ঢাকে কাঠি পড়ে গেল ১৩৪তম ডুরান্ড কাপের। শুক্রবার ডুরান্ড ট্রফির ‘ফ্ল্যাগ অফ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মোট ৬টি ভেন্যুতে এবারের ডুরান্ড কাপের ম্যাচ হওয়ার কথা। শেষ তিন সংস্করণেই এক গ্রুপে রাখা হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানকে। তবে এবার তা হবে না বলেই খবর। আসন্ন ডুরান্ডে ভিন্ন গ্রুপে রাখা হতে পারে কলকাতার দুই প্রধানকে। ফলে এবার গ্রুপ পর্বে ডার্বি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একমাত্র নকআউট পর্বেই ডার্বি হতে পারে। কলকাতার তিন প্রধানের পাশাপাশি এবার ডায়মন্ড হারবার এফসি-কেও ডুরান্ডে খেলতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রতিযোগিতার খসড়া সূচি তৈরি। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ২৪টি দলকে ছটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। খসড়া সূচি অনুযায়ী, ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট শুরু হবে ২৩ জুলাই। উদ্বোধনী ম্যাচে সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে নামবে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ হবে যুবভারতীতে। এই গ্রুপে এছাড়াও আছে ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স ও নামধারী এফসি। ওই সূচির হিসেবে মোহনবাগানকে রাখা হয়েছে বি গ্রুপে। মহামেডান ও ডায়মন্ড হারবারও এই গ্রুপে আছে। দুই দলের প্রথম ম্যাচ হতে পারে ২৮ জুলাই। মোহনবাগানের প্রথম ম্যাচ ৩১ জুলাই, সাদা-কালো শিবিরের বিরুদ্ধেই। সূচি অনুযায়ী, ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল ১৬ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট। সেমিফাইনাল ১৮ আগস্ট ও ২০ আগস্ট। ফাইনাল ২৩ আগস্ট, যুবভারতীতে। এবার মোট ৬টি ভেন্যুতে ম্যাচগুলি হবে। কলকাতায় দু’টি (বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এবং কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গন), ইম্ফল (খুমান লম্পক স্টেডিয়াম), রাঁচি (মোরহাবাদি স্টেডিয়াম), জামশেদপুর (জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স), শিলং (জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম), কোকরাঝাড় (সাই স্টেডিয়াম) ম্যাচগুলি হবে। সেনাবাহিনীর তিনটি টিম ছাড়াও বিদেশি দল হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার আর্মিকে রাখা হতে পারে। আইএসএলের মোট ছটি টিম সূচিতে।

মানালো মার্কেজের পর জাতীয় কোচের দায়িত্ব কে নিতে চলেছেন? জাতীয় কোচের শূন্যপদ পূরণের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছে ফেডারেশন। বিজ্ঞাপনের ভিত্তিতে আবেদন করতে চলেছেন সঞ্জয় সেন। এর আগেও জাতীয় কোচ হতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন এই আই লিগ ও সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাঙালি কোচ। সঞ্জয় সেন বলেন, “আমি বিজ্ঞাপনটা দেখেছি। এই বিজ্ঞাপনে জাতীয় কোচ হতে গেলে একজন কোচের যা যোগ্যতা লাগবে তা আমার রয়েছে। তার ভিত্ততেই আমি আবেদন করব আগামী কয়েক দিনের মধ্যে। এর আগেও আবেদন করেছিলাম। তখন সফল হয়নি। এবারও করব। তারপর দেখা যাবে।” মানালো মার্কেজের কোচিংয়ে সাফল্যের মুখ দেখেনি ভারত। তাঁর কোচিংয়ের সময়ই অবসর ভাঙিয়ে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সুনীল ছেত্রীকে। তাতেও লাভ কিছু হয়নি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ড্র এবং হংকংয়ের কাছে হারের জেরে এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে চাপে রয়েছে ভারত। মানালোর সরে যাওয়ার পর সঞ্জয় সেন, খালিদ জামিলের মতো দেশীয় কোচতে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে অনেক আলোচনা। সঞ্জয় সেন আবেদন করলেও সুযোগ পাবেন? সঞ্জয়-খালিদদের মতো ভারতীয় কোচ ছাড়াও জল্পনায় রয়েছে ভ্যান ভুকোমানোভিচ, অ্যাশলে ওয়েস্টউড, পার্ক হ্যাং-সিও, সার্জিও লোবেরার নামও। বিদেশি কোচের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে ফেডারেশনের আর্থিক অসঙ্গতি।
শেষ মানোলো মার্কোজ জমানা। ২ জুলাই কার্যকরী কমিটির বৈঠকে মানোলোর সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত ফেডারেশনের। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফে নতুন কোচ চেয়ে বিজ্ঞপ্তি। এআইএফএফ-এর ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারবেন ইচ্ছুক কোচেরা। কোচের পদের আবেদন করা ব্যক্তিকে এআইএফএফ সেক্রেটারি জেনারেল এবং টেকনিক্যাল কমিটির কাছে রিপোর্ট করতে হবে। দেখা হবে ফুটবলারদের উন্নয়নের ব্যাপারে তাঁর দক্ষতা। ক্রীড়া বিজ্ঞান, প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা চৌকস তাও পরখ করা হবে। এককথায় আধুনিক ফুটবলের খুঁটিনাটি ফুটবলারদের উপর তিনি কীভাবে প্রয়োগ করবেন, দেখা হবে। নানান দিক খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ফেডারেশন। কোচের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেবেন। জাতীয় দলের ডিরেক্টর এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করবেন।মানোলোর আমলে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অবসর ভেঙে সুনীল ছেত্রীর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসা অন্যতম কারণ। এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ড্র এবং হংকংয়ের কাছে পরাজয় তো রয়েইছে। তাঁর অধীনে ভারত ৮টা ম্যাচে জিতেছে মাত্র একটায়। ‘মেন ইন ব্লু’র কোচ হিসেবে যদি কোনও ভারতীয় দায়িত্ব নেন, সেক্ষেত্রে এগিয়ে সঞ্জয় সেন এবং খালিদ জামিলের নাম। জল্পনায় ভ্যান ভুকোমানোভিচ, অ্যাশলে ওয়েস্টউড, পার্ক হ্যাং-সিও, সার্জিও লোবেরার নামও। কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি’র সর্বকালের সেরা কোচ ইভান ভুকোমানোভিচ। যুগোস্লাভিয়ার এই প্রাক্তন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় কেরালা ব্লাস্টার্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার আগে স্ট্যান্ডার্ড লিজ, স্লোভান ব্রাতিস্লাভা এবং অ্যাপোলন লিমাসলের মতো শীর্ষ ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। অ্যাশলে ওয়েস্টউড আফগানিস্তানের হেডকোচ থাকাকালীন ভারতকে হারিয়েছিলেন। এই ম্যাচে পরাস্ত হয়ে ফিফা বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল ব্লু টাইগার্সদের। এরপর তিনি হংকং জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। তাঁর কোচিংয়েই সম্প্রতি হংকংয়ের কাছে পরাজিত হয় ভারত। এর আগে বেঙ্গালুরু এফসির প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বেঙ্গালুরুকে আই লিগও জিতিয়েছেন। জল্পনায় রয়েছে পার্ক হ্যাং-সিও। ভিয়েতনামি ফুটবলে কার্যত ‘বিপ্লব’ ঘটিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রাক্তন ফুটবলার ৫৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভিয়েতনামকে ২০১৮ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা তালিকায় রাখছেন সার্জিও লোবেরার নামও। আইএসএল ইতিহাসে এক মরশুমে আইএসএল শিল্ড এবং আইএসএল ট্রফি জয়ী প্রথম কোচ। ওড়িশা এফসি’র সঙ্গে এখনও একবছরের চুক্তি বাকি রয়েছে এই স্প্যানিশ কোচের। খালিদ জামিলকে চাওয়ার পিছনে যুক্তি হল, আই লিগ থেকে আইএসএল, উভয় ক্ষেত্রেই সফল একটা নাম তিনি। সর্বোচ্চ স্তরে কোচিং করানোর কারণে ভারতীয় ফুটবলকে ভালোমতো চেনেন তিনি। ২০২৩ সাল থেকে তিনি জামশেদপুর এফসি’র দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর কোচিংয়ে আইএসএলে জামশেদপুর যথেষ্ট সফল একটা দল। আলোচনায় রয়েছেন ৬ বছরের অপেক্ষা শেষে বাংলাকে সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন করানো কোচ সঞ্জয় সেনও। তাঁর আমলে মোহনবাগান একবার ফেডারেশন কাপও জেতে। এআইএফএফ এলিট কোচিং কোর্স সম্পূর্ণ করেছেন মোহনবাগানকে আই লিগ জেতানো কোচ। কাজ করেছেন মোহনবাগানের যুব উন্নয়ন পরিচালক হিসেবেও। মোহনবাগান ছাড়াও মহামেডান স্পোর্টিংকেও ফেডারেশন কাপ জয়ের স্বাদ দিয়েছেন। দিয়েছেন আইএফএ শিল্ডও। আইএসএলে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ভারতীয় ফুটবলে সঞ্জয় সেনের অবদান কম নয়। নতুন কোচ সঞ্জয় সেন?




