Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এগিয়ে বাংলা! এগিয়ে বাংলার ফুটবল?‌ লজ্জায় মাথা হেঁট!‌ চোট ফুটবলারের!‌ ছাতা দিয়ে পায়ে ব্যান্ডেজ করা হল মোহনবাগান ম্যাচে!

‘ভাগ্যিস বর্ষা ছিল’!‌ বাংলার একজন তরুণ, প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলারের গুরুতর চোটের ক্ষেত্রে ছাতা দিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে পরিচর্যা? কলকাতা লিগের এই চরম অব্যবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা। কলকাতা ফুটবল লিগের ম্যাচের মধ্যেই পায়ে চোট পাওয়ায় জোড়া ছাতা দিয়ে ব্যান্ডেজ করা হল তারক হেমব্রমের। শেষপর্যন্ত তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারকের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামের ঘটনা। বৃষ্টির মধ্যেই মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নামে রেলওয়ে। ম্যাচের ৩৫ মিনিট নাগাদ মার্শাল কিস্কুর ট্যাকলে পায়ে গুরুতর চোট পান রেলওয়ের তারক। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। আর তারপরই বাংলার ফুটবলের ভয়ংকর ছবিটা সামনে চলে আসে। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। তারক যখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, তখন দুটি ছাতা দিয়ে তাঁর পায়ে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়। শুশ্রুষার জন্য এগিয়ে আসেন মোহনবাগানের মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা। তারক যাতে প্রাথমিকভাবে যন্ত্রণা থেকে কিছুটা রেহাই পান, সেজন্য ইঞ্জেকশন দেয় সবুজ-মেরুনের মেডিক্যাল টিম। এতটাই যন্ত্রণা করছিল যে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সেও বেগ পেতে হয়। সেই ঘটনার পরে বাংলার ফুটবলের ভয়ংকর চিত্রটা সামনে চলে এসেছে। ময়দানের ফুটবল ভক্তদের অনেকেই কটাক্ষ করে বলেছেন, তারকের ভাগ্য ভালো যে ভাগ্যিস বর্ষাকাল এখন। নাহলে তো ছাতাটুকুও পাওয়া যেত না। কেউ-কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, এত ঢাকঢোল পিটিয়ে, ম্যাসকট বানিয়ে কলকাতা ফুটবল লিগের উদ্বোধন করে কী লাভটা হল? তার থেকে ওই টাকাটা ফুটবলের ন্যূনতম পরিকাঠামোর দিকে নজর দেওয়া উচিত আইএফএয়ের। বাংলা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইএফএয়ের দাবি, প্রতিটি দলকেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে আবশ্যিকভাবে মেডিক্যাল টিম রাখতে হবে। আজ মোহনবাগানের মেডিক্যাল টিম ছিল। রেলওয়ে এফসির মেডিক্যাল ছিল কিনা, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তারকের চিকিৎসা চলছে এখন। তাঁর যাবতীয় চিকিৎসার সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে আইএফএ সূত্রে খবর। ধুমধাম করে কলকাতা ফুটবল লিগের উদ্বোধন হয়।

কলকাতা লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেল মোহনবাগান। কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনকে হারানোর পর সবুজ-মেরুনের তরুণ ব্রিগেড জিতল রেলওয়ে এফসির বিরুদ্ধে। ২-০ গোলে জেতে মোহনবাগান। গোল করেন সন্দীপ মালিক, শিবম মুন্ডা। তবে এই ম্যাচে নাটক তোলা রইল অন্য জায়গায়। চোখে পড়ল পরিচালনের অব্যবস্থাও। ব্যারাকপুরের স্টেডিয়ামে ৫ মিনিটের মাথায় মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সন্দীপ মালিক। দুরন্ত ভলিতে জালে বল জড়ান সবুজ-মেরুনের অধিনায়ক। একেবারে শেষের দিকে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন শিবম মুন্ডা। ৩৫ মিনিটের মাথায় রেলওয়ে এফসির প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলার তারক হেমব্রমের চোট। মার্শাল কিস্কুর সঙ্গে সংঘর্ষে বাঁপায়ে গুরুতর চোট পান তারক। যন্ত্রণায় রীতিমতো কাতরাতে থাকেন। শুশ্রূষা শুরু করেন মোহনবাগানের চিকিৎসক। তারপর দেখা যায়, যখন তাঁর পায়ে ব্যান্ডেজ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেখানে দুটো ছাতা দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৩ বছর বয়সি ফুটবলার এর আগে ইউনাইটেড এসসি ও নেরোকা এফসি-তে খেলেছেন। কিছুদিন আগে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা দলের হয়েও খেলেছিলেন। জানা যাচ্ছে, আপাতত তারককে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চোট বেশ গুরুতর, তবে এসিএলের চোট নিয়ে সেটা এখনই জানা যাচ্ছে না। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে দুই দলের মধ্যে গন্ডগোল। বল দখলকে কেন্দ্র করে কার্যত হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলাররা। যার পরিপ্রেক্ষিতে রেফারি লাল কার্ড দেখান মোহনবাগানের সালাউদ্দিন ও রেলওয়ের গোলকিপার সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরে লাল কার্ড দেখেন রেলওয়ের সৌমিক কোলে। তবে মোহনবাগান আরও ব্যবধানে জিততে পারত। সহজ সুযোগ নষ্ট করেন শিবম। তিন ম্যাচে মোহনবাগানের পয়েন্ট ৬।

মেয়েদের দল দাপট দেখিয়ে মূলপর্বে। ভারতীয় ফুটবল মেয়েদের দলের অন্যতম মুখ সঙ্গীতা। হোটেলে ফিরে শনিবার রাতেই মা ফুলঝুরি বাসফোরকে ফোন করেছিলেন সঙ্গীতা। অল্প কথায় বলেছিলেন, “মা জিতেছি।” এই রকম ফোন তো হামেশাই আসে। মেয়ে ম্যাচ জিতলেই আসে। কল্যাণীর গান্ধী হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে খেতে বসেছিলেন। খেতে খেতেই কথা বলেন মেয়ের সঙ্গে। তখনও বুঝতে পারেননি তাঁর মেয়ের জোড়া গোলের সুবাদেই দেশের মহিলা ফুটবল টিম টানা চার ম্যাচ জিতে পৌঁছে গিয়েছে এশিয়ান কাপ প্রতিযোগিতার মূলপর্বে। এশীয় স্তরের এই কুলীন ফুটবল প্রতিযোগিতার মূলপর্বে এবার সুনীল ছেত্রীরা আদৌ যেতে পারবেন কি না, তা কোটি টাকার প্রশ্ন। গান্ধী হাসপাতালে সাফাই কর্মী হিসাবে কাজ করেন সঙ্গীতার মা ফুলঝুরি বাসফোর। বাবা কয়েক বছর আগেই প্রয়াত। শনিবার রাতে যখন মেয়ে ইতিহাস তৈরি করছেন, তখন তাঁর মা হাসপাতালে কর্তব্যরত। মেয়ের খেলা দেখেননি। সঙ্গীতাকে নিয়ে প্রশংসার বন্যা। ফুলঝুরি বাসফোর চিন্তা করতেন মেয়ের খেলা নিয়েই, বলেন, “ছোটবেলা থেকেই খেলাধূলাতে আগ্রহ ছিল ওর। কিন্তু যখন বড় হচ্ছিল, তখন আমি চিন্তায় ছিলাম। মেয়ে আবার ফুটবল খেলে নাকি। লোকে কী বলবে। আমার প্রতিবেশীরাই বলেছিল, ও খেলবে। তারপর থেকে ওই চিন্তা চলে গিয়েছে। এখন ভালো লাগছে যে সবাই মেয়ের প্রশংসা করছে।” গান্ধী হাসপাতালের কোয়ার্টারের মাঠেই সঙ্গীতা ফুটবল খেলা শুরু করেছিলেন। কোচ বিজয় বাসফোর বলেন, “আমার দূর সম্পর্কের ভাগ্নি হয়। ওই কোয়ার্টারের মাঠে আমরা ক’জন ক্লাবের ফুটবল প্র্যাকটিস করাচ্ছিলাম। দেখি ছোট্ট সঙ্গীতা বলে লাথি মারছে। বুঝলাম ফুটবল খেলতে পারে। বাড়িতে কথা বলে নিয়ে এলাম। ছেলেদের সঙ্গেই খেলত। মেয়ে বলে আলাদা করে কম অনুশীলন করাইনি। ছেলেরা যা অনুশীলন করত, ও তাই করত। আজ ভালো লাগছে ওর এই কীর্তি দেখে।” সঙ্গীতার প্রতিবেশী শেরা বাসফোর বলছিলেন, “আমাকে ও দাদু বলে ডাকে। আমাদের কোয়ার্টারের সবাই খুশি। শনিবার আমি পুরো খেলা দেখতে পারিনি। ওর গোল হওয়ার আগেই উঠে গিয়েছি। এখন আফশোস হচ্ছে। তবে রিল্পে দেখেছি অনেকবার।” সঙ্গীতা বলেন, “এই অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না। এই সাফল্য পুরো দলের সমবেত প্রচেষ্টার ফল। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন করা। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হবে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন। আমি মাঠে নেমেছি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনের জন্য নয়, বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে। ক্ষীণ একটা সম্ভাবনা। লক্ষ্য, আরও কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।” গান্ধী হাসপাতাল কোয়ার্টার সঙ্গীতার ফেরার অপেক্ষায়। ফিরলেই সংবর্ধনা দেবেন প্রতিবেশীরা।

পিভি বিষ্ণুর সঙ্গে চুক্তিবৃদ্ধি ইস্টবেঙ্গলের। দু’বছর লাল-হলুদ জার্সিতেই কেরলের তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার। ২০২৭-২৮ পর্যন্ত চুক্তি বিষ্ণুর সঙ্গে। গত মরশুমে আইএসএলে চার গোল করে ইস্টবেঙ্গলের যুগ্ম সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ২৩ বছর বয়সি ফুটবলার। ২০২৩-র মাঝামাঝি সময়ে তিন বছরের চুক্তিতে ইস্টবেঙ্গলে আসেন বিষ্ণু। লাল-হলুদ জার্সিতে খেলেছেন মোট ৫৫টি ম্যাচ। তার মধ্যে ২০২৪-২৫ মরশুমে আইএসএলে খেলেছিলেন ২২টি ম্যাচ। ৪টি গোলের পাশাপাশি ৩টি অ্যাসিস্টও আছে। ২০২৪-র ডিসেম্বরে আইএসএলে মাসের সেরা তরুণ ফুটবলার হয়েছিলেন তিনি। আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দ্রুততম গোলও আছে তাঁর নামে। ২০২৩-২৪ মরশুমে ৩৩ সেকেন্ডে ওড়িশার বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন। চুক্তিবৃদ্ধিতে খুশি বিষ্ণু বলেন, “ইস্টবেঙ্গল আমাকে আরও ভালো প্লেয়ার হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে, পাশে ছিল। তার জন্য ম্যানেজমেন্ট ও সমর্থকদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা সব সময় আমার উপর ভরসা রেখেছেন। আমি আজ যে জায়গায়, তা ইস্টবেঙ্গলের জন্যই হয়েছি। ইস্টবেঙ্গলকে সাফল্য এনে দিতে আমি বদ্ধপরিকর।” ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজো বলেন, “বিষ্ণু আমাদের ক্লাবের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। ওর মধ্যে আকাশছোঁয়া সম্ভাবনা আছে, খুব সাহসী, স্কিলফুল ও দলকে জেতাতে পারে। যদি ও পরিশ্রম করতে থাকে এবং এভাবেই উন্নতি করতে থাকে, তাহলে দেশের সেরা উইঙ্গার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles