ান দাবি করেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা এবং সন্তানের ভরণপোষণের জন্য তিনি ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। তদন্তকারীরা তরুণীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ফোন উদ্ধার করেন। সেখানে টাকাপয়সার লেনদেন সংক্রান্ত প্রচুর তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। সমাজমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে বৌদ্ধভিক্ষুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এই মধু-ফাঁদের নায়িকা। সন্ন্যাসীরা এক দিনেই ৯০ হাজার ডলার পর্যন্ত দিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে মনের সুখে কেনাকাটা করেন। সন্ন্যাসীদের ভয় দেখিয়ে যে টাকা আদায় হত তার বড় একটি অংশ দিয়ে ওই তরুণী অনলাইনে জুয়া খেলতেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। কেলেঙ্কারি জনসমক্ষে আসার ফলে তাই বৌদ্ধধর্মের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে যে তারা সন্ন্যাসীদের নিয়মকানুন পর্যালোচনা করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবে। তাইল্যান্ডে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ বৌদ্ধ। সেখানে ভিক্ষুরা অত্যন্ত সম্মানিত। অনেক তাই পুরুষও ভাল কর্মফল অর্জনের জন্য সাময়িক ভাবে ভিক্ষু হিসেবে নিযুক্ত হন। ভিক্ষুদের এই অসদাচারণের বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছে জনমানসেও।বৌদ্ধসঙ্ঘের নিয়মানুযায়ী সন্ন্যাসীরা ২২৭টি কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। হস্তমৈথুন, নারীদের স্পর্শ, এমনকি সরাসরি জিনিসপত্র ধরাও নিষিদ্ধ ব্রহ্মচর্য পালনকারীদের। ভিক্ষুরা সাধারণত দান এবং মাসিক ১৭০ ডলারের সামান্য ভাতার উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন। বক্তৃতা, আশীর্বাদ এবং অনুষ্ঠানের জন্য সামান্য কিছু অর্থ পান। যৌন কেলেঙ্কারি বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মধ্যে প্রথম কেলেঙ্কারি নয়। ২০১৭ সালে পুলিশ ব্যাঙ্ককের উত্তরে ওয়াট ধম্মাকায়া মন্দিরে অভিযান চালিয়ে ৩.৩ কোটি ডলার পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করে মঠের অধ্যক্ষকে। এক সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে জুয়ার তহবিলের জন্য প্রায় ১ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ। বৌদ্ধধর্মের বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলতে শুরু করেছেন যে, মঠ ও ভিক্ষুদের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। আগে সন্ন্যাসীদের সম্মানের চোখে দেখা হত। এই ধরনের ঘটনা যত বাড়ছে ততই জনগণের সম্মানের জায়গা থেকে সরে যাচ্ছেন। ভিক্ষুদের কাজকর্মে মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারেন, অথচ বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা এখনও অনুগামীদের পথ দেখায়। কমপক্ষে নয়জন জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুকে রাতারাতি ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে এবং আরও তদন্ত চলছে। থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নও বেশ কয়েকজন ভিক্ষুর সম্মানসূচক উপাধি বাতিল করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচা্যাচাই ভিক্ষুক ও মন্দিরের আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার নির্দেশ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles