গুলি করে হিন্দুকে হত্যা। হিন্দু যুবক দীপ্ত সাহার মর্মান্তিক মৃত্যু। বাংলাদেশে গুলি করে হিন্দু যুবককে মেরে ফেলা হল। আমেরিকায় যেমন জর্জ ফ্লয়েডের গলা চেপে এক পুলিশ অফিসার বসেছিল, সেরকমভাবেই আজ গোপালগঞ্জে এক যুবকের গলায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বুট তুলে দেয় বলে অভিযোগ। সেনা ও পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার। আওয়ামি লিগের অভিযোগ। গোপালগঞ্জের ঘটনায় কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু। গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপি সমাবেশকে ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোপালগঞ্জ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসদের দাবি, আওয়ামি লিগ এবং আওয়ামি লিগের ছাত্রদলের সদস্যরা হামলা চালিয়েছেন। তাঁরা ছাড় পাবেন না। প্রত্যেককে শাস্তি দেওয়া হবে বলে দাবি ইউনুসরদের। হিন্দু যুবক দীপ্ত সাহা এবং রমজান কাজীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দীপ্তের কাকা জানান, তাঁর ভাইপো মধ্যাহ্নভোজের পরে দোকানে যাচ্ছিলেন। সেইসময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। রমজানের বাবা জানান, তাঁর ছেলে কোনও দোষ করেনি। বিনা দোষে মেরে ফেলা হয়েছে, অভিযোগ। আওয়ামি লিগের অভিযোগ, ‘গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে সাতজন সাধারণ মানুষ নিহত। কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন গুলিতে। তাঁদের সকলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই হঠকারিতার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জে সাধারণ মানুষ (রাস্তায়) নেমেছেন। এর জবাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সেনাবাহিনীকে দিতে হবে।’ শেখ হাসিনার দলের অভিযোগ, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের রক্তচক্ষু আজ সরাসরি আওয়ামি লগের রক্তে হাত রাঙাচ্ছে।’ অভিযোগ, গুলি করে সেনা এবং পুলিশ মেরে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। সেনা ও পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইউনুসদের দাবি, আওয়ামি লিগের হামলার পরে সেনা এবং পুলিশ যেভাবে সংযম দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। গোপালগঞ্জে কার্ফু জারি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।

বাংলাদেশে বাড়ছে খুন-নৃশংসতা। সংঘর্ষ। উত্তাল বাংলাদেশ। হাসিনা-গড় গোপালগঞ্জে গুলিবিদ্ধ। মৃত তিন। বুলেটের জখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৯। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জে জন সমাবেশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রেদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সমাবেশ। পাশাপাশি মুজিবের কবর ভাঙার কর্মসূচিরও ডাক। শেখ হাসিনার পতন উদযাপনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা। আওয়ামি লিগ প্রবল প্রতিরোধের মুখে তথাকথিত বিপ্লবী ছাত্ররা। অভিযোগ, সভামঞ্চে হামলা চালিয়ে তাঁদের মারধর করে আওয়ামি নেতারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসে সেনা ও পুলিশ। ‘জুলাই গণ অভ্যূত্থানে’র এক বছর পূর্ণ। বাংলাদেশে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ হিসাবে পালিত হচ্ছে। গত বছর এই সময়ই হাসিনার পতনের সূচনা হয়েছিল। এই কারণে এবছরের ১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে পদযাত্রা করে দলটি। পদযাত্রাকে ঘিরে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় পুলিশের গাড়িতে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে ওই এলাকা পরিদর্শনে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এম রাকিবুল হাসান। ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কংশুরে ইউএনওর গাড়িতে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর গাড়ির চালক আহত হন। ফের এনসিপির নেতারা সভা করতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ২০০-৩০০ জন এসে হামলা চালায়। আওয়ামির কর্মী সমর্থকরা চারদিক থেকে এনসিপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এনসিপির নেতা-কর্মীরা অন্যদিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মহম্মদ কামরুজ্জামান জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। সংঘর্ষে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি আরও ৯। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁরা গুলিবিদ্ধ। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়, হামলা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনার পর জেলাটিতে কারফিউ বলবৎ।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাড়িটি কীভাবে পুনর্নির্মাণ করা যায় তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ। এর আগে বাংলাদেশে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি ভাঙার ঘটনায় ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এমনকী সেই বাড়ি সংরক্ষণের বিষয়ে বাংলাদেশকে সাহায্য করার প্রস্তাবও দেয় দিল্লি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বাড়িটি ভাঙার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন যে, সেই বাড়িটি বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এরপরই এই বাড়ি ভাঙার কাজ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষের বাড়ি ভেঙে ফেলে সেখানে নতুন শিশু অ্যাকাডেমি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মহম্মদ ইউনুসের সরকার। ময়মনসিংহের হরিকিশোর রায় চৌধুরী রোডে অবস্থিত উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি এমনিতেই বহুকাল ধরে ভগ্নদশায় কোনওমতে দাঁড়িয়ে ছিল। ‘দ্য ডেইলি স্টারের’ একটি প্রতিবেদন অনুসারে, উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর বাড়ি। একটি বিশিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এর আগে ময়মনসিংহ শিশু একাডেমি হিসাবে এই বাড়িটি ব্যবহৃত হত। তবে, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক সম্পত্তিটি বছরের পর বছর ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। আবহে গত মঙ্গলবার ভারত সরকার জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক সম্পত্তি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। এর আগে, জানা গিয়েছিল মহম্মদ ইউনুসের শাসনে থাকা বাংলাদেশে উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরীর ভিটে ভাঙার কাজ চলছে। ঘটনার খবর পেতেই ক্ষোভ উগরে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই, ওই বাড়িটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার্থে দিল্লির জোরালো বার্তা যায় ঢাকার কাছে। এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ‘বাংলা সাংস্কৃতিক নবজাগরণের প্রতীক ভবনটির ঐতিহাসিক মর্যাদা বিবেচনা করে, ধ্বংসের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা ভালো এবং এটিকে সাহিত্যের মিউজিয়াম এবং ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা যায় কিনা তার জন্য এর মেরামত ও পুনর্নির্মাণের বিকল্পগুলি খতিয়ে দেখা হোক। ভারত সরকার এই উদ্দেশ্যে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।’

বাংলাদেশে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষের বাড়ি ভেঙে ফেলে সেখানে নতুন শিশু অ্যাকাডেমি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। ময়মনসিংহের হরিকিশোর রায় চৌধুরী রোডে অবস্থিত উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি এমনিতেই বহুকাল ধরে ভগ্নদশায় কোনওমতে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে জানতে পেরে এবার কী বললেন সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় উদ্বিগ্ন। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে পূর্বপুরুষের বাড়ি ভাঙা নিয়ে সন্দীপ রায় জানান, তাঁরা এই বাড়ির অবস্থার বিষয়ে একদমই অবগত নন। তিনি বলেন, ‘এর আগে শুনেছিলাম, বাড়িটির সংস্কার করা হবে। হেরিটেজের মতো করা হবে। এখন দেখছি অন্য কিছু ঘটছে। আমি কোনওদিন ওখানে যাইনি। বাবা হয়ত একবার গিয়েছিলেন বহুকাল আগে। যে কারণে আমাদের পক্ষে বলা মুশকিল। তবে বাড়িটার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল এটুকু বলতে পারি। ভারত সরকার জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক সম্পত্তি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। মহম্মদ ইউনুসের শাসনে থাকা বাংলাদেশে উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরীর ভিটে ভাঙার কাজ চলছে। ঘটনার খবর পেতেই ক্ষোভ উগরে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়িটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার্থে দিল্লির জোরালো বার্তা যায় ঢাকার কাছে। বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ‘বাংলা সাংস্কৃতিক নবজাগরণের প্রতীক ভবনটির ঐতিহাসিক মর্যাদা বিবেচনা করে, ধ্বংসের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা ভালো এবং এটিকে সাহিত্যের মিউজিয়াম এবং ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা যায় কিনা তার জন্য এর মেরামত ও পুনর্নির্মাণের বিকল্পগুলি খতিয়ে দেখা হোক। ভারত সরকার এই উদ্দেশ্যে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।’

ভারত সরকার জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক সম্পত্তি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। মহম্মদ ইউনুসের শাসনে থাকা বাংলাদেশে উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরীর বাড়ি অর্থাৎ সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে ভাঙার কাজ চলছে। ঘটনার খবর পেতেই ক্ষোভ উগরে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই, ওই বাড়িটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার্থে দিল্লির জোরালো বার্তা গেল ঢাকার কাছে। কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ‘বাংলা সাংস্কৃতিক নবজাগরণের প্রতীক ভবনটির ঐতিহাসিক মর্যাদা বিবেচনা করে, ধ্বংসের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা ভালো এবং এটিকে সাহিত্যের মিউজিয়াম এবং ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা যায় কিনা তার জন্য এর মেরামত ও পুনর্নির্মাণের বিকল্পগুলি পরীক্ষা করে দেখা হোক।’ বিশিষ্ট সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তথা সত্যজিৎ রায়ের এই পৈতৃক ভিটে বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারের অধীনে। আর তা ভাঙার খবর পেতেই তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে দিল্লি। ভারত সরকারের সাফ দাবি, বাড়িটি পুনর্নিমাণে দিল্লি ইচ্ছুক ঢাকাকে সহযোগিতা করতে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিকে বলা হয়েছে,’ভারত সরকার এই উদ্দেশ্যে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।’ উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর বাড়ি একটি বিশিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পূর্বে ময়মনসিংহ শিশু একাডেমি হিসাবে ব্যবহৃত হত। তবে, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে রায়ের পৈতৃক সম্পত্তিটি বছরের পর বছর ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। এটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে একটি নতুন আধা-কংক্রিটের কাঠামো তৈরির জন্য। এই বাড়ি একটি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনও।

ভাঙা হচ্ছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে অবস্থিত সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি। হরিকিশোর রায় রোডে এই পুরনো বাড়িটি বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাদেমির ভবন হিসাবে ব্যবহৃত হত। তা ভেঙে ফেলার খবরে মর্মাহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে’ এই বাড়িটি জড়িত বলে অভিযোগ করে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন তিনি।এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘এই সংবাদ অত্যন্ত দুঃখের। রায় পরিবার বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক। উপেন্দ্রকিশোর বাংলার নবজাগরণের একজন স্তম্ভ। তাই আমি মনে করি, এই বাড়ি বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। খবরে প্রকাশ যে, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদা, স্বয়ং স্বনামধন্য সাহিত্যিক-সম্পাদক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিজড়িত তাঁদের পৈতৃক বাড়িটি নাকি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত। এই সংবাদ অত্যন্ত দুঃখের।’বাংলাদেশের আইনজীবী ছিলেন হরিকিশোর রায়। পরবর্তী কালে তিনি প্রচুর সম্পত্তির মালিক হন। পান রায়চৌধুরী উপাধি। হরিকিশোর প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পালক পিতা। উপন্দ্রেকিশোর এই বাড়িতে দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সেখানে বহুতল বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

বাংলার স্বনামধন্য রায় পরিবারের এই বাড়িটি বাংলাদেশের ঢাকার হরিকিশোর রায় চৌধুরী রোডে অবস্থিত এবং প্রায় এক শতাব্দী পুরনো। হরিকিশোর রায় চৌধুরী নিজে উপেন্দ্র কিশোর, সুকুমার এবং সত্যজিতের পূর্বপুরুষ ছিলেন। শশী লজের ঠিক পিছনে অবস্থিত বাড়িটি, অন্যতম প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কর্তৃপক্ষের বছরের পর বছর অবহেলার কারণে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায় ছিলেন উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর নাতি। ১৯৮৯ সাল থেকে দেড়শোর বেশি বছর পুরনো এই বাড়িটি বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাদেমির ভবন হিসাবে ব্যবহার করা হত। কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে নিরাপত্তার কারণে সেই বাড়িটি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় শিশু অ্যাকাদেমি। সম্প্রতি সেটি ভেঙে বহুতল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তা জানতে পেরেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের শশীলজ জাদুঘরের মাঠ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বাড়িটি ভাঙা সম্পর্কে তথ্য চেয়ে জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা জানতে পেরে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যাতে বাড়িটি রক্ষা করা যায়। বিষয়টিতে ভারত সরকারেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মমতা। তিনি লেখেন, ‘আমি বাংলাদেশ সরকার ও ওই দেশের সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে আবেদন করব, এই ঐতিহ্যশালী বাড়িটিকে রক্ষা করার জন্য। ভারত সরকার বিষয়টিতে নজর দিন।’




